২৩ আগস্ট, ২০১৯ | ৮ ভাদ্র, ১৪২৬ | ২১ জিলহজ্জ, ১৪৪০


এক মানবিক পুলিশ কর্মকর্তার আন্তরিকতায় জীবন ফিরে পেল মোর্শেদ

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পুলিশের গুটি কয়েকজন সদস্যদের কারনে পুরো একটি বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন ও দায় দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেন অনেকেই। কিন্ত বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে রয়েছে অহরহ মানবিক ও দায়িত্বশীল ভালো পুলিশ সদস্য।যেমননি একজন লিটনুর রহমান জয়, সবার কাছে তিনি জয় নামে পরিচিত। কক্সবাজার সদর মডেল থানার আওতাধীন ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে সহকারী উপ পরিদর্শক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বে রয়েছে। তদন্ত কেন্দ্রের প্রাক্তন ও বর্তমান ইনচার্জের দিক নির্দেশনায় অপরাধ নিয়ন্ত্রনে রয়েছে তার অসীম সাহসিকতা। রাষ্ট্রীয় কাজ করতে গিয়ে একাধিকবার সন্ত্রাসীদের রোষানল থেকে ফিরে এসেছে। বয়ে এনেছে পুলিশ বাহিনীর  গৌরবান্বিত সম্মান,ঐতিহ্য। মাদক ব্যবসায়ী, ডাকাত, শীর্ষ সন্ত্রাসী, গরু চোর, অপহরনকারী, ছিনতাইকারীসহ সমাজের নানা অপরাধে জড়িতদের আটক করে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছে।তৎমধ্যে সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেপ্তারের সংখ্যা রয়েছে অর্ধ শতাধিক।

তাছাড়া অপহরণ জোন খ্যাত ঈদগাঁও ঈদগড় সড়কের পূর্বে গহীন জঙ্গল থেকে  অপহৃত আবু তালেব, আবদু শুক্কুর , মুজিবকে মুক্তিপণ ছাড়া উদ্ধার করে অভিভাবকদের হাতে তুলে দেয়। এর আগে তাদের উদ্ধার করে প্রাথমিকভাবে চিকিৎসাও করান এ পুলিশ  কর্মকর্তা।সবচেয়ে চ্যালেঞ্জের বিষয় জাতীয় নির্বাচনের আগে নাশকতাকারীদের কাছে একজন মূর্তিমান জয় নামের পরিচয় বহন করে। রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের পাশাপাশি মানবিক কাজও করতে দেখা গেছে এএসআই লিটনুর রহমান জয়কে। গত বছরের ৪ ই ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক সাড়ে ৯ দিকে সদর উপজেলার চৌফলদন্ডী খামার পাড়ার মাঝামাঝি  সিকদার পাড়া  সড়কে মোর্শেদ নামের এক টমটম চালককে জবাই করে টমটম ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালায় দূর্বৃত্তরা। সে সময় তার শোর চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে উদ্ধার পূর্বক ঈদগাঁওস্থ একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে আসে। তার ক্ষতবিক্ষত কাটা গলা থেকে অতিরিক্ত রক্ষক্ষরণ হচ্ছে,হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে রেফার করে দিয়েছে। অপরিচিত যুবক কেউ ছিনতে পারছে না, তার মুমূর্ষু অবস্থা দেখে ভয়ে কেউ এগিয়ে আসছে না, এমন কি তার  উদ্ধারকারীরা শুদ্ধ ভয়ে হাসপাতালের নিচে রেখে চলে যায়। সবাই তার গলাকাটা ছবি তুলতে ব্যস্ত, আবার অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভে ব্যস্ত। ঠিক সে মুহূর্তে  খবর পেয়ে হাসপাতালে নিচে যান লিটনুর রহমান জয়।পুলিশ দেখে উপস্থিত লোকজন স্বাক্ষী, ঘটনার বিবরনী জানানোর ভয়ে সরে  যায়। এমন কঠিন সময়ে কাউকে পাননি জয়, স্থানীয় একজন সাংবাদিকের সহযোগিতায় নিজেই যানবাহনের ব্যবস্থা করে কুলে তুলে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করান।

অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় মোর্শেদকে চমেকে প্রেরণ করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। এএসআই লিটনুর রহমান জয়ের এমন মানবিক  ভুমিকার সংবাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচিত হয়।দরিদ্র পরিবারের ছেলে মোর্শেদ অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে না পারার শংকায় এএসআই লিটনুর  রহমান  জয় নিজেই  আর্থিক ফান্ড গঠন  করে অর্থ সংগ্রহ  করে তার বাবার হাতে তুলে দিয়েছিল। সে সময় অনেকেই তাকে নিয়ে পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বলের  জন্য লিটনুর রহমান জয়কে মানবিক পুলিশ উপাধি দেয় এবং অনন্য পুলিশ কর্মকর্তা বলে অবহিত করেন স্থানীয়রা।জবাইয়ের শিকার যুবক মোর্শেদ ঈদগাঁও ইউনিয়নের শিয়া পাড়া এলাকার ছৈয়দ আলমের ছেলে।হত্যার চেষ্টাকারী ঈদগাঁও মন্ডল পাড়া এলাকার ছৈয়দ আহমদের ছেলে জয়নালকে এখনো খুজছে এএসআই জয় । শুধু এটা নয় আরো অহরহ মানবিক কাজ করেছে বলে জানা গেছে। ঈদগাঁওতে  দায়িত্ব পালনকালে তার হাতে সবচেয়ে বেশি গ্রেপ্তার হয়েছে সাজাপ্রাপ্ত আসামী। ১৫/২০ বছর ধরে পলাতক সাজাপ্রাপ্ত আসামীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে।ওয়ারেন্ট তামিল করেছে অসংখ্য জন পলাতক আসামীর।  এক সাথে ৭ টি মামলায় সাজা ও অন্য ৪ টি মামলার ওয়ারেন্ট নিয়ে পলাতক ছিল ইসলামপুর ইউনিয়নের মধ্যম নাপিতখালী এলাকার মৃত আবদু করিমের পুত্র মাষ্টার  জহির আহমদ প্রকাশ জহির মাষ্টার।দীর্ঘ বছর পলাতক থাকার পর  গোপন  সংবাদের ভিত্তিতে তাকেও গ্রেপ্তার করে জয়ের নেতৃত্বে একদল  পুলিশ।

শুধু  জহির মাষ্টার নয়, ১৫ বছর ধরে পলাতক থাকা ১৭ বছরের অস্ত্র মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামী  পূর্ব নাপিতখালী  গ্রামের  আলম, ১২ বছর ধরে পলাতক অস্ত্র মামলার ১০ বছরের   সাজাপ্রাপ্ত আসামী ভারুয়াখালী ঘোনা পাড়া এলাকার মফিজুর রহমানের ছেলে বাবুল, ১৫ বছর ধরে পলাতক ১৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত চৌফলদন্ডী উত্তর পাড়ার কালু মিয়ার ছেলে মোফাচ্ছেলসহ বিভিন্ন মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে। সাজাপ্রাপ্ত আসামীর পাশাপাশি ইসলামাবাদের একাধিক মামলার আসামী জিকু,মোর্শেদ, কলিমউল্লাহ,শীর্ষ সন্ত্রাসী ভাদিতলার সাহাব উদ্দীন,বোয়ালখালীর মিজানুর রহমান প্রকাশ মিজান, নাপিতখালীর সাফায়েতসহ অর্ধ শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী, শীর্ষ সন্ত্রাসী, দাঙ্গাবাজ, অপহরণকারী, ডাকাতকে আটক করে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছে লিটনুর রহমান জয়।

জানতে চাইলে সহকারী উপপরিদর্শক লিটনুর রহমান জয় বলেন, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানবিক কাজ করতে ভাল লাগে। তাই মানবিক কাজ করি,অসহায় গরীবদের যতটুকু পারি আইনি সহায়তা ও সেবা দিয়ে যায়। কোন কিছুর বিনিময়ে নয়, একমাত্র আল্লাহকে খুশি করতে ভাল কাজ করি। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (ওসি তদন্ত)   মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, লিটনুর রহমান জয় একজন সাহসী ও কর্মপরায়ন পুলিশ সদস্য। আমি যোগদানের পর একাধিক সাজাপ্রাপ্ত আসামীসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত সন্ত্রাসীদের আটক করে আদালতে সোপর্দ করেছে।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।





আপনার মতামত লিখুন :