২০ মের মধ্যে সেন্টমার্টিনের ৩৮ হোটেল ভাঙার নির্দেশ

ডেস্ক নিউজ#
সেন্টমার্টিনে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ৩৮টি আবাসিক হোটল ভাঙার নির্দেশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। আগামী ২০ মের মধ্যে হোটেল মালিক পক্ষকে নিজ দায়িত্বে হোটেল ভেঙে তা সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে।পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সরদার শরীফুল ইসলাম সমকালকে বলেন, সেন্টমার্টিনে অবৈধভাবে গড়ে উঠা কটেজসহ ১০৪টি আবাসিক হোটেলের তালিকা করা হয়েছে। এর মধ্যে তিন তলা, দোতলা ও এক তলার ৩৮টি আবাসিক হোটল ভাঙার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।গত ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে সেন্টমার্টিন নিয়ে সমকালে চার পর্বের সরেজমিন প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এসব প্রতিবেদন প্রকাশের পর বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারতি আশীষ রঞ্জন দাসের হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ২১ মার্চ ৪ সচিবসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে রুল রুল জারি করেন। রুলে তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। বেলা আবেদনের সঙ্গে  ‘দালানকোঠার ভারে বিপন্ন প্রবালদ্বীপ’  শিরোনামে সমকালে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি জমা দেয়।সমকালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সেন্টমার্টিনে ১০৬টি হোটেল-মোটেলসহ নানা স্থাপনা গড়ে উঠেছে। পাশাপাশি অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন সেন্টমার্টিন দ্বীপের সৌন্দর্য, পরিবেশ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।সমকালে ধারবাহিক চারটি প্রতিবেদক প্রকাশের পর সেন্টমার্টিনের পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষার উদ্যোগ নেয় সরকার। সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে তদন্ত কমিটি গঠনসহ নানা সুপারিশ করা হয়। টেকনাফ-সেন্টমার্টিন রুটে ঝুঁকিপূর্ণ নৌপথের বিষয়টি তদন্তে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের কমিটি গঠন, নৌপথে অত্যাধুনিক বাতি বয়া বসানোর উদ্যোগ ও অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া সেন্টমার্টিনে তিন বছরের জন্য সাময়িকভাবে পর্যটন বন্ধ করে দ্বীপটি পুনর্গঠনের সুপারিশ করে পরিবেশ অধিদপ্তর।পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, সেন্টমার্টিনে পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া গড়ে ওঠা ১০৪টি আবাসিক হোটেল চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে গত বুধবার তিন তলা ও দোতলাসহ ৩৮টি আবাসিক হোটেল ভেঙে তা সরিয়ে নিতে মালিক পক্ষকে লিখিতভাবে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে আগামী ২০ মে এর মধ্যে নিজ দায়িত্বে এসব হোটল সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। যদি হোটেল মালিক পক্ষ নির্ধারিত তারিখের মধ্যে হোটেল ভেঙে সরিয়ে নিতে ব্যর্থ হয় তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসব হোটেল প্রশাসন ভেঙে দেবে।  হোটেলগুলোর মধ্যে রয়েছে- ব্রু মেরিন, ফ্যান্টাসি, অবকাশ পর্যটন লিমিটেড, লাবিবা বিলাস, সেন্ডশোর, প্রসাদ প্যারাডাইস, প্রিন্স হেভেন, সপ্ন বিলাস, সেভেন স্টার, ব্লু-সি ইস্টান রির্সোট, সী ইন, ডাক বাংলা, ঔশান ব্লু, সি ভিউ, সী প্রবাল, সি টি বি ও এস কে ডিস। হোটেল ব্লু মেরিনের পরিচালক মনসুর আহমেদ বলেন, ‘পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি নোটিশের কথা শুনেছি। তবে এ বিষয়ে হোটেলের ঢাকা অফিসের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।’

এ ব্যাপারে হোটেল সী ইন এর মালিক রেজাউর রহমান সপন বলেন, ‘হোটেল ভাঙার নোটিশের কথা শুনেছি। অন্যান্য হোটেল কর্তৃপক্ষ যদি তাদের হোটেল ভেঙে ফেলে আমার হোটেলও ভেঙ্গে সরিয়ে নেব।’কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সরদার শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘পরিবেশের জনবল খুবই কম, তাই আমরা সেন্টমার্টিনে বেশি সময় দিতে পারেনি। এখন সেন্টমার্টিন নিয়ে সরকার নানা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। যা অতি দ্রুত বাস্তবায়ন হবে।’তিনি আরও বলেন, ‘যেসব হোটেল কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিজ দায়িত্বে হোটেল ভেঙে সরিয়ে নিতে ব্যর্থ হবে তাদের বিরুদ্ধে পরিবেশ আইনে মামলা করে হোটল ভেঙে দেওয়া হবে।’  এ প্রসঙ্গে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তুষার আহমদ বলেন, ‘পরিবেশের অধিদপ্তরের একটি চিঠি পেয়েছি। তারা ৩৮টি হোটেল ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে পরিবেশ অধিদপ্তরকে সঙ্গে নিয়ে এসব হোটেল ভেঙে দেওয়া হবে।’পরিবেশ অধিদপ্তরের এমন উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করে কক্সবাজারের পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোসাইটির (ইয়েস) প্রধান নির্বাহী এম ইব্রাহিম খলিল মামুন বলেন, ‘সেন্টমার্টিন নিয়ে সমকালে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো ব্যাপক প্রভাব পড়ে। প্রতিবেদন প্রকাশের পর সরকার সেন্টমার্টিন রক্ষায় নানা উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে সেন্টমার্টিনে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ৩৮টি আবাসিক হোটেল ভাঙার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ নির্দেশ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি। এ বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি জরুরি।’-সূত্র সমকাল

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।