২৩ আগস্ট, ২০১৯ | ৮ ভাদ্র, ১৪২৬ | ২১ জিলহজ্জ, ১৪৪০


বিবিএন শিরোনাম

অমাবশ্যার জোয়ারে ৩০ গ্রাম প্লাবিত কুতুবদিয়ায়, অর্ধলক্ষ মানুষ পানি বন্দি

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন র্বোড (পাউবোর) কক্সবাজারের ৭১ পোল্ডারের কুতুবদিয়া দ্বীপের ৪০কিলোমিটার বাঁেধর মধ্যে ২০ কিলোমিটার বেঁডিবাধ ভাংগা থাকায় জোয়ারে ঐ সব এলাকার ৩০ গ্রাম প্লাবিত। প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ জোয়ারের নোনা জলে বন্দি হয়ে পড়েছে। এ সব এলাকার শতশত একর ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে।

শুক্রবার (০২আগস্ট/১৯) দুপুরে অমাবশ্যার জোয়ারে প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন শেষে সন্ধ্যায় বড়ঘোপ ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে সংবাদ সম্মেলনে কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট আলহাজ ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, কুতুবদিয়া দ্বীপের আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের কাহারপাড়া,তেলিপাড়া,পশ্চিম তাবলরচর,আনিচের ডেইল, কুমিরারছড়া জেলেপাড়া, বড়ঘোপ ইউনিয়নের অমজাখালী মুরালিয়া,আজম কলোনী, মিয়ারঘোনা,লেমখীখালী ইউনিয়নের সতর উদ্দিন, পেয়ারাকাটা, উত্তর ধূরুং ইউনিয়নের ফয়জানির বাপের পাড়া, আকবরবলী পাড়া নয়াকাটা, কাইছারপাড়া, কুইলারটেক এলাকাসহ ৩ ইউনিয়নের ২০ কিলোমিটার বেঁড়িবাধ সম্পূর্ণ বিলীন থাকায় উক্ত এলাকায় অমাবশ্যার জোয়ারে ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়। এ সব এলাকায় জোয়ারের পানিতে বন্দি মানুষ রান্নাবান্না করতে না পেরে অনাহারে দিন কাটাচ্ছে শতাধিক পরিবার। অনেকে পাশ^বর্তি আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে।

পানি বন্দি এলাকায় খাওয়ার পানির সংকট চরমে। বেড়িবাঁধ ভাংগা থাকায় চলতি বষাঁ মৌসুমে উক্ত ৩ ইউনিয়নের শতশত একর ফসলি জমির চাষাবাদ জোয়ারের নোনা জলে তলিয়ে গেছে। জোয়ারে পানি বন্দি মানুষের জরুরী ভিত্তিতে খাবার বিতরণ ও ইমারজেন্সি বেড়িবাঁধ মেরামত করার জন্য সংশ্লিষ্টি কর্তৃপক্ষের নিকট আহবান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বড়ঘোপ ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আ,ন,ম,শহিদ উদ্দিন ছোটন জানান, মুরালিয়া, অমজাখালী,আজম কলোনী,মিয়ারঘোনা এলাকায় প্রায় ৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভাংগা থাকায় চলতি গেল পূর্ণিমার জোয়ার আর চলমান অমাবশ্যা জোয়ারে নোনা পানি ঢুকে লোকালয়ে ব্যাপক এলাকার প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকায় শতশত ঘরবাড়ি ও পুকুরে নোনা পানি তলিয়ে ড়েছে। কয়েকশত একর ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। বিশেষ করে মুরালিয়া ও অমজাখালী বেড়িবাঁধ ভাংগন এলাকা দিয়ে জোয়ার ঢুকে উপজেলা সদর পর্যন্ত তরিয়ে গেছে।

খবর পেয়ে ইউএনও সুপ্রভাত চাকমা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু জাফর মুহাম্মদ মঈন উদ্দিনকে সাথে নিয়ে প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেন। শুক্রবার দুপুরে অমাবশ্যার জোয়ারে দ্বীপের দুই ডজন গ্রাম প্লাবিত এবং শতশত একর ফসলি জমি জোয়ারের নোনা পানিতে তলিয়ে যাওয়ার বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন।

জোয়ারে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বিষয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড(পাউবো) কুতুবদিয়ার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (শাখা কর্মকর্তা) এলটন চাকমার সাথে কথা হলে তিনি জানান, কুতুবদিয়ার ৭১ পোল্ডারের অধিকাংশ বেড়িবাঁধ মেরামতের আওতায় আনা হয়েছে। প্রায় ১৪ কিলোমিটার স্থায়ী বাঁধ মেরামতের জন্য ৯২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে পাউবো কর্তৃপক্ষ। ঠিকাদার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। চলতি অমাবশ্যায় স্বাভাবিকের চেয়ে জোয়ারের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে আলী আকবর ডেইল, বড়ঘোপ, লেমশীখালী, উত্তর ধূরুং ইউনিয়নের কিছু কিছূ অংশে নতুনভাবে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে জোয়ারের নোনা পানি লোকাøলয়ে উঠে গেলে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি প্লাবিত হয়। এসব ভাংগন বেড়িবাঁধ এলাকা জরুরী ভিত্তিতে (ইমারজেন্সি ওর্য়াক) বেঁড়িবাধ মেরামত করার জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট প্রস্তাব প্রেরন করা হবে বলে জানান।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।





আপনার মতামত লিখুন :