২১ জুলাই, ২০১৯ | ৬ শ্রাবণ, ১৪২৬ | ১৭ জিলক্বদ, ১৪৪০


উজানটিয়ায় ছয় মাস আগে খুলে ফেলেছে সড়কের ইট, জনগণের ভোগান্তি

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার ব্যস্ততম সড়ক পেকুয়া-উজানটিয়া সংযোগ সড়ক। ৬মাস আগে সড়কটি সংস্কার করার জন্য সংশ্লিষ্ঠ ঠিকাদার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর ইট খুলে নিলেও অদ্যবধি সংস্কার করা হয়নি।সড়কটি সংস্কার না করায় উপজেলার করিয়ারদিয়া, মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি ও কুতুবদিয়ার হাজার সাধারণ জনগণ ও হাজার হাজার শিক্ষার্থী চরম দূর্ভোগ পোহাচ্ছে। বন্ধ রয়েছে সকল যানবাহন। সড়কটি সংস্কার করার জন্য স্থানীয়রা প্রকৌশল অফিসকে বারবার অভিযোগ দিলেও অদৃশ্য কারণে নিরব রয়েছে তারা। মালামাল আনা নেওয়াতে বিকল্প কোন ধরণের সড়ক না থাকায় ব্যবসায়ীরা তাদের বাণিজ্যও বন্ধ করে রেখেছে। বন্ধ রয়েছে লবণ বিকিকিনি।জানা গেছে, গত ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচনের আগে নৌকার প্রার্থী জাফর আলম সড়কটি দিয়ে গণসংযোগ করার সময় সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেন। নির্বাচনে জয়লাভ করার পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তিনি সড়কটি দ্রুত সংস্কার করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ১কোটি ৯৭ লাখ টাকা বরাদ্ধ আদায় করেন। চকরিয়ার মাঈন উদ্দিন শাহেদ নামের এক ঠিকাদার কাজটি ঠিকাদার নিযুক্ত হন। তিনি জাতীয় নির্বাচনের পর পর সড়কটি সংস্কার করার জন্য ইট খুলে ফেলেন। সেই যে ইট খুলে নিয়েছে সংস্কারের কোন নাম গন্ধ নাই। স্থানীয় এলাকাবাসীরা চেয়ারম্যান, আ’লীগ নেতা, এলজিইডি কার্যালয় ও এমপির কাছে বারবার ছুটে গেলেও সংস্কারটি সংস্কার করা হয়নি। ঠিকাদারের জবাব তার কাছে টাকা নাই তাই সড়কটি সংস্কার করা যাচ্ছেনা। অন্যদিকে ঠিকাদারের অবহেলায় সড়কটি সংস্কার না হলেও পেকুয়া প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী জাহেদুল ইসলাম চৌধুরীর সময়ও যেন নাই সড়কটি দেখার।সড়কটি সংস্কার না করার প্রসঙ্গে স্থানীয়দের পক্ষে রেজাউল করিম মিন্টু, সমাজ সেবক শিমুল চৌধুরী, বাহার উদ্দিন, শিক্ষক মাঈনুল ইসলাম চৌধুরী, ছাত্র ইশতিয়াক হোছাইন, মাইদুল ইসলাম, ব্যবসায়ী নুরুল আবছার ও বাদশা বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে এলাকাবাসীর দুঃখ লাগবে সড়কটি সংস্কার করার জন্য দুই কোটি টাকার মত বরাদ্ধ দেন। সংস্কার করার জন্য ইট খুলে নেয় ঠিকাদার। কিন্তু ৬মাস হয়ে গেলেও সড়কটি সংস্কার হয়নি। আমরা বারবার ঠিকাদার শাহেদের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, টাকার অভাবে সড়কটির কাজ শুরু করা যাচ্ছেনা। অথচ ইট খুলে নেওয়ার আগে সড়কটি দিয়ে চলাচল করতে পারতাম আমরা। এখন সমস্ত যোগাযোগ বন্ধের সাথে সাথে মহেশখালীর উন্নয়ন প্রকল্পের মালামাল নেওয়াও বন্ধ রয়েছে। আমরা সড়কটির কাজ দ্রুত শুরু করার দাবী জানাচ্ছি।স্থানীয় চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সড়কটি সংস্কার না করায় আমি উন্নয়ন সভায় অভিযোগ উত্থাপন করেছি। আগামী পরশুদিন আবারো অভিযোগ জানাব। না হলে মন্ত্রানালয়ে লিখিত অভিযোগ জানাব।ঠিকাদার মাঈন উদ্দিন শাহেদের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, কাজটি আমার অসুবিধার কারণে শুরু করা যায়নি। এক সপ্তাহের ফিনিশিং গাড়ি নিয়ে এসে কাজ শুরু করা হবে।স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর পেকুয়া কার্যালয়ের প্রকৌশলী জাহেদুল ইসলাম বলেন, আমি ঠিকাদারকে বারবার অনুরোধ করেছি কাজটি শুরু করার জন্য। কাজ শুরু না করায় তার বিরুদ্ধে লিখিত আকারে অভিযোগ করা হবে। আমরা এক সপ্তাহের ভিতর কাজ শুরু করবো।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।