১৬ জুলাই, ২০১৯ | ১ শ্রাবণ, ১৪২৬ | ১২ জিলক্বদ, ১৪৪০


রামুতে পাহাড়ি  ঢলে কচ্ছপিয়া-ফুলতলী সড়ক বিচ্ছিন্ন  হওয়ায় এলাকাবাসীর চরম দূর্ভোগ

রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের গর্জনিয়া বাজার-বালুবাসা-ডাক্তারকাটা-নাইক্ষ্যংছড়ির ফুলতলী সীমান্ত সড়কটি পাহাড়ি ঢলের কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এ মাসের শুরু থেকে টানা বর্ষণে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলে সড়কটির সুইচ গেইট এলাকা ভেঙ্গে গেলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। ছোটজাংছড়ি খালের এ অংশে পরিত্যক্ত সুইচ গেইটের দরজা বন্ধ থাকায় এ খালের গতি পরির্বতন হয়। খালের মাঝখানে নির্মিত ৮টি দরজা সমেত সুইচ গেইটটির দরজা খোলা থাকলে পানি স্বাভাবিক চলাচল করতে পারতো। এখন দরজা গুলো অব্যবহৃত-পরিত্যক্ত ও বন্ধ। পানি খাল দিয়ে যেতে না পেরে গ্রামের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এ পরিস্থিত সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগিরা। তারা বলেন,  গ্রামের ৩ শত বছরের সড়কটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় শুধু অবহেলার কারণে। ফলে এ সড়কে চলাচলকারী অর্ধলক্ষাধিক মানুষের দূর্ভোগ ও ক্ষোভ দিনদিন বাড়ছে সংশ্লিষ্টদের উপর। ৭নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার হারু মিয়া ও স্থানীয় সমাজ সেবক শব্বির আহমদ জানান, সড়কটি দিয়ে শুধু কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের ১০ গ্রামের মানুষ চলাচল করে তা নয়। এর বাইরেও বাংলাদেশ-মিয়ানমার ফুলতলী,বামহাতিছড়া-লম্বাশিয়া-ভালুকখাইয়া সীমান্ত পয়েন্টগুলোর যাতায়াত এ সড়ক দিয়েই হয়। এ ছাড়া হাজার হাজার একর কৃষি জমির চাষ, পাহাড়ি বনজ সম্পদ বেচা-বিক্রি-পরিবহন, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সবজির বাজার জাতকরণ, স্কু ল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম এ সড়ক। এ অবস্থায় চললে রোগিদের হাসপাতালে নেয়ার বিষয়টি মানবতাকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। স্থানীয় গ্রামের বাসিন্দা মালেকুজ্জামান, শতবর্ষী বৃদ্ধ কালাম বকসু পচাঁত্তরোর্ধ আবদুল আজিজসহ অনেকে জানান, তাদের দাদা, পরদাদারা সকলে এ সড়কের যাত্রি। মিয়ানমার সীমাান্তে বিজিবি’র সদস্যরা যায় এ রাস্তা দিয়ে। কিন্তু তাদের এ সড়কে কাটা হয় পরিত্যক্ত সুইচ গেইট। এটি ছোটজাংছড়ি খালের মাঝখানে র্নির্মিত। পানি যাওয়ার কোন ব্যবস্থা নেই। শুষ্ক মৌসূমে গেইটের পাশের ভেঙ্গে যাওয়া অংশ বাঁধ দেয়া হয় জিও ব্যাগ দিয়ে। কিন্তু অপরিকল্পিতভাবে বসানো এ ব্যাগ বর্ষা মৌসূমের শুরুতেই নড়বড়ে হয়ে এক পর্যায়ে ভেঙ্গে যায়। কেননা একদিকে সুইচ গেইটের দরজা বন্ধ অপর দিকে জিও ব্যাগের বাঁধ। যেন ঢলের পানি বন্ধ করার জন্যে কল বসানো হয়। যা এলাকাবাসীর গলার কাটায় পরিনত হয় এক পর্যায়ে। শেষাবধি গত সপ্তাহ দেড়েকের টানা বৃষ্টিতে জিও ব্যাগগুলো ভেসে গিয়ে পাশের গ্রামের ভাঙন শুরু হয়। ফলে পাহাড়ি ঢলের প্রথম ধাক্কাতেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে বালুবাসার এ সড়কটি। এ বিষয়ে রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রনয় চাকমা জানান, বিষয়টি এলজিইডি’র উপজেলা প্রকৌশলীকে সাথে নিয়ে বালুবাসার ওই ভাঙন দেখেই ব্যবস্থা নেবেন। যেন এলাকার মানুষ কষ্ট না পান।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।