২৫ মে, ২০১৯ | ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ | ১৯ রমযান, ১৪৪০


প্রযুক্তির ডিজাইনে সামান্য পরিবর্তনই কমাতে পারে কার্বন নিঃসরণ

টেক প্রতি দিন: পৃথিবীকে অস্তিত্ব হুমকির মুখে ঠেলে দেয়া গ্রিনহাউজ গ্যাসের নিঃসরণ কমানোই এখন পরিবেশবাদীদের প্রধান লক্ষ্য। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী এ গ্যাস নিঃসরণ কমাতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো সহজেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। তারা বলেছেন, ইউটিউবের মতো বিভিন্ন সেবার ডিজাইনে সামান্য পরিবর্তনই উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমাতে পারে। খবর ইকোনমিক টাইমস।

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখানো হয়েছে, শুধু ইউটিউবের সেবায় বিশ্বব্যাপী ২০১৬ সালে যে পরিমাণ বৈদ্যুতিক শক্তি ব্যবহার হয়েছে, তা এক কোটি টন কার্বন ডাই-অক্সাইডের সমপরিমাণ। এই পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ হয়েছে ইউটিউবের সার্ভার ও নেটওয়ার্কিং ডিভাইসের মধ্যে প্রতিদিন ১০০ কোটি ঘণ্টা স্ট্রিমিংয়ের ফলে।

এ গবেষণার প্রধান ব্রিটেনের ইউনিভার্সিটি অব ব্রিস্টলের অধ্যাপক ক্রিস প্রিয়েস্ট বলেন, ডিজিটাল সেবা আমাদের প্রতিদিনের জীবনের অংশ। তবে বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল সেবা পৌঁছতে বিপুল শক্তিরও প্রয়োজন। এ কথা শুধু ডাটা সেন্টারের জন্য নয়, বিভিন্ন ধরনের নেটওয়ার্ক, মোবাইল নেটওয়ার্ক ও দামি ডিভাইসের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এই সব মাধ্যমই প্রচুর পরিমাণে কার্বন নিঃসরণ করে।

প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো কীভাবে কার্বন নিঃসরণে নিজেদের অংশ কমিয়ে আনতে পারে, সে ব্যাপারে গবেষণার পরামর্শও দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে তারা তথাকথিত ‘ডিজিটাল আবর্জনা’র মতো বিষয়গুলো মুছে ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন। যেমন শুধু অডিও শোনার জন্য যারা ইউটিউব ব্যবহার করেন, তাদের কোনো ধরনের ছবি না দেখানো। কারণ তাদের এ ধরনের ছবির প্রয়োজন হয় না, বরং অপ্রয়োজনীয় ছবি বিরক্তি তৈরি করতে পারে। উপরন্তু, এ ছবি ব্যবহারকারী পর্যন্ত পৌঁছতে কোম্পানিগুলোর অতিরিক্ত শক্তি খরচ হচ্ছে। গবেষকরা হিসাব করে দেখেছেন, এ ধরনের ডিজাইন পরিবর্তন বছরে ১০০ থেকে ৫০০ কিলোটন সমপরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ হ্রাস করতে পারে। এ কার্বন ফুটপ্রিন্ট যুক্তরাজ্যের ৩০ হাজার বসতবাড়িতে উৎপাদিত কার্বন ফুটপ্রিন্টের সমান!

এ গবেষণা প্রতিবেদন যুক্তরাজ্যের গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত সিএইচআই ২০১৯ সম্মেলনে উপস্থাপন করা হয়।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।