১৭ অক্টোবর, ২০১৭ | ২ কার্তিক, ১৪২৪ | ২৬ মুহাররম, ১৪৩৯


বিএনপিকে আগামী নির্বাচনে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বিবিএন#

বিএনপি চেয়ারপরসন খালেদা জিয়াকে ‘সঠিক ও সুস্থ রাজনীতির পথ’ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে ‘না আসার ভুল’ থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী নির্বাচনে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “আমি বলব, সুস্থ রাজনীতির পথে আসুক। ২০১৪ এর নির্বাচনে না গিয়ে যে ভুল করেছে ভবিষ্যতে যেন আর সেই ভুল না করে। বরং নির্বাচনে আসুক। গণতান্ত্রিক ধারাটা যেন অব্যাহত থাকে। এই খুন খারাবির পথ যেন তারা পরিহার করে- সেটাই আমরা চাই।” বৃহস্পতিবার সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমের সিটি কনফারেন্স সেন্টারে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক সংবর্ধনা সভায় এ আহ্বান জানান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রবাসীরা এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সফর শেষে আজ শুক্রবার ঢাকার পথে স্টকহোম ছাড়বেন প্রধানমন্ত্রী। লন্ডন হয়ে শনিবার তার দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের লক্ষ্য দেশকে উন্নত করা আর বিএনপির উদ্দেশ্য দেশকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাওয়া। খালেদা জিয়ার হৃদয়ে বাংলাদেশ নাই। তার হৃদয়ে পেয়ারে পাকিস্তান। বাংলাদেশের কোনো উন্নয়ন হলে উনার ভাল লাগে না। উনি খালি দেখেন ধ্বংসই হয়ে যাচ্ছে। আজকেও এ ধরনের কি এক বক্তৃতা দিয়েছেন। বাংলাদেশের নাকি খুব খারাপ অবস্থা।” বিএনপি চেয়ারপাসন খালেদার বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতি মামলার প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, “দুর্নীতি করে এতিমের টাকা যারা চুরি করে খেয়েছে। আর মামলা মোকাবিলা করতে ভয় পায়। ১৪০ বার সময় নিয়ে ১৫০ বার উচ্চ আদালতে রিট করে হেরে যায়। দুঃসময়টা তাদের। বাংলাদেশের না।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের জনগণ যখন ভালো থাকে তখন উনার ভালো মনে হয় না। লুটপাট করতে পারলেই তার ভালো লাগবে। মানুষ খুন করতে পারলেই তাদের ভালো লাগবে। দেশের সম্পদ ধ্বংস করতে পারলে তখন তার ভালো লাগে।” বিএনপি চেয়ারপারসনের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমি বলব, এইসব পথ ছেড়ে দিয়ে সঠিক, সুস্থ রাজনীতির পথে আসুক। ২০১৪ এর নির্বাচনে না গিয়ে যে ভুল করেছে ভবিষ্যতে যেন আর সেই ভুল না করে। বরং নির্বাচনে আসুক। গণতান্ত্রিক ধারাটা যেন অব্যাহত থাকে, এই খুন খারাবির পথ যেন তারা পরিহার করে- সেটাই আমরা চাই।” প্রবাসীদের এই সংবর্ধনায় নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসেরও সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। বয়সসীমা অতিক্রান্ত হওয়ার কারণ দেখিয়ে ২০১১ সালে ইউনূসকে যখন গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে সরানো হয়, তখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের তখনকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনকে দিয়ে ‘ফোন করিয়েছিলেন’ বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে তিনবার যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টে ডেকে নিয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, “আমার একটা প্রশ্ন ছিল, একজন নোবেল লরিয়েট হয়ে গেছেন তিনি (ইউনূস)। একটা এমডি পদের জন্য লালায়িত কেন? আসল মাজেজাটা এখন ধীরে ধীরে বের হচ্ছে। কত টাকা তিনি ট্যাক্স ফাঁকি দিয়েছেন? বিদেশে তার ইনভেস্টমেন্ট করা, বিদেশে তার টাকা দেওয়া। ক্লিনটন ফাউন্ডেশনে টাকা দেওয়া, কোথা থেকে কীভাবে ওই টাকাগুলো তিনি দিলেন? এগুলো এখন প্রশ্ন এসেছে।” দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধ করার পেছনেও যে ‘তাদের হাত আছে’- সে বিষয়ে ‘কোনো সন্দেহ নেই’ বলে জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “দেশের সেবা করতে এসেছি, তাদের মত গরীবের টাকা বা গরীবের রক্ত চুষে খেতে আমরা আসিনি।” সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষকে নিয়ে কমিটি করে দেওয়া এবং ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জনমত গড়ার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের উন্নয়নের চিত্র বিদেশি জনপ্রতিনিধিদের সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি ‘বিএনপি যে একটি জঙ্গি-সন্ত্রাসী সংগঠন’- এ কথাগুলোও তাদের জানাতে প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানান বাংলাদেশের সরকারপ্রধান। সেইসঙ্গে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস-জঙ্গিবিরোধী অবস্থান এবং বিএনপি-জামায়াতের ‘মানুষ পুড়িয়ে হত্যার’ ঘটনাও জানাতে বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, তিনি নিজে ও ছোট বোন শেখ রেহানা তাদের সন্তানদের ‘শিক্ষিত করে মানুষের জন্য কাজ করার উপযুক্ত করে’ গড়ে তুলতে চেষ্টা করেছেন। “মানুষের জন্য কাজ করার যে শিক্ষাটা আমরা পেয়েছি এবং ছেলেমেয়েদের দিতে পেরেছি, সেটাইতো বড় কথা। তারা দেশের জন্যই কিন্তু কাজ করে। আমি আজ পর্যন্ত দেখি নাই যে তারা এসে এই ব্যবসা দাও, ওই ব্যবসা দাও বা হাওয়া ভবন খুলে পাওয়া খুঁজে বেড়ানো… অন্তত ওই পর্যায়ে যায় নাই।” তিন দিনের সরকারি সফরে মঙ্গলবার রাতে লন্ডন হয়ে স্টকহোমে আসেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের কোনো প্রধানমন্ত্রীর সুইডেনে এটাই প্রথম সরকারি সফর। বৃহস্পতিবার সকালে সুইডিশ পার্লামেন্ট ঘুরে দেখেন শেখ হাসিনা। এরপর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় সুইডেনের রাজপ্রাসাদে। সেখানে রাজা কার্ল ষষ্ঠদশ গুস্তাভের সঙ্গে তিনি সৌজন্য সাক্ষাত করেন। এরপর সুইডেনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়। সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী জানান, সুইডেনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার ‘ফলপ্রসূ’ এবং রাজার সঙ্গে ‘চমৎকার’ আলোচনা হয়েছে। ছোট বোন শেখ রেহানাও সুইডেন সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।