১৭ অক্টোবর, ২০১৭ | ২ কার্তিক, ১৪২৪ | ২৬ মুহাররম, ১৪৩৯


সম্পর্কোন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করবে ঢাকা-স্টকহোম

বিবিএন#

ঢাকা ও স্টকহোম অর্থনৈতিক সহযোগিতার খাতসমূহে সম্পর্কোন্নয়ন এবং দ্বিপক্ষীয় সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই) আরও উৎসাহিত করার ব্যাপারে একসঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়েছে। দুই দেশের নেতৃবৃন্দ অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগের লক্ষ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সদিচ্ছা প্রকাশ করেছেন। বৃহস্পতিবার এখানে দুদেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে এক যৌথ বিবৃতিতে একথা বলা হয়। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, দুই প্রধানমন্ত্রী উভয় দেশের সম্পর্ক উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যেতে একসঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়েছেন। তারা গত বছরের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সুইডেন সফরকালে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে এমওইউ স্বাক্ষরে সন্তোষ প্রকাশ করেন। উভয় প্রধানমন্ত্রী উৎপাদনশীলতা ও প্রবৃদ্ধি অর্জনে বৈশ্বিক চুক্তির অবকাঠামোর আওতায় সহযোগিতা করতে অঙ্গীকার করেন। সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘রেডিমেট গার্মেন্ট ট্রিপাটি কনসালটেটিভ কাউন্সিল’র প্রতি সমর্থন ঘোষণাকে স্বাগত জানান। বাংলাদেশের নাগরিকদের প্রশিক্ষণ ও বৃত্তি প্রদানে সুইডেন সরকারের চলমান কর্মসূচীর প্রতি স্বাগত জানিয়েছে ঢাকা। উভয় দেশের মধ্যে সহযোগিতার আরও ক্ষেত্র উন্মোচনে বাংলাদেশ ও সুইডেন সরকার শিক্ষা ও গবেষণায় উৎসাহ প্রদানে একমত হয়েছে। দুই প্রধানমন্ত্রী এসডিজিসহ ‘২০৩০ এজেন্ডা ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট’ বাস্তবায়নে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, সুইডেন ও বাংলাদেশ মানবাধিকার আইন এবং নিরাপত্তা পরিষদসহ একটি শক্তিশালী জাতিসংঘ ব্যবস্থা, বহুমুখী সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি দৃঢ় সমর্থন ঘোষণা করছে। তারা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা অভিযান ও শান্তি প্রতিষ্ঠা কর্মকা- এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতি অবদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা স্বীকার করেন। উভয় প্রধানমন্ত্রী দুই দেশে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সন্ত্রাসী কর্মকা-ের তীব্র নিন্দা করেন। তারা সন্ত্রাসে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন। তারা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়েরও অঙ্গীকার করেন। তারা সুইডেন ও বাংলাদেশের মধ্যে অভিবাসন এবং উন্নয়ন খাতে উদীয়মান ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্বকে স্বাগত জানান। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার বাংলাদেশ এবং সুইডেন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই এবং সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র হিসেবে জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, ব্যবসা এবং নগর উন্নয়নে একযোগে কাজ করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সুইডিশ প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন লোফভেনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে দুইদেশের মধ্যে এই মতৈক্য হয়।

সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন লোফভেনের কার্যালয়ে এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

শহীদুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই দ্বিপাক্ষিক সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একযোগে কাজ করার বিষয়ে অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়েছেন।

তিনি বলেন, দুই নেতা বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলাপ-অলোচনা করেন এবং দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, ব্যবসা এবং নগর উন্নয়ন খাতকে চিহ্নিত করেন। তিনি সুইডেনের প্রধানমন্ত্রীকে উদ্বৃত করে বলেন, সুইডিশ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘এই সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্কের দুুয়ারও উন্মোচিত হয়েছে।’ এই প্রসঙ্গে সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন লোফভেন শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা করেন কিভাবে এই স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সহযোগিতা করতে পারে। সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের বিষয়ে সহযোগিতা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং এক্ষেত্রে তাদের বেসরকারী খাতের ভূমিকাও তিনি তুলে ধরেন। সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক্ষেত্রে এ দুটি দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্তদিন অতিবাহিত

সুইডেনে তিন দিনের দ্বিপক্ষীয় সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্টকহোমে বৃহস্পতিবার ব্যস্তদিন অতিবাহিত করেছেন। তিনি সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন লোফভেনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনাসহ বেশ কয়েকটি কর্মসূচীতে যোগ দেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানান, বিকেলে শেখ হাসিনা স্টকহোমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্টিফেন লোফভেনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় মিলিত হন। শেখ হাসিনা পরে তাঁর সম্মানে আয়োজিত সুইডেনের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যাহ্ন ভোজে অংশ নেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রয়্যাল ক্যাসল-এ সুইডেনের রাজা ষোড়শ কার্লের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। প্রধানমন্ত্রী সুইডেনের পার্লামেন্ট পরিদর্শন করেন এবং ভারপ্রাপ্ত স্পীকার তোবিয়াস বিলসট্রোমের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন। সুইডেনের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসাবেল্লা লাভিন এবং বিচার ও অভিবাসন মন্ত্রী মরগান জোহানসন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাত করেন।

প্রধানমন্ত্রীকে লাল গালিচা সংবর্ধনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুইডিশ প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন লোফভেনের আমন্ত্রণে তিনদিনের দ্বিপক্ষীয় সফরে সুইডেন পৌঁছালে বুধবার রাতে তাকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয়। স্ক্যান্ডিনেভিয়ান এয়ার লাইন্সের একটি বিমান প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে স্থানীয় সময় রাত ৯টা ৪০ মিনিটে সুইডিশ রাজধানীর আরলান্ডা বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সুইডিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিফ অব প্রটোকল এ্যাম্বাসেডর ক্লাস মোলিন, স্টকহোমে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম সারোয়ার এবং ঢাকায় নিযুক্ত সুইডিশ রাষ্ট্রদূত যোহান ফ্রিসেল বিমান বন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান। পরে সুইডিশ সশস্ত্র বাহিনী প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।

বাংলাদেশের কোন সরকার অথবা রাষ্ট্র প্রধানের এটিই প্রথম দ্বিপক্ষীয় সুইডেন সফর। শেখ হাসিনা ৪৭ সদস্যের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলসহ উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিন দিনের সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী ১৭ জুন লন্ডন হয়ে দেশে ফিরবেন।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।