১৬ জুলাই, ২০১৯ | ১ শ্রাবণ, ১৪২৬ | ১২ জিলক্বদ, ১৪৪০


জেলা কারাগারে বন্দীদের নাস্তায় ভুনা খিচুড়ি-হালুয়া

প্রায় আড়াইশ’ বছর পর কারাবন্দীদের সকালের নাস্তার মেন্যুতে পরিবর্তন এনেছে কর্তৃপক্ষ। সকালের নাস্তায় নতুন মেন্যুতে থাকছে ভুনা খিচুড়ি, সবজি ও হালুয়া রুটি। একই সঙ্গে, স্বজনদের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলার সুযোগও চালু হবে শীঘ্রই। রোববার (১৬ জুন) সকালে কক্সবাজার জেলা কারাগারে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শাজাহান আলী।উদ্বোধনকালে তিনি বলেন, এখন থেকে সকালের নাস্তায় বন্দীরা উন্নতমানের খাবার পাবে। এটি সরকারের একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। যা সত্যিই বিরল। এই উদ্যোগ বন্দীদের অপরাধ জগত ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে অনুপ্রেরণা যোগাবে।কারাগার সূত্রে জানা গেছে, সকালের নাস্তার নতুন মেন্যুতে কারাবন্দীরা এখন সপ্তাহে দুদিন পাবেন ভুনা খিচুড়ি, চারদিন সবজি-রুটি, বাকি একদিন হালুয়া-রুটি। এর আগে ব্রিটিশ আমল থেকে কারাগারে বন্দীরা সকালের নাস্তায় পেতেন ১৪.৫৮ গ্রাম গুড় এবং ১১৬.৬ গ্রাম আটা (সমপরিমাণ রুটি)। একই পরিমাণ গুড়ের সঙ্গে একজন হাজতি পেতেন ৮৭.৬৮ গ্রাম আটা (সমপরিমাণ রুটি)।কারা সূত্র আরও জানায়, প্রিয়জন ও স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগে কারাবন্দিদের জন্য শীঘ্রই চালু করা হবে প্রিজন লিঙ্ক ‘স্বজন’ সার্ভিস।কক্সবাজার জেলা কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক বজলুর রশীদ আখন্দ বলেন, ‘ব্রিটিশ আমল থেকে চলে আসা কারাবন্দীদের সকালের নাস্তার মেন্যু আমরা পরিবর্তন করেছি। এখন থেকে তারা সপ্তাহে দুদিন ভুনা খিচুড়ি, চারদিন সবজি-রুটি, বাকি একদিন হালুয়া-নুটি খেতে পারবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘ শীঘ্রই কারাবন্দীরা তাদের আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। প্রাথমিকভাবে পাইলট প্রকল্প হিসেবে টাঙ্গাইলে এ সার্ভিস চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এখানেও এ সার্ভিস চালু করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘বন্দীরা কারাগারে থেকে মানসিক প্রশান্তি পেলে তাদের অপরাধ প্রবণতা কমবে। কারাবন্দীরা মুক্তির পর যাতে পুনরায় অপরাধে না জড়ান এবং সংশোধনের সুযোগ পান সেজন্য তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।’

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।