কক্সবাজার শহরে পাহাড় থেকে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি উচ্ছেদ শুরু

মো. ফরিদ #
কক্সবাজার শহরে সরকারি পাহাড় থেকে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি সরানোর কাজ শুরু করেছে প্রশাসন। গতকাল রবিবার বিকাল থেকে শুরু হওয়া অভিযানের প্রথম দিনে শহরের বৈদ্যঘোনা এলাকার দুটি পাহাড় থেকে অতি ঝুকিপূর্ণ ৩০টি বসতি উচ্ছেদ করা হয়। উচ্ছেদ অভিযানের নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পিএম ইমরুল কায়েস ও একেএম লুৎফর রহমান। জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, রাঙামাটিসহ বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধসের পর কক্সবাজারেও ধসের আশঙ্কায় পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে গড়ে উঠা বসতি সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। শহরের ১২টি পাহাড়ে অন্তত ৩ হাজারের মত ঝুঁকিপূর্ণ বসতি রয়েছে। এর মধ্যে ৩ শতাধিক বসতি অতি ঝুঁকিপূর্ণ। এই অতি ঝুকিপূর্ণ বসতিগুলো চিহ্নিত করে নিজ থেকে সরে যাওয়ার জন্য সেখানে বসবাসকারীদের একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু কোন অবস্থাতেই বসবাসকারীরা সরে না যাওয়ায় রবিবার থেকে প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে।জানা গেছে, শহরের পাহাড় গুলোতে ঝুকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের তালিকা তৈরীর জন্য প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ছয়টি টিম গঠন করা হয়। ওই টিম গুলো সরেজমিন পরিদর্শন করে ঝুকিপূর্ণ বসতি গুলো চিহ্নিত করে।নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পিএম ইমরুল কায়েস ও একেএম লুৎফর রহমান বলেন- ‘শহরের ৮নং ওয়ার্ডের বৈদ্যঘোনা এলাকায় চারটি পাহাড়ে প্রায় ৩০০টি ঝুকিপূর্ণ বসতি রয়েছে। এরমধ্যে অতি ঝুকিপূর্ণ বসতি রয়েছে প্রায় ৪০টি। রবিবার ওই এলাকার বিবি হাজেরা পাহাড় থেকে ১৫টি ও খাজা মঞ্জিল পাহাড় থেকে ১৫টি বাড়ি উচ্ছেদ করা হয়। এখন থেকে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া নিয়মিত চলবে বলে জানান তারা।অভিযানে আরো ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মুমিনুল ইসলাম, র‌্যাব, পুলিশ, আনসার, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স, বিদ্যুৎ বিভাগ ও পৌরসভা কর্মকর্তারা।বিবি হাজেরা পাহাড় থেকে উচ্ছেদ হওয়া বাড়ির মালিক মো. ইউনুচ জানান- ‘সরে যাওয়ার জন্য প্রশাসন নোটিশ করেছে ঠিক আছে। কিন্তু আমরা যাব কোথায়? এই বৃষ্টিতে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে কোথায় মাথা গোঁজাবো, সেটি ভেবে পাাচ্ছিন। তিনি বলেন, আমরা কি বাংলাদেশের নাগরিক না। আমাদের পুর্ণবাসন না করে কেন উচ্ছেদ করা হলো। আমরা কি এখন রাস্তায় রাস্তায় ঘুরবো- প্রশ্ন করেন তিনি।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।