২৪ জুলাই, ২০১৯ | ৯ শ্রাবণ, ১৪২৬ | ২০ জিলক্বদ, ১৪৪০


গোমাতলীতে দু’শত ফুট বেঁড়িবাধ সংস্কার হচ্ছে না

দেড় হাজার চাষীদের মাথায় হাত ১২শত একর লবন চাষ অনিচ্ছিত

শাহিদ মোস্তফা শাহিদ
lobonদেশে গেল বছর লবণের ন্যায্য মূল্য চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল হলেও এবছর পুরোদমে মাঠে নামছে লবণ চাষিরা। কক্সবাজার সদর উপজেলার ইসলামপুর, পোকখালী ,চৌফলদন্ডীর,ভারুয়াখালীর প্রান্তিক এই চাষীদের মুখে এখন আশার আলো জাগলেও জ্বলছে নিভু নিভু। কারণ জানতে গিয়ে দেখা গেছে, গোমাতলীর দু’ শত ফুট বেঁড়িবাধ সংস্কার না হওয়ায় এ পেশায় জড়িত প্রায় দেড় হাজার লবণ চাষীর পরিবারকে মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে বলে অভিযোগে প্রকাশ। লবণের দাম স্বাভাবিক থাকলেও ১২ শত একর মাঠ খালি থাকছে বলে স্থানীয় লবণ চাষীদের অভিমত। অনেক দিনের পুরনো পেশা হিসেবে ছেড়েও দিতে পারছে না লবণ চাষ। পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন গুলোতে এখন পুরোদমে শুরু হয়েছে লবণ উৎপাদনের মহাযজ্ঞ। কিন্ত সরকারের দিকে চেয়ে থাকছে অপরাপর চাষীরা।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, পোকখালী ইউনিয়নের পশ্চিম গোমাতলী এলাকায় অবস্থিত এ ব্লক, বি ব্লক, সি ব্লক, ডি ব্লক, রিআইজ্জ্যা কাটা, কোম্পানী ঘোনা, ছোট রিআইজ্জ্যা কাটা, ৪৪ একর ঘোনা, শিআইক্ক্যা ঘোনা সহ আরো বেশ কয়েকটিঘোনার লবন মাঠে এখনো কোন চাষা মাঠে নামেননি। নভেম্বর মাসের দিকেই লবণ উৎপাদন শুরুর লক্ষ্য নিয়ে পার্শ্ববর্তী মাঠ পরিচর্যা করেছে স্থানীয় কৃষকরা। গোামাতলী চর পাড়া এলাকার কৃষক ছাবের আহম্মদ, মোঃ হোছেন , রাজঘাট এলাকার কালা মিয়া জানান, গত ১৫-১৬ অর্থ বছরের লবন মৌসুমে উৎপাদিত লবনের দাম ছিল ,আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় চাষীরা খুবই লাভবান হয়েছিল। বর্তমান মহাজোট সরকার প্রান্তিক লবণের মূল্য নির্ধারণ ও বিদেশ থেকে আমদানী বন্ধ করে দেওয়ায় গোমাতলীর লবণ চাষিরা লাভবান হয়েছিল। রাজঘাট এলাকার ব্যবসায়ী জামাল উদ্দীন জানান, গত রোয়ানুর তান্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে যাওয়া বেঁড়িবাধটি দীর্ঘদিন মেরামত না করায় এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে । কক্সবাজর সদর উপজেলা লবন চাষি সমিতির সভাপতি হান্নান মিয়া জানান, পাউবোর কাছে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকা এবং তাদের অসহযোগিতার কারণে এতদিন সময় হয়েছে। তবে ওই সময়ে সংস্কারের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছিল বলে দাবী করেন তিনি। ভাঙ্গনটি সংস্কার হলে স্থানীয় লবণ চাষীরা পুরোদমে মাঠে নামবেন বলে জানায় পাউবো’র এই কর্মকর্তা। পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা আন্তরিক হলে এ এলাকার প্রায় ১৪/১৫ শত লবণ চাষি মাঠে নামতে পারবে বলে মত প্রকাশ করেন তিনি। এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী শফিউর রহমানের সাথে সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করার কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।