২৬ আগস্ট, ২০১৯ | ১১ ভাদ্র, ১৪২৬ | ২৩ জিলহজ্জ, ১৪৪০


ফছিউর রহমান চৌধুরীকে প্রবীণ রাজনীতিবিদের তালিকাভূক্ত করণের দাবী

আগামী ২৪শে জুন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তৃণমূলের পরীক্ষিত ত্যাগী নেতাদের সংবর্ধনা অনুষ্টানে কক্সবাজারের ২ জন নেতার  তালিকায় ফসিউর রহমান চৌধুরীর নাম অন্তর্ভূক্তির আবেদন। কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতির ইতিহাসে প্রবীন রাজনীতিবীদের মধ্যে ফছিউর রহমান চৌধুরী অনন্য সাধারণ, তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন অনুকরণ করার মত। আজীবন নীতি আদর্শ অবিচল থেকে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে দৃষ্টান্ত স্থাপনে বদ্ধপরিকর। কক্সবাজারে তিনি সকলস্থরের নেতাকর্মীদের মাঝে একজন ত্যাগী ও নিবেদিত আওয়ামী লীগের দক্ষ সংগঠক হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন। আওয়ামী রাজনীতিতে নিজেকে জড়িয়ে নেয়ার পর সেই থেকে তিনি অগ্রভাগে কোন কোন সময় পেছনে থেকেও দলের অনুজ সকলস্থরের নেতাকর্মীদেরকে সাহস দিয়েছেন, পাশাপাশি এতদাঞ্চলের আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম বেগবান করতে ও বিএনপি-জামাত জোটের অপরাজনীতির বিরুদ্ধে দূর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে নেতাকর্মীদের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন। স্বৈরাচার, সাম্প্রদায়িক, অপশক্তির বিরুদ্ধে পরিচালিত লড়াই-সংগ্রামে অর্থবিত্ত বিলিয়ে দিয়ে আজীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করা ব্যক্তি হিসাবে কক্সবাজার অঞ্চলে তিনি দলের জন্য স্বরনীয় অবদান রেখেছেন। ফছিউর রহমান চৌধুরী ইতিমধ্যে ৭৫ বছরে পা রেখেছেন। এই বয়সেও তিনি শাররীক রোগ-সুখ উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগের সভা-সমবেশে উপস্থিত হন। তাঁর এই উপস্থিতি অনেকে অবাক করে। ক্ষমতার রাজনীতি তাকে প্রলুব্ধ করে না, আজীবন বঙ্গবন্ধুর কর্মী পরিচয়ে বেঁচে থাকতে চান। তিনি ১৯৪৬ সালে চকরিয়া উপজেলার পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়নের দরবেশকাটা গ্রামের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। ১৯৬২ সালে তিনি স্কুল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, ১৯৬৫ সালে চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনিষ্টিটিউটের সাংগঠনিক সম্পাদক, ১৯৬৬ সালের পাকিস্থান টোবাকো কোম্পানীর শ্রমিক লীগের ক্রিড়া ও সাস্কৃতিক সম্পাদক ও ছয় দফা আন্দোলনের কর্মী, ১৯৬৮ সালে বিহারীদের (পাক সেনা) অত্যাচারে চাকুরী থেকে অব্যহতি নিয়ে চকরিয়া আওয়ামী লীগের সংগঠকের দায়িত্ব পালন, ১৯৬৯ সালে এস.কে শামশুল হুদা ও ডা. শামশুদ্দীনের নেতৃত্বে চকরিয়া আওয়ামী লীগের সহ-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন, ১৯৭০ এর সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে বিজয়ী করতে তিনি সাধ্যমত অর্থ সহযোগীতা দেন। একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধদের সহায়তায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনে জনে চাঁদা তুলে মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে জমা দেওয়া, ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ভূমিকা রাখেন। একই সঙ্গে ১৯৭৩ সাল থেকে প্রায় ২২(বাইশ) বছর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি তিনি  ৫(পাঁচ) বছর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। একই সঙ্গে তিনি ৩(তিন) বছর বৃহত্তর পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়ন বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ পরবর্তী রাজনৈতিক দূঃসময়ে জীবনের ঝুকি নিয়ে আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করা, ১৯৭৯ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের মিছিলে অংশ গ্রহন করে নেতৃত্ব প্রদান। ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগকে ২১ বছর পর রাষ্ট্র ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে তিনি কক্সবাজার অঞ্চলে নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে অনন্য ভূমিকা পালন করেন। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি-জামাত জোট সরকার ক্ষমতায় আসলে তিনি ও তাঁর পরিবার-পরিজন রাজনৈতিক ভাবে প্রতিহিংসার শিকার হন। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে জোট আমলে তাঁর অনেক সম্পদ দখলে নেন বিএনপি’র লোকজন। এমনকি মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে পরিবার সদস্যরা পালিয়ে থাকেন। এতসব অত্যাচার জুলুম-নির্যাতনের পরও আওয়ামী লীগের সুসময়ে এসে ফছিউর রহমান চৌধুরী দলের কাছে কোন ধরনের প্রতিদান প্রত্যশা করেনি। সবকিছু বিসর্জন দিয়ে তিনি আজ-অবধি সততা ও নিষ্ঠার সাথে জীবন-মৃত্যুও সন্ধিক্ষণে এসেও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে ও দলের সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অবিচল থেকে আওয়ামী লীগের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তিনি বর্তমানে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের উপদেস্টা।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।





আপনার মতামত লিখুন :