২৪ অক্টোবর, ২০১৭ | ৯ কার্তিক, ১৪২৪ | ৩ সফর, ১৪৩৯


শেখ হাসিনার স্বপ্ন ও সংগ্রাম

ড. মিল্টন বিশ্বাস : বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শান্তি ও মানবতার অগ্রদূত হিসেবে আজ বিশ্বব্যাপী আলোচিত একটি নাম। মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত ও নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে তিনি এখন বিশ্ব মিডিয়ার অন্যতম আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব। শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনের ভাষণে (২১ সেপ্টেম্বর) বলেছেন, “স্বাধীন জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর থেকেই আমরা শান্তিকেন্দ্রিক অভ্যন্তরীণ এবং পররাষ্ট্র নীতি অনুসরণ করে চলেছি। এ উপলব্ধি থেকেই সাধারণ পরিষদে ২০০০ সাল থেকে প্রতিবছর ‘শান্তির সংস্কৃতি’ (culture of peace) শীর্ষক প্রস্তাব পেশ করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সর্বদা অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।” বঙ্গবন্ধু আজীবন সংগ্রাম করে বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন, বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে অনন্য মর্যাদায় অভিষিক্ত করেছেন; সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখেছেন ও বাস্তবায়নে অগ্রসর হয়েছেন; তাঁর সেই আদর্শিক ধারায় স্নাত হয়ে শেখ হাসিনা মেধা ও দূরদর্শিতাসম্পন্ন রাজনীতিক হিসেবে জনগণের ভাগ্য বদলে দিয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশের অগ্রগতি এক কথায় অসামান্য। উদার জাতীয়তাবাদের আদর্শের কারণে আওয়ামী লীগ অসাম্প্রদায়িক, সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য প্রণীত অর্থনীতিতে বিশ্বাসী সংগঠন। মনে রাখতে হবে রাজপথে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারবিরোধী গণ-আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটিয়েছেন শেখ হাসিনাই। ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ভারতের সঙ্গে ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি এবং শান্তি বাহিনীর সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি সম্পাদনের মধ্য দিয়ে সাফল্যের নতুন মাইলফলক রচিত হয়। তাঁর শাসনামলেই দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে। শেখ হাসিনা তাঁর নিজের কাজে প্রমাণ করেছেন যে, রাজনীতির অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশ ও জনগণের উন্নয়ন। এজন্য তাঁর সরকারের অর্জন ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের তালিকা অনেক দীর্ঘ। আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে যদিও কেউ কেউ মিথ্যাচার করেছেন, তবে তার সরকারের অর্জন অস্বীকার করতে পারেন নি কেউ। মহাজোট সরকারের আমলে সমুদ্র সীমানাসংক্রান্ত মামলায় মিয়ানমার ও ভারতের কাছে জয়ী হওয়ায় বিশাল সমুদ্র অঞ্চল প্রাপ্তি; জোট সরকারের চেয়ে মহাজোট সরকারের আমলে অতিরিক্ত বিদ্যুত্ উত্পন্ন হওয়া, খিলগাঁও ফ্লাইওভার ও কুড়িল উড়াল সড়ক তৈরি হওয়া, সেনাবাহিনীর জন্য মেকানাইজ্ড ব্রিগেড ও ব্যাটালিয়ন গঠন করা, রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি কিংবা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পাওয়া সবই হয়েছে শেখ হাসিনা সরকারের দূরদর্শী নেতৃত্বে। যারা একসময় তাঁর নেতৃত্বের কট্টর সমালোচক ছিলেন তারাই এখন বলতে শুরু করেছে নির্ভীক নেতা রূপে শেখ হাসিনাই এদেশকে সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে নিতে সক্ষম।

শেখ হাসিনা একজন আদর্শ বাঙালি রাষ্ট্রনায়ক। তিনি বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা এবং আবহমান কাল ধরে চলে আসা বাঙালি নারীর আদর্শ প্রতিমূর্তি। তিনি ১২ সেপ্টেম্বর উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রিত মানুষের মাঝে গিয়ে আবারও তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো তাঁর একটি অন্যতম গুণ। এমনকি ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি শত্রু-মিত্র ভুলে বেগম খালেদা জিয়াকে তাঁর পুত্র কোকোর মৃত্যুর জন্য সমবেদনা জানাতে গেছেন। প্রতিপক্ষের দুঃখে তিনি কষ্ট অনুভব করেছেন। শেখ হাসিনা আসলে জনদরদী রাষ্ট্রনায়কের মতোই কাজ করেছেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি অত্যন্ত বিনয়ী এবং বরাবরই তার একটা পারিবারিক মূল্যবোধ ছিল। আর পিতা-মাতার প্রভাব শেখ হাসিনাকে একজন আদর্শ, মমতাময়ী মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠা এনে দিয়েছে। তবে তাঁর রাজনৈতিক জীবনে পিতার প্রভাবই বেশি বলে মনে হয়। কারণ তিনি পিতার মতোই অসীম সাহসী, দৃঢ়তায় অবিচল, দেশপ্রেম ও মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন একজন আদর্শবাদী নেতা। দেশ ও বিশ্বের যেকোনো সংকটে তাঁর নেতৃত্ব দলমত নির্বিশেষ সকল রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কাছে ক্রমেই অধিক হারে গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে। বাঙালি এক নারী পরিবারের প্রায় সবাইকে হারিয়ে দুঃসহ স্মৃতির রক্তক্ষরণকে জয় করে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন; লড়াই করছেন শুধু গণতন্ত্রের জন্যই নয়, সব প্রতিকূলতার বিরুদ্ধেই—তার সেই সংগ্রাম শান্তি ও মানবতার জন্য।

জন্মদিনে আপনাকে সশ্রদ্ধ অভিবাদন।

n লেখক :অধ্যাপক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

e-mail : writermiltonbiswas@gmail.com । ইত্তেফাক

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।