২০ জুলাই, ২০১৯ | ৫ শ্রাবণ, ১৪২৬ | ১৫ জিলক্বদ, ১৪৪০


 নারী পুলিশ সদস্য না থাকায় বেকায়দা পুলিশ:

ঈদগাঁওতে মাদক ব্যবসায় পুরুষের চেয়ে নারীরা এগিয়ে

কক্সবাজার সদরের বৃহত্তর ঈদগাঁওতে মাদক ব্যবসায় নারীদের কাজে লাগাচ্ছে পর্দার আড়ালে থাকা গডফাদাররা। স্থানীয় সূত্র ও সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো তালিকায় এ ধরনের একাধিক মহিলার নাম রয়েছে। মাদক ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহন কাজ পুরুষদের চেয়ে নারীদের দিয়ে করানো কম ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে মাদক ব্যবসায়ীরা নারীদেরই বেছে নিচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মূলত পরিবারের পুরুষ সদস্যদের হাত ধরেই মাদক ব্যবসায় নামে নারীরা। অর্থের লোভ দেখিয়ে চরম ঝুঁকিপূর্ণ ও অনৈতিক এক জীবনের দিকে হয় তাদের। এক পর্যায়ে আর ফেরার পথ থাকে না। মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়া নারীদের অনেকেই জানে না পুলিশের হাতে ধরা পড়লে জেল জরিমানা হতে পারে। পাশাপাশি রয়েছে সামাজিকভাবে হেয় হওয়ার আশঙ্কাও। অনেকে সব কিছু জেনে-বুঝেই শুধু সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় নিরুপায় হয়ে অবৈধ কাজে জড়িত হয়।দরিদ্র মহিলাদের পাশাপাশি মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে ধনাঢ্য পরিবারের মহিলারাও। ঈদগাঁওয়ের বিভিন্ন এলাকায় অনেক কলোনী,ফ্ল্যাট, বাড়া বাসা ও নিজস্ব বসত ঘর থেকে মাদকের রমারমা বিকিকিনি চলছে। এমনকি বাদ যাচ্ছে না স্কুল, কলেজের ছাত্রীরাও। পরিবারের অগোচরেই তারা ধীরে ধীরে মাদকের অন্ধকার জগতে হারিয়ে যাচ্ছে। মাদক ব্যবসায় নারীরা জড়িয়ে পড়ায় নারী সংক্রান্ত ঘটনা বাড়ারও আশংকা করেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয় সচেতন ব্যক্তি, প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়িয়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যে মাদক পৌঁছে দেয়া,হাত বদল,বিক্রির ক্ষেত্রে পুরুষদের চেয়ে নারীরাই বেশি সক্ষম। কারণ নারীদের তেমন একটা সন্দেহের চোখে দেখা হয় না। অনেক নারী বোরকা পরে মাদক বহন করে। সুস্পষ্ট অভিযোগ না থাকলে পুলিশের পক্ষে এসব নারীকে চ্যালেঞ্জ করা খুবই কঠিন কাজ। ফলে এসব নারী এরকম বিনা বাধায় দিব্যি মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। ঈদগাঁওতে নারী পুলিশ সদস্যা না থাকায় আরো বেশি বেপরোয়া বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। বৃহত্তর ঈদগাঁওতে বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে নারীরা। সম্প্রতি একজন জনপ্রতিনিধি ও সচেতন কয়েকজন ব্যক্তি বাদী হয়ে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের আইজিপি, দুদক, ডিআইজিসহ একাধিক দপ্তরে করা অভিযোগে ৭ জন নারীর নাম সুস্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে।পোকখালী ইউনিয়নের পূর্ব পোকখালী ছরার কাছা এলাকার পুরাতন মাদক ব্যবসায়ী বর্তমানে মালয়েশিয়া প্রবাসী জসিম উদ্দিনের স্ত্রী সুফিয়া বেগম, ফরিদুল আলম প্রকাশ গাঁজা ফরিদের স্ত্রী কামরুননাহার। ঈদগাঁও ইউনিয়নে দরগাহ পাড়া এলাকার সিরাজুল হক প্রকাশ ডাকাত সিরাজের স্ত্রী জমিলা, এজাহার ফকিরের ছেলে ইয়াছিনের স্ত্রী মনি, মধ্যম মাইজ পাড়ার নুরুল কবির মিস্ত্রীর স্ত্রী ছলিমা খাতুন,চৌফলদন্ডী দক্ষিন পাড়া এলাকার কালা মিয়ার মেয়ে মায়নি, জালালাবাদ ইউনিয়নের তেলী পাড়া এলাকার নুরুল হকের স্ত্রী জাহেদা বেগম, নুরুল আলমের স্ত্রী মরিয়ম, মৃত শামশুল আলমের পারভীন আক্তার, শফি আলমের স্ত্রী মোরশেদা বেগম,মৃত লাল মিয়ার স্ত্রী ছায়েরা খাতুন,ইসলামবাদ ইউনিয়নের হরিপুর এলাকার শামশুল আলমের স্ত্রী রেহেনা আক্তারসহ অনেক নারী মুলত বৃহত্তর ঈদগাঁওতে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রন করছে । ঈদগাঁওয়ের বিভিন্ন স্থানে গজিয়ে ওঠা কলোনী, বাড়া বাসা, ফ্ল্যাট বাসা মাদক ব্যবসার পাইকারি বাজার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।ঈদগাঁও গরু বাজার, নতুন রাস্তার মাথা, দরগাহ পাড়া, জাগির পাড়া, সওদাগর পাড়া, বাঁশঘাটা, শাহ ফকির বাজার,পূর্ব গোমাতলীর বর্মাইয়া পাড়া এলাকায় আরো একাধিক নারী মাদক ব্যবসায় জড়িত রয়েছে বলে সমাজ সর্দার, মাতব্বর, জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত মোঃ আসাদুজ্জামান বে-বেঙ্গল নিউজকে বলেন, বিভিন্ন এলাকায় বেশ কিছু নারী মাদক ব্যবসায়ীর নাম শোনা যাচ্ছে। তদন্ত কেন্দ্রে নারী পুলিশ সদস্য না থাকায় পুরুষ সদস্য দিয়ে তল্লাশি করাও কঠিন বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। ইতিমধ্যে মাননীয় পুলিশ সুপার মহোদয়কে নারী পুলিশ সদস্যার বিষয়ে জানানো হয়েছে।নারী পুলিশ সদস্য দেওয়া হলে অল্প সময়ের মধ্যে ঐসব নারী মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনা যাবে।এদিকে সচেতন ঈদগাঁওবাসী বৃহত্তম বানিজ্যিক ও সম্ভাবনাময়ী এলাকায় নারী পুলিশ সদস্য মোতায়েন করে নারী মাদক ব্যবসায়ীদের আটক পূর্বক আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি ও মাদক মুক্ত করার জন্য পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।