‘‘সংবিধান রক্ষার নামে বিকাশ এমপি হওয়ার সুযোগ আর হবে না’’- সাবেক এমপি কাজল

মো.আবুল বশর নয়ন, নাইক্ষ্যংছড়ি #
কক্সবাজার সদর-রামু আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির মৎস্যজীবি বিষয়ক সম্পাদক লুৎফুর রহমান কাজল বলেছেন- বিএনপি মহাসচিবের উপর হামলা করে আমাদের ক্ষতি হয়নি, আওয়ামীলীগের ক্ষতি হয়েছে। এর মাধ্যমে আওয়ামীলীগের ফ্যাসিবাদী চরিত্র আবারো ফুটে উঠেছে। বাতি নিভে যাওয়ার আগে জ¦লে বেশি। আওয়ামীলীগের বিদায়ের সময় ঘনিয়ে এসেছে, ২০১৮সনের নির্বাচনে ইনশাআল্লাহ বিএনপি ক্ষমতায় যাবে। সংবিধান রক্ষার নামে বিকাশ এমপি হওয়ার সুযোগও বার বার আসবে না। মানুষের ভোটে এমপি হতে হবে।  রবিবার রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নে একটি কমিউনিটি সেন্টারে ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের যৌথ আয়োজনে ইফতার মাহফিলের আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন।    তিনি আরো বলেন- আওয়ামীলীগ অস্থিত্ব সংকটে রয়েছে। তাদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক দলের বিরুদ্ধে কথা বার্তা বলে আসছেন দীর্ঘদিন। আওয়ামীলীগও শান্তিতে নেই। নব্য আওয়ামীলীগের চাপে পুরাতন আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মীরা সুবিধা করতে পারছে না।। বিএনপি যেখানে গেছে হাজার লক্ষ মানুষের সমাগম ঘটছে। আলেম উলামাদের ফাঁিস, বিভিন্ন ভাবে হয়রাণি, নির্যাতনের মাধ্যমে জাতিকে বিভক্ত করেছে আওয়ামীলীগ। রামুতে বৌদ্ধদের নির্যাতন করেছে তারা।
জাতীয় একটি দৈনিকের তথ্য উদ্ধৃতি দিয়ে সাবেক এমপি কাজল বলেন- দেশে বর্তমানে জনগণের মাথাপিচু কর্জ্য ৪০ হাজার টাকা। আগামী বছর সেই বাজেট পাশ হলে হবে ৪৬হাজার টাকা। দেশে যদি উন্নয়নের এমন জোয়ার হয় তাহলে মাথা পিছু কর্জ্য কেনে বেড়েছে।  কক্সবাজার তথা রামু-কচ্ছপিয়া-গর্জনিয়ায় যত উন্নয়ন হয়েছে সব বিএনপির আমলে হয়েছে দাবী করে লুৎফুর রহমান কাজল আরো বলেন- আওয়ামীলীগ ৮বছর ক্ষমতাকালে উল্লেখ করার মত কোন উন্নয়ন করেনি বরংচ বিএনপির আমলে যেসব ব্রিজ করা হয়েছে তা বর্তমানে দুধ দেওয়া গরুর মত ব্যবহার করছে। শুনেছি, ইতিপূর্বেও ৯৫লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল গর্জনিয়া খালেকুজ্জামান সেতুর এপ্রোচ সড়ক সংষ্কারের জন্য। তারমধ্যে ব্যয় করেছে ১৩লক্ষ টাকা। বর্তমানে আরো ৩কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে শুনা যাচ্ছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না। সম্প্রতি রামু উন্নয়ন ফোরামের একটি মিটিংয়ে খোদ জেলা পরিষদের সদস্য শামসুল আলম মন্ডল নিজেই স্বীকার করেছেন ‘রামুতে আওয়ামীলীগ চরম লুটপাট করছে’। তাই বিএনপির নেতাকর্মীদের আগামীতে আরো ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ২০১৮সাল খালেদা জিয়ার বছর।
উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন- কারো পতন আসলে দেশে চালের দাম বাড়ে। আওয়ামীলীগ নিজেদের মধ্যে খুনাখুনি হয়। কক্সবাজার-রামু আসনে একই ঘরে আওময়ামীলীগের তিনজন এমপি প্রার্থী। তাই বিএনপি থেকে কিছু বলার দরকার নেই।
কচ্ছপিয়া ইউনিয়নে ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে নির্বাচিত নোমান কেন আওয়ামীলীগে গেছে তা আমার ভাবার বিষয় নয়। কি চিন্তা করে সে আওয়ামীলীগে গেছেন সেটি তার রাজনৈতিক ভবিষ্যত। কিন্তু বিগত ইউপি নির্বাচনে আওয়ামীলীগের এত অত্যাচারের পরও ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থীকে নির্বাচিত করেছেন জনগণ। তেমন চেতনা নিয়ে আগামীতে এগিয়ে যেতে হবে। আওয়ামীলীগের টেম্পার শেষ। আগামী দিন বিএনপির। এই দুসময়েও ইফতার মাহফিলে বিপুল জনসমাগম প্রমাণ করেছে কচ্ছপিয়ার মাটি বিএনপির ঘাটি। কচ্ছপিয়ার মাটি খালেদা জিয়ার ঘাটি।
কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মৌলানা মোক্তার আহমদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন-
রামু উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম ফেরদৌস, উপদেষ্ঠা আকতারুল আলম, রামু উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফরিদা ইয়াছমিন, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ফোরকান আহাম্মদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মেরাজ আহাম্মদ মাহিন, যুগ্ম সম্পাদক আবুল বশর বাবু, দপ্তর সম্পাদক ফয়েজ উদ্দীন রাশেদ, উপজেলা যুবদল আহবায়ক মির্জা নুরুল আবছার, উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক শাহ নুরুদ্দীন বাবু, বিএনপি নেতা ইদ্রিস সিকদার, গর্জনিয়ার সভাপতি আবদুল আলী, দিদারুল আলম সিকদার, রফিকুল আলম। ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল আবছার মেম্বার, ইউনিয়ন যুবদল আহবায়ক কামরুল হাসান সেহেল।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন- রেজাউল করিম টিপু, য়ুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মো: জয়নাল আবেদীন টুক্কু, উপজেলা ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম, গর্জনিয়া যুবদলের আহবায়ক আবদুল মালেক প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন যুবদল নেতা কলিমুল্লাহ।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।