২৪ জুলাই, ২০১৯ | ৯ শ্রাবণ, ১৪২৬ | ২০ জিলক্বদ, ১৪৪০


ফুলছড়ি রেঞ্জের আওতাধীন ২০ কোটি টাকার বনভুমি দখল করেছে তিন দলীয় জোট

কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের চকরিয়া খুটাখালী ফুলছড়ি বনবিটের অধীনে অন্তত ২০ কোটি টাকা মুল্যের বনভুমি দখল করেছে আ.লীগ, বিএনপি ও জামায়াত মিলে তিন দলীয় জোটের নাম দিয়ে একটি দখলবাজ চক্র। বুধবার সকালে ফুলছড়ি রেঞ্জ ও বিটের বনকর্মীদের ম্যানেজ করেই ওই বনভুমিতে ১০টি ঘরও নির্মাণ করেছে।আর্দশিক ভাবে ভিন্নমত হলেও জমি দখলে আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, বিএনপি, যুবদল, ছাত্র দল ও জামায়াত মিলে একাকার হয়ে গেছে।তবে বনবিভাগের দাবী, প্রাথমিক অবস্থায় সকালে দশটি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে যাওয়ার সময় দখলবাজরা ফুলছড়ি রেঞ্জ ও বিটকর্মীদের ধাওয়া করে। পরে দুপুরের দিকে পুলিশ ও বনকর্মীরা যৌথ অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে।এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের ফুলছড়ি রেঞ্জাধীন ফুলছড়ি বনবিটের ২০০৪-২০০৫ সালে অংশীদারিত্ব বনায়নের প্রায় ১৫/২০ একর বনভুমি সশস্ত্র অবস্থায় দখলে নেয় একদল দখলবাজ চক্র।প্রত্যক্ষর্দশীরা জানান, দখল কাজে নেতৃত্ব দিয়েছেন স্থানীয়  আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, যুবদল, বিএনপি ও জামায়াতে কিছু নেতা কর্মী।ফুলছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা সৈয়দ আবু জাকারিয়া বলেন, সরকারী বন ভুমি দখল করার উদ্দেশ্যে বুধবার সকালে অবৈধ ভাবে ১০টি স্থাপনা নির্মাণ করে। দখলকৃত বনভুমির আনুমানিক দাম ১০ কোটি টাকা হবে।তিনি আরো বলেন, অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছের জন্য বনকর্মীরা অফিস থেকে বের হওয়ার আগ মুহুর্তে ২০-২৫ জন লোক লম্বা কিরিচ, দা ও লোহার নানা সরঞ্জাম নিয়ে বনকর্মীদের উপর হামলার জন্য ঊদ্যত হন এবং সশস্ত্র দখলবাজরা বনকর্মীদের ধাওয়া করে।তিনি আরো জানান, ঘটনাটি বিভাগীয় বনকর্মকর্তাকে ( ডিএফও) অবহিত করা হলে কক্সবাজার সদর সহকারী বন সংরক্ষক বেলায়েত হোসেনের নেতৃত্বে বনবিভাগের বিশেষ টহলদলের ওসি এমদাদ হোসেন, দুই রেঞ্জের বনকর্মী ও ঈদগাঁও তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ দুপুরে অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনাগুলো গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, সরকারী মুল্যবান বনভুমি দখলে নেতৃত্ব দেন ইসলামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান মনজুর আলম। দখলকাজে অংশ নেন, স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, যুবলীগ, আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের নেতা কর্মীরা।তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেন,  ইসলামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি মনজুর আলম।এলাকাবাসীর  ভাষ্যমতে, রাজনৈতিক ভাবে আর্দশ ভিন্ন হলেও সরকারী বনভুমি দখলে তিন দলের নেতা কর্মীরা একট্টা হয়ে যাওয়ায় প্রকৃত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। এর আগে একই দখলবাজ চক্র তিনটি ঘর নির্মাণ করেছিল। সেই সময়ও অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করেছিল।কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) হক মাহবুব মোর্শেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ অবৈধ ভাবে নির্মিত বাড়িগুলো পুলিশ ও বনকর্মীরা উচ্ছেদ করেছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।