বাইশারীতে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত খাদ্য গুদামটি জনসাধারণের কোন কাজে আসছে না

আব্দুর রশিদ, বাইশারী#
আদি যুগে মানুষেরা কথায় কথায় বলতেন “সরকারী মাল দরিয়ামে ঢাল”। কথাগুলো কি আদো মিথ্যা? নাকি সত্য। এই বিচার পাঠকদের। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারীতে দীর্ঘ দুই যুগের অধিক সময় যাবত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বিশাল আকৃতির খাদ্য গুদামটি খালি অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সাথে রয়েছে খাদ্য গুদামের কর্মকর্তা, কর্মচারীদের জন্য নির্মিত ফ্যামিলি কোয়ার্টারও। আজ দীর্ঘ দুই যুগের অধিক সময় খালি অবস্থায় পড়ে রয়েছে খাদ্য গুদামটি। যাহা সরকার ও জনসাধারণের কোন কাজে আসছে না। এই কথাগুলো বললেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিশাল আকৃতি খাদ্য গুদামটি বর্তমানে গোচরণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে। অযতœ অবহেলায় খাদ্য গুদাম ও স্টাফ কোয়ার্টারগুলো সাপ, বিচ্ছু, পোকামাকড়ের কারখানায় পরিণত হয়েছে। বর্তমানে স্টাফ কোয়ার্টারের রক্ষিত লোহার রড, ইট, দরজা, জানালা অনেকেই খুলে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলম বলেন, বাইশারীতে এককালে টানা কয়েক বছর যাবত খাদ্য গুদামটি চালু ছিল। স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে ন্যায্য মূল্যে ধান, চাউল ও ক্রয় করছিল। পরবর্তী সময়ে খাদ্য গুদামটি কেন যে বন্ধ হয়ে গেল তিনি কিছুই জানেন না। তবে বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলবেন বলে জানান। গত ২০১২ সালের ভয়াবহ বন্যায় খাদ্য গুদামের বাউন্ডারী ওয়াল মাটিতে ধ্বসে পড়ে যায়। এরপর থেকে ঐসব দেওয়াল আর কোন ধরনের মেরামত ও করা হয়নি। এছাড়া চতুর্পাশে কাঁটা তারের বেড়া এবং গাছগুলো আস্তে আস্তে হারিয়ে যাচ্ছে। অন্তত পক্ষে গুদামটি সংরক্ষনে প্রয়োজন বলে মনে করেন স্থানীয় লোকজন।
চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলম বলেন, খাদ্য গুদামটি চালু হলে তিন ইউনিয়নের লক্ষাধিক লোক সুবিধা পাবে। পাশাপাশি সরকারের দেওয়া ভিজিডি, ভিজিএফ এর চাউলগুলো অত্র গুদাম থেকে নেওয়া গেলে অনেক টাকা তাদের বেচে যেত। তাই অবিলম্বে খাদ্য গুদামটি সংরক্ষণ ও চালু করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।