২০ এপ্রিল, ২০১৯ | ৭ বৈশাখ, ১৪২৬ | ১৪ শাবান, ১৪৪০


বিবিএন শিরোনাম

শহরে জলকেলি উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু

এম.এ আজিজ রাসেল:শহরজুড়ে রাখাইন নববর্ষ পালনের বর্ণিল আয়োজন চলছে। আগামী ১৭ এপ্রিল ১৩৮০ রাখাইন বর্ষ বিদায় জানিয়ে সানন্দে বরণ করা হবে ১৩৮১ বর্ষকে। বর্ষ বরণে বৌদ্ধ ধর্মালম্বীরা প্রতিবছর সাংগ্রাই পোয়ে (মৈত্রিময় জলকেলি) উৎসব ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় পালন করে থাকে। ১৩ এপ্রিল শুক্রবার শহরে বুদ্ধ স্নানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে জলকেলি উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। সকাল ৯টায় বার্মিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গন থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করে রাখাইন শিক্ষার্থীরা। শোভাযাত্রাটি প্রধান প্রধান সড়ক পদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় অগ্গমেধাস্থ মাহাসিংদোগ্রী মন্দিরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে শিক্ষার্থীরা বৌদ্ধ ভিক্ষুদের দান করেন নগদ টাকা, চাল, চিনি, দুধ, কলা, নারিকেল, মোমবাতি, সাবান দেশলাইসহ হরেক রকম পণ্য। গ্রহণ করেন পঞ্চশীল। এসময় ধর্মীয় গুরু শিক্ষনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। ১৪ এপ্রিল শুক্রবার রাখাইন এলাকা ভিত্তিক শোভযাত্রা বের করা হবে। শোভাযাত্রা শেষে বৌদ্ধ বিহারে গিয়ে সবাই পঞ্চশীল, অষ্টশীল ও বিভিন্ন জিনিসপত্র দান করবেন।১৫ ও ১৬ এপ্রিল রাখাইন পল¬ী গুলোতে শিশুরা জলকেলিতে মেতে উঠবে। ১৭ এপ্রিল থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত জাকঝমকভাবে অনুষ্ঠিত হবে মূল সাংগ্রাইং পোয়ে বা মৈত্রিময় জলকেলি উৎসব। নববর্ষে রাখাইন প্রবীণ ব্যক্তিরা উপবাসও করে থাকেন। এসময় প্রাণী হত্যা, মিথ্যা বলাসহ কমপক্ষে ৮টি দুষ্কর্ম থেকে দূরে থাকতে হয়।শহরছাড়াও মহেশখালী, টেকনাফ, সদর, হ্নীলা, চৌধুরী পাড়া, রামু, পানিরছড়া, হারবাং, চকরিয়ার মানিক পুরসহ রাখাইন অধ্যুষিত এলাকা গুলোতে সপ্তাহ জুড়ে নববর্ষ পালনে নানা অনুষ্ঠান পালিত হবে। ইতোমধ্যে শহরের টেকপাড়া, হাঙর পাড়া, বার্মিজ স্কুল এলাকা, চাউল বাজার, পূর্ব-পশ্চিম মাছ বাজার, ক্যাং পাড়া ও বৈদ্যঘোনাস্থ থংরো পাড়ায় তৈরি করা হচ্ছে জলকেলির ২০টি নান্দিক প্যান্ডেল।রঙিন ফুল আর নানা কারুকার্যে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে প্যান্ডেলের চারপাশ। রাখাইন পল্লীতে এখন বর্ষ বরণের আমেজ। প্রতিটি বাড়ি সাজছে নতুন সাজে। ছোট শিশু থেকে শুরু করে বড়রাও ব্যস্ত নতুন কাপড় কিনতে। অনেকেই শেষ করেছেন কেনাকাটার পালা। উৎসবের মূল লক্ষ্য অতীতের সকল ব্যথা-বেদনা, গ্ল¬ানি ভুলে ভ্রাতৃত্ববোধের মাধ্যমে সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়া। রাখাইন শিক্ষার্থীরা জানান, আদিকাল থেকে রাখাইন নববর্ষ উপলক্ষে সামাজিক ভাবে সাংগ্রাই পোয়ে উৎসব পালন হয়ে আসছে। এবারও ব্যতিক্রম ঘটবে না। আনন্দ-উল্লাসে নতুন বছরকে বরণ করে নেব আমরা। আমরা একে অপরের গায়ে পানি ছিটানোর মধ্য দিয়ে পুরনো দিনের সব ব্যথা, বেদনা, হিংসা বিদ্বেষ ভুলে নতুনভাবে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখি। এটি আমাদের কাছে খুবই পবিত্র।’চট্টগ্রাম পলিটেকনিক্যাল ইনষ্টিটিউটের ইন্সট্রাক্টর উ থুয়েন জানান, সাংগ্রাই পোয়ে বা জলকেলি রাখাইনদের সামাজিক উৎসব। শনিবার বুদ্ধের মূর্তিকে স্নান করানোর মাধ্যমে সামাজিক এ উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। কক্সবাজারে আগামী ২০ এপ্রিল এই উৎসব শেষ হবে। কক্সবাজার পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেন, রাখাইনদের জলকেলি উৎসব উপলক্ষে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি মাঠে র‌্যাবও।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।