২৩ নভেম্বর, ২০১৭ | ৯ অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ | ৪ রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯


বিবিএন শিরোনাম
  ●  আত্মপক্ষ সমর্থনে অসমাপ্ত বক্তব্য দিচ্ছেন খালেদা   ●  কক্সবাজারে ১০ অস্ত্রসহ ১১ মামলার আসামি গ্রেফতার   ●  ২০২১ সালের মধ্যে ঘরে ঘরে আলো জ্বলবে: প্রধানমন্ত্রী   ●  ৩১ জেলায় স্মার্ট কার্ড বিতরণ শুরু ১ ডিসেম্বর   ●  নেইপিডোয় দিনভর বৈঠক রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আজ চুক্তি সই   ●  কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হবে: প্রধানমন্ত্রী   ●  হাটহাজারীতে নিখোঁজ মাদ্রাসা ছাত্রীর লাশ উদ্ধার   ●  কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ১৬ টি ভবনের নকশা অনুমোদন   ●  বিয়ের ৬ মাস পর গৃহবধূর মৃতদেহ উদ্ধার পেকুয়ায়   ●  মানব পাচারকারীদের চিহ্নিত করে খবর দেন-সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা

‘পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিশেষ অঞ্চল বলার কোনো সুযোগ নেই’

বিবিএন ডেস্ক :

বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, সঠিকভাবে ভূমি কমিশন বাস্তিবায়িত হলে পাহাড়ীরা লাভবান হবে তবে এর জন্য বাঙালীদের বঞ্চিত করার প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশ হচ্ছে এক কেন্দ্রীক রাষ্ট্র। তাই পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিশেষ অঞ্চল বলার কোনো সুযোগ নেই। আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত ‘সংবিধানের আলোকে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন।

বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরী আরো বলেন, বাংলাদেশে কোনো আদিবাসী নেই। তাই পার্বত্য এলাকায় আদিবাসী সংক্রান্ত কোনো সমস্যাও নেই। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের পুনর্বাসিত পাহাড়িদের ভূমি সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন গঠন করা হয়েছে। এর বাইরে এ কমিশন আর কোনো কাজ করতে পারে না। পার্বত্য চট্টগ্রামে যেসব বাঙালী আছেন তারা সেখানে বাংলাদেশী হিসেবে বসবাস করছেন। তাই তাদেরকে সেখান থেকে সরানোর কোনো সুযোগ সংবিধানে নেই। আমাদের সব সমাধান সংবিধানের ভেতরেই অনুসন্ধান করতে হবে।

বেসরকারি সংস্থা সিএইচটি রিসার্চ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তারেক শামসুর রেহমান, ব্যারিস্টার সরোয়ার হোসেন। আলোচনায় মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক।

সিএইচটি রিসার্চ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সাংবাদিক মেহেদী হাসান পলাশের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক সৈয়দ ইবনে রহমত। সভায় আরো বক্তব্য দেন পার্বত্য নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আলকাছ আল মামুন, সম-অধিকার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা জাহাঙ্গীর কামাল ও বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির সহসভাপতি শহিদুর রহমান তামান্না।

আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন সিএইচটি রিসার্চ ফাউন্ডেশনের কোঅর্ডিনেটর আফরিনা হক। সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু বলেন, সন্তু লারমা পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন চান না। তিনি যা বলেন তা বিশ্বাস করেন না। আর যা বিশ্বাস করেন তা বলেন না।

পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরের সময় সন্তু লারমা উপজাতী হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সন্তু লারমা এখন আদিবাসী স্বীকৃতি দাবি করে নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন। পার্বত্য চট্টগ্রামে অবৈধ অস্ত্রের মাধ্যমে উপজাতীয়দের একটি অংশ সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রখেছে। সেখানে উপজাতীয়রাও তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ।

মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ ইব্রাহীম বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে যে সমস্যা বিরাজ করছে তা কোনো দলের বা পক্ষের নয়। এটি একটি জাতীয় সমস্যা। ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চুক্তির সময় উপজাতীয়দের একটি গোষ্ঠি খুব চালাকি করে পার্বত্য ভূমি কমিশন গঠনের দাবি তোলে। এ কমিশনের মাধ্যমে তারা পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালীদের ভূমির অধিকার হারা করতে চায়। যা পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্রের অংশ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, সংশোধিত পার্বত্য ভূমি কমিশন আইনের সংশোধনীতে কমিশনের চেয়ারম্যানের ক্ষমতাকে খর্ব করা হয়েছে। এছাড়া কমিশনের অধিকাংশ সদস্য উপজাতীয় হওয়ায় এ কমিশন চাইলেও নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত দিতে পারবে না। কোনো উপজাতীয় সদস্য আন্তরিক হয়ে নিরোপেক্ষ ভূমিকা পালন করলে তাকে হত্যা করে পাহাড়ী সন্ত্রাসীরা লাশ ঝুলিয়ে রাখবে দৃষ্টান্ত হিসেবে।

তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্রের স্বার্থে সমতলের বাঙ্গালীরা পার্বত্য চট্টগ্রামে গেছেন। তাই রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের স্বার্থে সেখানে বাঙালীদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। ড. তারেক শামসুর রহমান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মূল সমস্যা হচ্ছে- সন্তু লারমা চান না বাঙালীরা সেখানে বসবাস করুক।

সন্তু লারমার জাতীয় পরিচয়পত্র নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, সন্তু লারমা দেশের আনুগত্য স্বীকার করেন না, স্বাধীনতার সময় তার কী ভূমিকা ছিলো তা জাতি জানে না। তিনি কিভাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে বাঙালীদের সরিয়ে নেয়ার দাবি তোলেন?

সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সারোয়ার হোসেন বলেন, আজকে যদি কোনো জাতীয় দূর্যোগ হয় তাহলে বিপুল সংখ্যক লোককে কোথায় সরানো হবে? কাজেই দেশের এক দশমাংশ ভূখণ্ড কোনো গোষ্ঠীর জন্য নির্দিষ্ট করে দেয়া ঠিক হবে না। বরং পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও নিরাপত্তার স্বার্থে সেখানে আরো বেশি করে বাঙালী পাঠানো প্রয়োজন। মেহেদী হাসান পলাশ বলেন, ভূমি কমিশনের নতুন সংশোধনী নিয়ে বিতর্ক ও আন্দোলন হচ্ছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে সিএইচটি রিসার্চ ফাউন্ডেশন এই সেমিনারের আয়োজন করেছে। আশা করছি এই সেমিনারের মাধ্যমে উপস্থাপিত তথ্য, উপাত্ত ও বিশ্লেষণ সরকার বিবেচনা করে সব পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাতে উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।