বিবিএন শিরোনাম
  ●  লামায় মৎস্য পোনা অবমুক্ত ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে পোনা বিতরণ   ●  ৫৭ ধারার মামলায় সাংবাদিক জসিম আজাদ সহ ৪ জন কারাগারে   ●  উচ্চ আদালত থেকে রাজনৈতিক কথাবার্তা হুমকি-ধমকি আসছে   ●  চকরিয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় গর্ভবতী মহিলাসহ আহত ৩   ●  কুতুবদিয়ায় দরিদ্র বিমোচন সংগঠনের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ   ●  নেতাকর্মীসহ এমপি কমল কারাগারে!   ●  রামুতে স্মরণকালের বৃহৎ মেজবানে লাখো মানুষের মিলনমেলা   ●  সব দল চাইলে নির্বাচনের আগে সেনা মোতায়েন করা হবে: সিইসি   ●  চকরিয়ায় মহাসড়কে গাড়ী ব্যারিকেড দিয়ে টাকা ছিনতাই   ●  হাটহাজারীতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে পুড়ে গেছে ১০টি ব্যবসায়ী প্রতিষ্টান

ঈদগাঁওতে জনপ্রিয় চানাচুর ফ্যাক্টরীতে তৈরি হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর খাদ্য পণ্য

ঈদগাঁও সংবাদদাতা##
সদরের ঈদগাঁওতে নোংরা-আবর্জনাপূর্ণ পরিবেশে খাবার পণ্য তৈরি হচ্ছে মাধব রোদ্রের মালিকানাধীন জনপ্রিয় চানাচুর ফ্যাক্টরীসহ প্রায় ৪/৫টি বেকারীতে। অথচ দিনের পর দিন প্রতিষ্ঠান সমূহে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য পণ্য তৈরি করে চললেও নজরদারী নেই প্রশাসনের। ফলে কোন প্রকার নিয়ম মানা প্রয়োজন মনে করছেন না এসব বেকারী মালিকরা। ঈদগাঁও প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী ঈদগাঁও বাজার এলাকায় বেকারী পণ্য উৎপাদন করে প্রায় ৮টি প্রতিষ্ঠান। অধিকাংশই আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে পরিচালিত হওয়ায় উৎপাদিত খাদ্য পণ্য গ্রহণে বাড়ছে চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকি। তথ্য মতে, ঈদগাঁও বাঁশঘাটা রোডে সচিন রোদ্রের পুত্র মাধব রোদ্রের জনপ্রিয় চানাচুর ফ্যাক্টরীতে তৈরি হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পোড়া তেলে নি¤œমানের চানাচুরসহ বিভিন্ন খাদ্য পণ্য। এসব পণ্য বিভিন্ন নামী-দামী ব্র্যান্ডের প্যাকেট ও লুগো লাগিয়ে বাজারজাত করা হচ্ছে। এতে করে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছে সব বয়সের নারী-পুরুষ। বাহির থেকে আবাসিক বাড়ী মনে হলেও ভিতরে বড় এক চানাচুর তৈরির কারখানা। রবিবার সকালে ঐ কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, সম্পূর্ণ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে খাদ্য পণ্য। কারখানার প্রবেশপথে ময়লা-আবর্জনার স্তুপ, ভিতরে একটি রুমে ১০/১১ বছরের একদল শিশু ফোরে বসে চানাচুর প্যাকেটিংয়ের কাজে ব্যস্ত। ভিতরে চলছে চানাচুর তৈরির কাজ। খালি পায়ে এক মহিলাসহ ৩/৪ জন শ্রমিক অপরিচ্ছন্নভাবে ময়লাযুক্ত ডাল পিষে খামি তৈরি করতে দেখা যায়। এক পাশে মাটিতেই রাখা হচ্ছে ভাজা চানাচুর। বিধি-বিধান অমান্য করে বসতবাড়ীর মাঝে চানাচুর কারখানা তৈরি করায় তুষ কাঠের চুলার ধোঁয়ায় পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। পাশাপাশি চার পাশের জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। এ চানাচুর কারখানার ধোয়ায় চারপাশ কালো হয়ে যায় প্রতিনিয়ত। এমনকি পোড়া ধোঁয়ার গন্ধে জায়গাটিতে মানুষ বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। পরিবেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও এমন শ্লোগানে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের আইন অমান্য করার কড়া নজরদারীর চিঠি জারী করা হলেও মানছে না এ চানাচুর কারখানার মালিকসহ বেশ কয়েকটি বেকারী কারখানা। জনপ্রিয় চানাচুর কারখানার মালিকের বিরুদ্ধে কারখানা সংশ্লিষ্ট আইন, সরকারকে অভিনব কায়দায় রাজস্ব থেকে বঞ্চিতসহ মেয়াদোত্তীর্ণ ময়দা, ডাল পোড়া তেলে চানাচুর ভেজে ক্রেতা ঠকানোর কায়দা করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এক সূত্র বলছে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে আইন অনুযায়ী এসব কারখানা তৈরির জন্য জায়গা নির্ধারণ, ব্যবহারের দিক নির্দেশনামুলক সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। এ নীতিমালায় আরো বলা হয়েছে চুলার বিষাক্ত ধোঁয়ায় যেন পরিবেশের ক্ষতি করতে না পারে সেজন্য উঁচু চোঙ্গা বা পাইপ ব্যবহার করতে হবে। কিন্তু এসব কারখানার মালিকরা কারখানা তৈরিতে নীতিমালার কোনটাই মানা হয়নি। কারখানাটি লোকালয়, বসতবাড়ীর মাঝখানে অবস্থিত হওয়ায় নির্গত কালো ধোয়ায় পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। স্থানীয় জনগণ ও পাশর্^বর্তী ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, জেলা-উপজেলা ও স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এসব অস্বাস্থ্যকর খাদ্যপণ্য তৈরি করে যাচ্ছে এরা। মালিক মাধব রোদ্রের সাথে যোগাযোগ করা হলে সে মেয়াদোত্তীর্ণ কিছু কাগজপত্র ছাড়া কারখানার বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। সে বলে, আমি স্থানীয় ও উপজেলা প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই কারখানা চালাচ্ছি। এ ব্যাপারে অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে গড়ে উঠা চানাচুর ও বেকারী কারখানার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে পরিবেশকে মারাত্মক বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করার দাবী জানান স্থানীয়রা। পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কারখানা তৈরি করলে বা আইন অমান্যকারীদের জন্য ন্যুনতম ২ বছরের জেল ও জরিমানা অথবা উভয় প্রকার দন্ড আরোপ করে সংশ্লিষ্ট কারখানা বন্ধ করে দেয়ার কথা ও আইনে বলা হয়েছে।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।