২১ জুলাই, ২০১৯ | ৬ শ্রাবণ, ১৪২৬ | ১৭ জিলক্বদ, ১৪৪০


ঈদগাঁও থেকে উদ্ধার হওয়া অভিভাবকহীন দুই বোনের আশ্রয় হল পূর্ণবাসন কেন্দ্রে!

কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁহ বাস স্টেশন থেকে উদ্ধার হওয়া নির্যাতিত দুই শিশু বোনের অবশেষে আশ্রয় হয়েছে কক্সবাজার শেখ রাসেল শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে। ঈদগাঁহ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ইনচার্জ) ও পুলিশ পরিদর্শক মোঃ আসাদুজ্জামান ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাজী আবুল বাশারের আন্তরিকতায় আশ্রয়হীন দুই বোনে শেষ ঠিকানা হলো ওই পুনর্বাসন কেন্দ্র। বুধবার (১০ জুলাই) বিকালে এই দুই বোনকে পুনর্বাসন কেন্দ্র কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দেন ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা।
ঈদগাঁহ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ওই দুই কর্মকর্তা জানান, এই দুই শিশুর কোন অভিভাবক এগিয়ে না আসায় তাদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ চিন্তা করে এ পুনর্বাসন কেন্দ্রে তাদের হস্তান্তর করা হয়। তারা বলেন, আশা করি তারা সরকারি এই সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করে পড়ালেখার মাধ্যমে নিজেদের অনিশ্চিত জীবনকে আলোকিত জীবনের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে চেষ্টা করবে। উদ্ধারের পর পুলিশ তাদের অভিভাবকের হাতে তুলে দিতে গণমাধ্যম কর্মী ও সামাজিক গণমাধ্যমের আশ্রয় নেন ঈদগাঁহ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও কোন অভিভাবক যোগাযোগ না করায় পুলিশ এই উদ্যোগ নেন। পুলিশের এই আন্তরিক উদ্যোগের সংবাদ স্থানীয় জনসাধারণ জানতে পেরে প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কক্সবাজার সদরের ব্যস্ততম ঈদগাঁও বাসষ্টেশন থেকে কান্নারত অবস্থায় শিশু দুই কন্যাকে উদ্ধার করে ব্যবসায়ী ও পথচারীরা। এ সময় ১৪ ও ১২ বছর বয়সী শিশু দুটি নিজেদের তানিয়া ও নিহা নামের দুই বোন বলে পরিচয় দেয়।
তারা নিজেদের চকরিয়া পৌরসভার ফুলতলা গ্রামের হাশেম ও রশিদার সন্তান বলে পরিচয় দেয়। তাদের বাবা কয়েক বছর আগে সাগরপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। মা পরে নতুন স্বামী গ্রহণ করে তাদের ছেড়ে ওই স্বামীর ঘরে চলে যান। সেই থেকে তাদের দেখাশুনার মতো কেউ নেই। পরে এক আত্মীয় দুই বোনকে ঈদগাঁহ’র রিনা আক্তার স্বামী সলিম নামের এক ভাড়াটিয়ার বাসায় কাজের মেয়ে হিসেবে দুই বোনকে দিয়ে যান। এরপর থেকে গৃহকত্রী দুই বোনকে প্রায় সময়ই নির্যাতন করতো। উদ্ধার হওয়ার দিনেও নির্যাতন সইতে না পেরে দুই বোন পালিয়ে বাস স্টেশনে পৌঁছায়। তবে ওই ভাড়াটিয়ার বাসা কোন স্থানে তা নিশ্চিত করে বলতে পারেনি তারা। পরে উদ্ধারকারীরা কান্নারত দুই বোনকে ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে আসেন।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।