২১ জুলাই, ২০১৯ | ৬ শ্রাবণ, ১৪২৬ | ১৭ জিলক্বদ, ১৪৪০


পেকুয়ায় খালে অবৈধ বাঁধ দিয়ে চিংড়ি চাষ ১৫ গ্রামের ৫০ হাজার মানুষ পানি বন্দি

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার পেকুয়া সদর ইউনিয়নে ‘মানার বাপের খাল’ নামের একটি প্রবাহমান খালে এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে চিংড়ি চাষ করায় বন্যার পানি বের হতে পারছে না। এতে পেকুয়ার ১৫ গ্রামের ৫০ হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। কয়েক হাজার ঘরে বন্যার পানি উঠে গেছে। খালে অনেকগুলো জাল বসিয়ে রাখার কারণেও পানি বের হতে বিলম্ব হচ্ছে। এলাকাবাসি ওই খালের অবৈধ বাঁধগুলো কেটে দিয়ে ও খালের জাল গুলো উঠিয়ে নিয়ে লোকালয় থেকে বন্যার পানি বের করে দেয়ার দাবী জানিয়েছে।  সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পেকুয়া সদর ইউনিয়নের বিলাহাছুরা, ছিরাদিয়া, মইয়াদিয়া, জালিয়াখালী, গোয়াখালী, পশ্চিম গোয়াখালী, বক্সু চকিদার পাড়া, বটতলী পাড়া, নন্দীর পাড়া, বাজার পাড়া, হরিণাফাড়ি, গোয়াখালী টেকপাড়া, সাগর পাড়া, বাইম্যাখালী, বলিরপাড়া, মোরারপাড়া, চৈরভাঙ্গা, সরকারী ঘোনা, উত্তর মেহের নামা, সাবেক গুলদিঘি, পূর্ব মেহের নামা এখন ৪/৫ ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার সহ¯্রাধিক বসতঘরে ইতোমধ্যে বন্যার পানি উঠে গেছে।
এলাকার অনেক টিউবওয়েল পানিতে ডুবে যাওয়ায় খাবার পানি সংকট দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসি জানায়, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও উজানের দিকের কয়েকটি স্লুইচ গেট দিয়ে মাতামুহুরী নদী থেকে পাহাড়ী ঢলের পানি পেকুয়া সদর ইউনিয়নের লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। পেকুয়া সদর ইউনিয়নের পশ্চিম ছিরাদিয়ায় সোনাজানি পাড়ার বেড়িবাঁধের স্লুইচ গেটটি দিয়ে পানি বের করার সুযোগ থাকার পরও খালে অবৈধ বাঁধ দেয়ার কারণে পানি বের হতে পারছে না। এলাকাবাসি জানায়, পেকুয়া সদর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আজম খান ও কয়েকজন বিএনপি নেতা একটি সিন্ডিকেট গঠন করে মানার বাপের খালে ওই বাঁধগুলো দিয়ে পুরো খালটি চিংড়ি ঘের বানিয়ে নিয়েছে। ওই খালটিতে প্রায় ১০টি অবৈধ বাঁধ রয়েছে। অবৈধ বাঁধগুলোর মধ্যে কয়েকটি বাঁধ উপচে পানি চলাচল করতে পারলেও পশ্চিম ছিরাদিয়ার সোনাজানি পাড়ার স্লুইচ গেটটির সামনের বাঁধটির কারণে পানি বের হতে পারছে না। বিলাহাছুরার মইয়াদিয়া এলাকার আসকর আলী জানান, বাঁধ গুলো কেটে দেয়া না হলে পেকুয়া সদর ইউনিয়নে বন্যার পানি ঘরের চাল ছুঁইয়ে যাবে।
নন্দীর পাড়ার স্লুইচ গেট সহ আরও কয়েকটি স্লুইচ গেটে জাল বসিয়ে রেখে পানি চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও এলাকাবাসির অভিযোগ রয়েছে।  বুধবার মেহের নামা উচ্চ বিদ্যালয়সহ অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্যার পানি উঠেছে। কিছু কিছু বিদ্যালয় অঘোষিত ভাবে পাঠদান বন্ধ হয়ে গেছে। গ্রামীন অবকাঠামোর অধিকাংশ রাস্তা ৩/৪ফুট পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। এ কারণে এলাকার মানুষ চলাফেরাও করতে পারছে না। আমনের বীজ তলাগুলোও পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়াও গুলদি খালসহ আরও কয়েকটি খালের বাকে বাকে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল জাল বসিয়ে মাছ ধরছে। জাল বসিয়ে মাছ ধরার কারণেও পানি বের হতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। খালে অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকাতা ও জাল বসিয়ে পানি চলাচলে বাঁধা সৃষ্টি করার বিষয়টি পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহবুবুল আলমকে জানানো হলে তিনি বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।