২৪ অক্টোবর, ২০১৭ | ৯ কার্তিক, ১৪২৪ | ৩ সফর, ১৪৩৯


জামিন পেলেন কক্সবাজারে গ্রেফতার মিয়ানমারের দুই সাংবাদিক

ডেস্ক নিউজ#

পরিচয় গোপন করে সীমান্তে গিয়ে ছবি তোলা, বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে মিথ্যা তথ্য দেয়া ও রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য সংগ্রহের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া মিয়ানমারের দুই সংবাদিক জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। শনিবার পুলিশের এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।চলতি মাসের শুরুতে কক্সবাজার সীমান্ত এলাকায় গ্রেফতার হয়েছিলেন মিনজায়ার ও এবং হকুন লাত নামের দুই সাংবাদিক। তাঁদের জামিনের বিষয়ে রঞ্জিত কুমার বড়ুয়া নামের পুলিশের এক কর্মকর্তা ফোনে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘আদালত তাঁদের জামিন দিলেও তাঁরা এই মুহূর্তে নিজ দেশে ফিরতে পারবেন না।’ রঞ্জিত জানান, ওই দুজনের দেশে ফেরা নিয়ে আগামী সপ্তাহে আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হতে পারে।গ্রেফতার দুইজনের বিষয়ে গুপ্তচরবৃত্তির কোনো অভিযোগ আছে কি না, জানতে চাইলে রঞ্জিত বড়ুয়া বলেন, অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে এই দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়নি।ওই দুই সাংবাদিকের পক্ষের একজন আইনজীবীও জামিনের বিষয়টি জানিয়েছেন। তবে এর বেশি কিছু বলেননি তিনি।পুলিশ জানিয়েছে, পর্যটক ভিসায় এসে এই দুই সাংবাদিক জার্মানির একটি সাময়িকীর হয়ে কাজ করছিলেন। এ কারণে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়।গত ৮ সেপ্টেম্বর ফটোগ্রাফি বিষয়ক বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান ‘কাউন্টার ফটো’র প্রিন্সিপাল ফটোগ্রাফার সাইফুল হক অমিসহ মিয়ানমারের দুই ফটোসাংবদিককে হেফাজতে নেয় কক্সবাজার পুলিশ।৯ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আফরুজুল হক টুটুল বলেন, তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেয়া হয়েছিল। দুইজন বিদেশি সাংবাদিক টুরিস্ট ভিসায় এসে কাজের অনুমতি না নিয়ে কাজ করছিল। সাইফুল হক অমি তাদের সঙ্গে ছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের তিনজনকেই ঢাকায় ফেরত পাঠানো হয় বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

গত শনিবার ৯ সেপ্টেম্বর তাদের ঢাকায় পাঠানো হয় বলা হলেও গত ১১ সেপ্টেম্বর সাইফল হক অমি বাসায় ফেরেন। এরপর ১৩ সেপ্টেম্বর এই মামলায় মিয়ানমারের দুই সাংবাদিককে গ্রেফতার দেখানো হয়।

এদিকে এই দুই সাংবাদিকের সঙ্গে কিভাবে পরিচয় জানতে চাইলে অমি বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমি এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছি না। তাদের সঙ্গে আমার যোগাযোগই যেহেতু নেই আমি বলতে পারছি না।’ যোগাযোগ না থাকলে কেন তাদের সঙ্গে আপনাকে হেফাজতে নেওয়া হলো- প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমি আসলে এখন কোনও প্রশ্নের উত্তর দিতে চাইছি না।’ এরপর আর কোনও প্রশ্ন নিতে তিনি রাজি হননি।

গত ৩১ আগস্ট সাইফুল হক অমি কক্সবাজার যান। এরপর থেকে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ও সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি ফেইসবুক লাইভের মাধ্যমে পরিস্থিতি জানাচ্ছিলেন। একইসঙ্গে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলেও তিনি সীমান্তে রোহিঙ্গাদের নিয়ে তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে আসছিলেন।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।