১৬ জুন, ২০১৯ | ২ আষাঢ়, ১৪২৬ | ১২ শাওয়াল, ১৪৪০


পেকুয়া উপকূলে ২ পয়েন্টে বেড়িবাঁধ বিলীন

বিশেষ প্রতিবেদক:কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার উপকূলীয় মগনামা ইউনিয়নের দুই পয়েন্টে বেড়িবাঁধ বিলীন হয়েছে। ফলে সাগর উপকূলবর্তী ওই ইউনিয়নের অন্তত ৩০ হাজার মানুষ চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে বেড়িবাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত পয়েন্টে সংস্কার না হলে সামনের বর্ষা মৌসুমে জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে পুরো ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। উপকূলবর্তী মগনামা ইউনিয়নের পশ্চিম অংশে কুতুবদিয়া চ্যানেল তীরবর্তী কাঁকপাড়া মাজার পয়েন্ট ও উত্তর মগনামা শরতঘোনা পয়েন্টে পৃথক দুটি স্থানে প্রায় ২০ চেইন বেড়িবাঁধ মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ ও অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নিয়ন্ত্রিত এসব বেড়িবাঁধ গত ৫ বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পাউবো নিয়ন্ত্রিত বেড়িবাঁধ সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন করতে সরকার বরাদ্দ দেয়। টেকসই বেড়িবাঁধ সংস্কার বাস্তবায়ন করতে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। মগনামায় ৮ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে।প্যাকেজওয়ারী বেড়িবাঁধ বাস্তবায়ন কাজ চূড়ান্ত করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানসমূহ কাজের কার্যাদেশ পায়। মগনামা ইউনিয়নের ৮ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ সংস্কার কাজ গত ২ বছর আগে থেকেই শুরু হয়েছে। উন্নয়ন ইন্টারন্যাশনাল নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মগনামা ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন করছে। প্রথম ধাপে তারা বেড়িবাঁধে মাটি ভরাটের কাজ শুরু করে। ওই কাজ সম্পাদন করতে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে পাউবো প্রায় ৩০০ কোটি টাকার অর্থ বরাদ্দ দেয়। সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, মগনামায় পশ্চিম অংশে বেড়িবাঁধ সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন হচ্ছে। তবে ৮ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ অংশে গত ২ বছরে সাড়ে ৫ কিলোমিটারে মাটি ভরাট কাজ বাস্তবায়ন হয়েছে। প্রায় আড়াই কিলোমিটার বেড়িবাঁধ অংশে মাটি ভরা কাজ অসমাপ্ত রয়েছে। আড়াই কিলোমিটারের মধ্যে সর্বাধিক ঝুঁকিতে আছে প্রায় ২০ চেইন বেড়িবাঁধ। এ ইউনিয়নের সর্বদক্ষিণে অংশ কাঁকপাড়া মাজার পয়েন্টে প্রায় ৭ চেইন বেড়িবাঁধ সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। সাগরের ঢেউয়ের আঘাতে এ পয়েন্টে পাউবোর বেড়িবাঁধ সম্পূর্ণ বিলীন হয়েছে। লোকালয় ও সাগর চর পয়েন্ট প্রায় একাকার। অপরদিকে শরতঘোনা চরখানায় মোকামে প্রায় ১৩ চেইনে বেড়িবাঁধ নেই।গত ৫ বছর ধরে ওই পয়েন্টে বেড়িবাঁধ বেহাল। বর্তমানে রিং বাঁধ আছে সেখানে। মৎস্য চাষিরা রিং বাঁধ দিয়েছিল। চলতি বর্ষা মৌসুমে আগে এ ২ পয়েন্টে মাটি ভরা কাজ বাস্তবায়ন না হলে নিশ্চিত মগনামা ইউনিয়ন প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এদিকে বেড়িবাঁধ সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন দাবিী জোরালো হচ্ছে মগনামায়। যেসব স্থানে বেড়িবাঁধ নেই সেখানে দ্রুত সময়ে মাটি ভরাট কাজ বাস্তবায়ন দাবিতে এলাকাবাসী সোচ্চার হচ্ছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ চৌধুরী ওয়াসিম জানান, ‘৩০ হাজার মানুষের জানমাল রক্ষায় রক্ষা করতে দ্রুত সময়ে বেড়িবাঁধ অংশে মাটি ভরা কাজ বাস্তবায়ন করার জোরালো দাবি জানান সরকারের কাছে। তিনি আরো জানান, তার ইউনিয়নে ৩০ হাজার মানুষ দুর্যোগ ঝুঁকিতে রয়েছে। টেকসই বাঁধ সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন করতে সরকার ৩শ কোটি টাকা বরাদ্ধ দিলেও ঠিকাদারের গাফিলতিতে কাজ হচ্ছে না। উন্নয়ন ইন্টারন্যাশনাল নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন করছে। মাটি ভরাটে অনিয়ম। ব্লক তৈরি ও লেভেলে অনিয়ম ও দুর্নীতিতে ব্যস্ত থাকায় সংস্কার কাজ থেমে গেছে। সরকারি কোটি কোটি টাকা লোপা হয়েছে।ঠিকাদার আতিকুল ইসলাম বাঁধ নির্মাণে গাফিলতি ও ধীরগতিতে কাজ করায় মগনামা বর্ষা মৌসুমে পানিতে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে আছে। প্রধানমন্ত্রীর স্বচ্ছ এ কাজকে জনগণের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করার উপক্রম হয়েছে এ ঠিকাদারের কারণে। এসব অভিযোগের ব্যাপারে ঠিকাদার আতিকুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগযোগ করা হলে তিনি জানান, মগনামায় শিডিউল অনুসরণ করে পাউবোর তদারকীতে কাজ হয়েছে। আরো কিছু কিছু কাজ বাকি রয়েছে। বর্ষার আগে আপাতত মাটি ভরাটের কাজ করা যায় কিনা চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। পানি উন্নয়নের বোর্ডের মগনামার দায়িত্বে থাকা এসও জানান, ঠিকাদারের গাফিলতি সহ্য করা হবে না। আগামী বর্ষা মৌসুমের আগে অন্তত মাটি বিলীন বেড়িবাঁধে মাটি ভরাটের কাজ করার জন্য বলা হয়েছে।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।