১৯ আগস্ট, ২০১৯ | ৪ ভাদ্র, ১৪২৬ | ১৭ জিলহজ্জ, ১৪৪০


অবশেষে এমপিওভুক্ত হচ্ছে ২৭৬২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

অবশেষে নয় বছর পর নতুন করে এমপিওভুক্ত হচ্ছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। জুনের মধ্যে যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম ঘোষণা দেয়া হবে। কার্যকর হবে আগামী ১ জুলাই থেকে। তবে কতটি প্রতিষ্ঠান এমপিও পাবে তা এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট করা হয়নি।এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসাইন বলেন, এমপিওভুক্তির কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। যে কোনো সময় ঘোষণা করা হবে।জানা গেছে, ২ হাজার ৭৬২ স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা এমপিওভুক্তির জন্য যোগ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে। নীতিনির্ধারকদের ইচ্ছা, সবগুলো প্রতিষ্ঠানকেই স্বল্প পরিসরে হলেও এমপিওভুক্ত করা হোক।১০ এপ্রিল সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালেও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমন ইঙ্গিতই দিয়েছেন। তবে পরে নানা বিশ্লেষণে ধাপে ধাপে এমপিওভুক্তির বিষয়টি চূড়ান্ত আলোচনায় ওঠে আসে।সে অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৭৯৬টি প্রতিষ্ঠানের ভাগ্য খুলতে পারে। তবে বিষয়টি নির্ভর করছে নতুন প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে অর্থ প্রাপ্তি এবং পরবর্তী বছরে সেই বরাদ্দ অব্যাহত রাখার ওপরে।সর্বশেষ ২০১০ সালের জুনে ১ হাজার ৬২৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়েছিল। এরপর এমপিওভুক্তির দাবিতে বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন হয়েছে। কিন্তু সরকার নতুন প্রতিষ্ঠানকে এমপিও দিতে পারেনি। সেই হিসেবে নয় বছর পর ফের নন-এমপিও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা এমপিওভুক্ত হতে যাচ্ছেন।নতুন প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়াও শুরু হয় ১ বছর আগে ২০১৮ সালের ১২ জুন। সেদিন এমপিওবিহীন বেসরকারি স্কুল ও কলেজ এমপিওভুক্তকরণের নীতিমালা এবং জনবল কাঠামো জারি করা হয়। এরপর একে একে মাদ্রাসা এবং কারিগরি প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা নীতিমালা প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে জাতীয় নির্বাচন চলে আসে। নির্বাচন সামনে রেখে শিক্ষকরাও দাবি আদায়ে রাজপথে নামেন।তখন শিক্ষকদের শান্ত করতে গত আগস্টে নীতিমালা অনুযায়ী এমপিওবিহীন প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে অনলাইনে আবেদন চাওয়া হয়। সরকারি আহ্বানে নন-এমপিওভুক্ত ৯ হাজার ৬১৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তখন আবেদন করে। কিন্তু এত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কোনটিকে রেখে কোনটি বাদ দেয়া হবে, আর বাদ দিলে নির্বাচনের আগে শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন আশঙ্কায় আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দেয়া তথ্য যাচাইয়ের নামে বিলম্বের কৌশল নেয়া হয়। কিন্তু সেই তথ্য যাচাই ছাড়াই এমপিওভুক্ত করা হচ্ছে বলে সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। এ ব্যাপারে অবশ্য মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলতে রাজি হননি।এদিকে উল্লিখিত সাড়ে ৯ হাজার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২ হাজার ৭৬২টি এমপিও নীতিমালার তিনটি ধারায় বর্ণিত চার যোগ্যতার মানদণ্ড পূরণ করেছে। এগুলোর মধ্যে নিম্নমাধ্যমিক স্কুল ৬১৫টি, মাধ্যমিক স্কুল ৭৯৮টি, উচ্চমাধ্যমিক কলেজ ৯১টি ও ডিগ্রি কলেজ ৪৪টি। এছাড়া আছে দাখিল মাদ্রাসা ৩৬২টি, আলিম মাদ্রাসা ১২২টি, ফাজিল মাদ্রাসা ৩৮টি এবং কামিল ২৯টি। কারিগরি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এসএসসি ভোকেশনাল (হাইস্কুল সংযুক্ত) ১৪৬টি, এসএসসি ভোকেশনাল (স্বতন্ত্র) ৪৮টি, দাখিল মাদ্রাসা (সংযুক্ত) ২টি, এইচএসসি (ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা, সংযুক্ত) ৮৯টি, এইচএসসি (ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা, স্বতন্ত্র) ২৩৫টি এবং কৃষি ডিপ্লোমা ইন্সটিটিউট ৬২টি। চার শর্ত হচ্ছে, প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক স্বীকৃতি, শিক্ষার্থীর সংখ্যা, পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এবং পরীক্ষায় পাসের হার। প্রতিটি মানদণ্ডের জন্য ২৫ নম্বর রাখা হয়। তবে স্বীকৃতিতে ছাড় না দিলে প্রতিষ্ঠান সংখ্যা আরও কমে ২ হাজার ৭৫৬টি হয় বলে জানা গেছে।শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, যেসব প্রতিষ্ঠান এমপিওর জন্য আবেদন করেছে এর সবগুলোকে এমপিওভুক্ত করলে ৪ হাজার ৩৯০ কোটি ১২ লাখ ৫ হাজার টাকার প্রয়োজন। আর যদি যোগ্য বিবেচিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিও দেয়া হয় তাহলে লাগবে ১ হাজার ২০৭ কোটি ৬৬ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। যদি স্বীকৃতির মেয়াদ বিবেচনা না করে এমপিও দেয়া হয় তবে ব্যয় হবে ১ হাজার ২১০ কোটি ৩৭ লাখ ৫৪ হাজার টাকা।এসব বিষয় উল্লেখ করে এমপিওভুক্তির জন্য টাকা চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ইতিমধ্যে অর্থ প্রাপ্তির ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আশ্বাস পেয়েছে। সে অনুযায়ী কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। কাজেই এখন শুধু ঘোষণার অপেক্ষা।নাম প্রকাশ না করে মন্ত্রণালয়ের এক অতিরিক্ত সচিব বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেক অর্থ বরাদ্দের আশ্বাস পাওয়া গেছে। এ কারণে এখন সর্বোচ্চ যোগ্য ১ হাজার ৭৯৬ প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হবে। দাফতরিক কাজ শেষে এখন তারা শিক্ষামন্ত্রীর জন্য অপেক্ষা করছেন। মন্ত্রী বর্তমানে বিদেশে সফরে আছেন। তিনি ফিরলেই ঘোষণা দেয়া হবে।প্রসঙ্গত, বর্তমানে ২৬ হাজার ১৮০টি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত আছে। এর মধ্যে স্কুল ১৬ হাজার ১৯৭টি, কলেজ দুই হাজার ৩৬৫টি, মাদ্রাসা সাত হাজার ৬১৮টি। এ খাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মোট বরাদ্দের ৬৫ শতাংশই ব্যয় হয় বলে জানা গেছে।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।





আপনার মতামত লিখুন :