১৭ অক্টোবর, ২০১৭ | ২ কার্তিক, ১৪২৪ | ২৬ মুহাররম, ১৪৩৯


রমজানে মাগফিরাত লাভের উপায়

ডেস্ক নিউজ#

মহান আল্লাহতায়ালার বিশেষ কৃপায় পবিত্র মাহে রমজানের দ্বিতীয় দশক আমরা অতিবাহিত করছি। রমজানের দিনরাত ইবাদত-বন্দেগিতে রত থাকার কারণে ধর্মীয় শিক্ষা ও আদর্শের অনুশীলন ও চর্চা এ মাসে পবিত্র এক আবহ সৃষ্টি করে মানবীয় প্রকৃতির ওপর এক পরিশুদ্ধ প্রভাবের বিস্তার ঘটায়। সদাচারের পরিচর্যা আর কদাচার পরিহারের মাধ্যমে এ মাস ব্যক্তিমানস ও সমাজ জীবনকে পরিশীলিত করে অপরূপ এক অবয়ব দান করে। ফলে ব্যক্তি ও সমাজ জীবন জ্যোতির্ময় হয়ে ওঠে। অভিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, রোজা সম্পর্কিত নির্দেশমালা সর্বপ্রথম যখন অবতীর্ণ হয়, তখন ছিল গ্রীষ্মকাল আর তাপমাত্রাও ছিল অত্যধিক। তবে তাৎপর্যের দিক থেকে রমজানের মর্যাদা এ থেকে আরও বহু বহু গুণ ব্যাপ্ত। হাদিসে বর্ণিত রয়েছে- এ মাসের নাম রমজান এ জন্য রাখা হয়েছে, কারণ এতে গুনাহ জ্বলে-পুড়ে নিঃশেষ হয়ে যায় (জামে সগির)। পবিত্র কোরআনে চান্দ্র মাস রমজানে সুবেহ সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা রাখার বিধান দেওয়া হয়েছে। রোজা এমন একটি সাধনা, যা মানুষের আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি করে এবং একজন ইবাদতকারীর জন্য আধ্যাত্মিক উচ্চমার্গের সোপানগুলো অতিক্রম করা সহজসাধ্য করে। রোজাদার ব্যক্তি আল্লাহর ঐশী অনুগ্রহরাজি সম্পর্কে অবহিত হয় এবং সেগুলোকে যথাযথভাবে প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে রোজা তাকে সাহায্য করে। পবিত্র ধর্ম ইসলাম ছাড়া অন্যান্য ধর্মেও রোজা রাখা বা উপবাস থাকার রীতি ইতিহাস থেকে জানা যায়। কিন্তু সেসব ধর্মে উপবাস থাকার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, ইসলামী রোজার মতো পরিপূর্ণ নয়। কেননা, ইসলামের প্রত্যেকটি বিষয় এক মহান উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে সম্পাদন করা হয়, যা মানবজীবনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। আর এগুলো অবলম্বনের মাধ্যমে বান্দার সম্পর্ক আল্লাহর সঙ্গে সুদৃঢ়তর হয়। নামাজ, কোরবানি, হজ, জাকাত প্রত্যেকটি পালনের মাধ্যমে বান্দার জন্য আধ্যাত্মিক, জাগতিক, পারলৌকিক অশেষ কল্যাণরাজি যেভাবে নিহত রয়েছে, তেমনিভাবে আল্লাহ কর্তৃক যে রোজা আমাদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে তারও কতগুলো মহান উদ্দেশ্য আছে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘রমজান মাসে শয়তানকে শিকল পরানো হয়, আর বান্দার জন্য জান্নাতের সব দরজা খুলে দেওয়া হয়।’ প্রকৃত বিষয় হলো, সার্বিকভাবে রমজান মাসে পরিবারে, সমাজে, মুসলিম রাষ্ট্রে এমন একটি আধ্যাত্মিক পরিবেশ তৈরি হয়, যার ফলে যে কোনো মুসলমানের পক্ষে পুণ্যকর্ম করা সহজতর হয়ে যায়। আল্লাহর অপার কৃপা যে, তিনি দয়াপরবশত পবিত্র রমজান আমাদের জন্য রেখেছেন। এর মাধ্যমে প্রত্যেক মুসলমানকে এই সুযোগ দেওয়া হয় যে, সে যেন আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক সুদৃঢ় করে, পাপ থেকে মুক্তি লাভ করে আর পুণ্যের পানে এগিয়ে যায়।
ইতিমধ্যে প্রায় অর্ধেক রোজা আমাদের মধ্য থেকে অতিবাহিত হয়েও গেছে। এখনও যদি আমাদের মাঝে ইবাদতের ক্ষেত্রে কোনো দুর্বলতা থেকে থাকে, তাহলে উচিত হবে রমজানের বাকি দিনগুলো ইবাদতের মাধ্যমে সাজানো। এ ছাড়া রমজানের শেষ দিকেই আসে সৌভাগ্য রজনী। তাই পূর্বে যা করেছি তা ভুলে গিয়ে রমজানের অবশিষ্ট রাতগুলোকে ইবাদতের মাধ্যমে জাগ্রত করতে হবে আর এর ফলে হয়তো আমরা খোদার নৈকট্যও লাভ করতে পারব। আসলে সেই রোজাই প্রকৃত রোজা, যা কেবল আল্লাহর ভালোবাসা ও তার সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে করা হয়। হাদিসে কুদসিতে বর্ণিত হয়েছে- মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘সম্মান ও মর্যাদার প্রভু আল্লাহ বলেন, মানুষের সব কাজ তার নিজের জন্য। কিন্তু রোজা একান্তই আমার জন্য এবং আমি তার জন্য তাকে পুরস্কৃত করব। একজন রোজাদার দুটি আনন্দ লাভ করে। সে আনন্দিত হয় যখন সে রোজা ভাঙে এবং রোজার কল্যাণে সে আনন্দিত হয়, যখন সে তার প্রভুর সঙ্গে মিলিত হয়’ (বোখারি ও মুসলিম)। হজরত আবু মাসুদ গাফফারি (রা.) বর্ণনা করেছেন, আমি একদিন মহানবীকে (সা.) বলতে শুনেছি, ‘যদি মানুষ রমজানের মর্যাদা, ফজিলত সম্পর্কে জানত তাহলে আমার উম্মতের সবাই আকাঙ্ক্ষা করত যে, সারা বছরটাই যেন রমজান হয়ে থাকে। এ কথা শুনে বনি খুজাআ গোত্রের এক ব্যক্তি বললেন, হে আল্লাহর নবী, আপনি রমজানের ফজিলত সম্পর্কে বলুন। তখন মহানবী (সা.) বললেন, নিশ্চয় জান্নাতকে বছরের আরম্ভ থেকে শেষ পর্যন্ত রমজানের জন্য প্রস্তুত করা হয়। রমজানের প্রথম দিন আরম্ভ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহর আরশের নিচে বায়ুপ্রবাহ শুরু হয়ে যায়।
হাদিসে আরও বর্ণিত আছে-হজরত ওমর (রা.) রেওয়ায়াত করেন, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘রমজান মাসে আল্লাহর জিকর যারা করেন, তারা ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়। এ মাসে আল্লাহর কাছে চেয়ে কেউ বঞ্চিত থাকে না। মহানবী (সা.) এটিও বলেছেন, ‘রোজাদার ব্যক্তি ইফতারি করার সময় যা দোয়া করে তা কখনোই নামঞ্জুর হয় না।’ মহান আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে রমজানের অবশিষ্ট দিনগুলোতে বেশি বেশি তার ইবাদতে রত থেকে কাটানোর তৌফিক দান করুন।

– See more at: http://bangla.samakal.net/2017/06/09/299307#sthash.KnhoW1dp.dpuf

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।