২১ অক্টোবর, ২০১৯ | ৫ কার্তিক, ১৪২৬ | ২১ সফর, ১৪৪১


বিবিএন শিরোনাম

অনুপ্রবেশ রোধে সতর্ক বিজিবি: ১০৭ রোহিঙ্গা পুশব্যাক

এস.আজাদ: উখিয়া
ukhiaনিজ দেশের রাষ্ট্রীয় বাহিনীর অসহনীয় জুলুমে দিশেহারা রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে জল ও স্থলপথে অবৈধভাবে আবারো বাংলাদেশে ঢুকে পড়ছে। এই অবস্থায় উখিয়া সীমান্ত দিয়ে শুক্রবার অনুপ্রবেশকালে ১০৭জন রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠায় বিজিবি। এছাড়া উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে গত ১ সপ্তাহে প্রায় সাড়ে ৮’শ রোহিঙ্গা নরনারীকে আটক করে সে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে বিজিবি। অনুপ্রবেশে সহায়তাকারী উখিয়া ও টেকনাফে ১০ দালালকে সাজা দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। রাখাইন প্রদেশজুড়ে বিশেষ করে উত্তর মংডুর রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় আতঙ্ক কাটছে না। সে দেশের সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর দমন পীড়ন ও নির্যাতনে কোনঠাসা রোহিঙ্গারা ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছে। নাফ নদী পেরিয়ে অনেকেই এরই মধ্যে ঢুকেছে বাংলাদেশে। আবার নদী ও সাগর জলে ভাসছে নারী-পুরুষ শিশুসহ নিরীহ মানুষবোঝাই অনেক নৌকা। দেশী দালালদের সহযোগিতায় দুর্গম সীমান্ত পথে রাতের আঁধারে অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতনে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ। ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ডেনমার্কের কূটনীতিকগণ আউং সান সুচির সঙ্গে দেখা করে তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। জাতিসংঘ আশঙ্কা ব্যক্ত করে বলেছে, দ্রুততার সঙ্গে সহায়তা না পেলে শিশুসহ অসুস্থ ৩ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গার মৃত্যু হতে পারে। তবে মিয়ানমার সরকারের তরফে দাবি করা হয়েছে, রোহিঙ্গা লবিস্টরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অসত্য সংবাদ ছড়াচ্ছে।
এদিকে, সীমান্তের ওপার থেকে বিভিন্ন সূত্রে এবং এপারে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা নরনারীরা যে তথ্য দিচ্ছে তা লোমহর্ষক এবং অমানবিক। রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়ার পাশাপাশি হত্যার উৎসবে মেতে উঠেছে সে দেশের সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিপি ও রাখাইন মৌলবাদীরা।
মিয়নমার থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বিজিবি, কোস্টগার্ড ও পুলিশ। উখিয়া সীমান্ত থেকে ১০৭ জনকে ফেরত দিয়েছে বিজিবি। গত ১ সপ্তাহে মোট সাড়ে ৮’শ রোহিঙ্গা শরনার্থীকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। টেকনাফ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আবুজার আল জাহিদ জানান, নাফ নদীতে রোহিঙ্গাবোঝাই ৮টি নৌকা প্রবেশের চেষ্টা করার খবর পেয়ে সাগরের টহল দলকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। এরপর বাংলাদেশের জলসীমা থেকে ওই নৌকাগুলো মিয়ানমারের দিকে ফেরত পাঠানো হয়। কক্সবাজারের বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল ইমরান উল্লাহ সরকার জানান, সকালে উখিয়ার কয়েকটি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে রোহিঙ্গারা প্রবেশের চেষ্টা করার সময় তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়। তার মধ্যে ৩০ জন পুরুষ, ২৯ নারী ও ৪৮ জন শিশু।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।





আপনার মতামত লিখুন :