২২ অক্টোবর, ২০১৭ | ৭ কার্তিক, ১৪২৪ | ১ সফর, ১৪৩৯


শিশুশ্রম বন্ধে গণমাধ্যমকে এগিয়ে আসতে হবে

ডেস্ক নিউজ#

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু শিশুশ্রম নিষিদ্ধের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, শিশুশ্রম বন্ধে গণমাধ্যমকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, ‘মানবিক সমাজ-ব্যবস্থা সুপ্রতিষ্ঠা এবং ভবিষ্যতের জনসম্পদ রক্ষায় শিশুশ্রম নিষিদ্ধ করতে হবে।’ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে শিশুশ্রম নিরসনে গণমাধ্যমের সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক এক কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের ডেপুটি ডিরেক্টর ড. মাহফুজুর রহমান ভূইয়া, বেসরকারি টেলিভিশন ‘৭১’র পরিচালক (বার্তা) সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, উন্নয়ন সংস্থা সিএসআইডি’র প্রকল্প ব্যবস্থাপক আকরাম হোসেন ও ওয়ার্ল্ড ভিশনের তানজিনা আকতার। বাসস’র বিশেষ সংবাদদাতা ও চিলড্রেন এ্যাফেয়ার্স জার্নালিস্টস’ নেটওর্য়াকের আহ্বায়ক মাহফুজা জেসমিন অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যারা শিশুশ্রমে নিয়োজিত হচ্ছে তারা শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে। ভবিষ্যতে কম শক্তিমান মানুষ হিসেবে তারা গড়ে উঠবে।’ কমশক্তিমান ও অসুস্থ মানুষ দিয়ে চমৎকার একটা সমাজ গঠন করা সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। হাসানুল হক ইনু প্রতিটি শিশুশ্রমিককে শিশুশ্রম থেকে বের করে সুস্থজীবনে ফিরিয়ে আনতে সম্মিলিত প্রয়াস গ্রহণ করার ওপরও জোর দেন। তিনি শিশুশ্রম বন্ধে গণমাধ্যমসমূহকে আরও আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গড়তে হলে শিশুশ্রম নিরসন, বাল্যবিয়ে রোধ, প্রত্যেক শিশুকে বিদ্যালয়ে পাঠানো এবং যৌতুক বন্ধ করার কোন বিকল্প নেই উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শিশু অধিকার রক্ষা করতে চাইলে শিশুশ্রম বন্ধ করতেই হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত ‘হাল্কা কাজ কিংবা ভারী কাজের বিষয় সুরাহা হবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত শিশুশ্রম বন্ধ করা যাবে না। তিনি বলেন, কে কিভাবে শিশুশ্রমকে দেখছে এটা বড় কথা নয়, গণমাধ্যমকে শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি অবলম্বন করে শিশুশ্রম নিষিদ্ধে কাজ করতে হবে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের যেটুকু অগ্রগতি আছে বা ঘাটতি আছে সেগুলো সমন্বয় করে শিশুশ্রম বন্ধে সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। অনুষ্ঠানে অন্য বক্তারা বলেন, শিশুশ্রম নীতিমালা সম্পর্কে সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে। দেশে প্রায় ১৩ লাখ শিশু ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত রয়েছে। এদের সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
সূত্র : বাসস

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।