১৯ আগস্ট, ২০১৯ | ৪ ভাদ্র, ১৪২৬ | ১৭ জিলহজ্জ, ১৪৪০


বিবিএন শিরোনাম

কক্সবাজারের কুতুপালং রোহিঙ্গা বাজারে অর্ধ শতাধিক রোহিঙ্গা ডাক্তার

কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন বাজারে ব্যাঙের ছাতার মত ঔষুধের দোকান ও প্যাথলজির ব্যবসার নামে চলছে অপচিকিৎসা।কুতুপালং রোহিঙ্গা বাজার কেন্দ্রিক ঔষুধের দোকান খুলে স্থানীয় পরিচয়ে ডাক্তারী চিকিৎসা করছে এখন অর্ধশতাধিক রোহিঙ্গারা। যারা ডাক্তারের আদলে বেশভূষায় যন্ত্রপাতি নিয়ে চেম্বার করছে।তেমনি রোকসানা ফার্মেসীর আড়ালে নানা ডিগ্রী লাগিয়ে হরদম অপচিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছে রোহিঙ্গাদের আহামরি ডাক্তার খোরশেদ।কুতুপালং বাজারের অলিতে গলিতে অবৈধ ভাবে ঔষুধের ফার্মেসী খুলে রোহিঙ্গারা নিজেদের বাংলাদেশী সেঁজে ভূঁয়া পরিচয় দিয়ে চিকিৎসার নামে অবৈধ পন্থায় হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। এতে প্রতারিত হয়ে স্বাস্থ্য হানিতে পড়েছে রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি স্থানীয় কুতুপালং গ্রামসহ কয়েকটি আশে-পাশে গ্রামের লোকজন।এসবের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরদারী এবং দেখ ভাল না থাকায় এখন রোহিঙ্গারা স্থানীয় দাবী করে বিভিন্ন চলচাতুরী আশ্রয় নিয়ে ও জাল সনদ তৈরি করে নিজেদের নামের আগে চিকিৎসা পত্রের প্যাডে ও ডিজিটাল সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে ডাক্তার লিখে অবাধে ঔষুধ বিক্রি করে যাচ্ছে।কথিত ডাক্তার খোরশেদ ডাক্তারের পাশাপাশি নিজেকে রোহিঙ্গা কমিউনিটির লম্বা নেতাও দাবী করে।কখনো রোহিঙ্গাদের হেড মাঝি,আবার কখনো চেয়ারম্যান, এমন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ে তাঁর ব্যাপক পরিচিতি ও শক্তিশালী যোগসুত্র রয়েছে এমনই অজুহাতে নানা অপকর্ম জাহিঁর করে থাকে।খোরশেদের বিরুদ্ধে ইয়াবা সম্পৃক্ততা,মানবপাচার,মিয়ানমার কেন্দ্রিক চোরাই ব্যবসা ও হুন্ডি বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ রোহিঙ্গা ডাক্তারেরা দীর্ঘ যুগ-যুগ ধরে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নামে বেনামে ট্রেড লাইসেন্স ও নাগরিক সনদ নিয়ে এবং অন্যজনের নামে থাকা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকের ডিপ্লোমা সনদ এলএমএএফ, ডিএমএডি, এমএফ, আরএমপি সনদ এবং ভূঁয়া সনদ বানিয়ে ডাক্তারী নামের এই মহা মানবসেবামূলক পেশাকে কলংকিত করছে এমন অভিযোগ উঠেছে সচেতন মহলের পক্ষ থেকে।এসব ভূঁয়া চিকিৎকরা আনতাজ করে ও মনগড়াভাবে ঔষুধ লিখে রোগীদের হাতে চিকিৎসা পত্র তুলে দিয়ে থাকে এবং বিভিন্ন নিম্নমানের মেডিসিন ধরিয়ে দিচ্ছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ, শিশুসহ এলাকার মানুষের হাতে। এসব অপচিকিৎসার ফলে শরীরের উল্টো ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে নিরহ অসচেতন লোকজন। বার্মাইয়া ডাক্তারদের বিরুদ্ধে ও ঔষুধের দোকান গুলো সরজমিন তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাবী জানিয়েছেন উখিয়া নাগরিক অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি রফিকুল ইসলাম।তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্প কেন্দ্রিক যেসব অশিক্ষিত ভূঁয়া রোহিঙ্গা ডাক্তার ও আনাড়ি চিকিৎসকরা যত্রতত্র দোকান খুলে চিকিৎসার নামে ভূল চিকিৎসা করে মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি করছে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের দ্রুত বিহীত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।এদিকে কুতুপালং বাজারে যেসব ভূঁয়া রোহিঙ্গা ডাক্তারের হদিস পাওয়া গেছে তারা হল, কুতুপালং ক্যাম্প ইনচার্জ অফিসের দক্ষিণে পুলিশ ব্র্যাকের পেছনে ডাক্তার খোরশেদ আলমের ফার্মেসী, প্রধান সড়কের ব্রীজের কোনায় ডাক্তার সেলিমের ফার্মেসী, ক্যাম্প ইনচার্জ অফিস সংলগ্ন সড়কে ডাক্তার জিয়াবুল হক, প্রকাশ ইয়াবা জিয়াবুলের পীর আউলিয়া ফার্মেসী, প্রধান সড়কের পূর্ব পাশে ডাক্তার নুরুল আমিনের আকবর ফার্মেসী, প্রধান সড়কের রাস্তার পূর্ব পাশে এডভোকেট ছমি উদ্দিনের মালিকানাধীন দোকানে ডাক্তার জয়নালের বিউটি ফার্মেসী,সে ইতিমধ্যে বাংলাদেশী সেজে আইডি কার্ড বানিয়েছে, কুতুপালং ক্যাম্পের পুলিশ ব্যারাকের পেছনে ডাক্তার ইয়াছিনের মনজুর ফার্মেসী। এধরনের অসংখ্যা ফার্মেসী খুলে বার্মাইয়ারা ঔষুধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বেআইনি ভাবে।এসব অজ্ঞ ডাক্তারেরা চিকিৎসার নামে রোহিঙ্গাদের হাতে তুলে দিচ্ছে নিষিদ্ধ ঘোষিত নিম্নমানের ইত্যাদি ঔষুধ। কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থানকারী নতুন-পুরাতন আশ্রিত রোহিঙ্গা গোষ্ঠীর মাঝে বিভিন্ন চিকিৎসার নামে ডাক্তার দাবী করে রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে রাত-দিন হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে কথিত ভূঁইফোড় ডাক্তারেরা।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাশে কুতুপালং বাজারে ও কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের দুই পাশে এবং লম্বাশিয়া বাজারে। অন্তত শতাধিক ঔষুধের দোকান রয়েছে নামে বেনামে। প্রায় ৫০ টির মত ফার্মেসীতে ঔষুধ বিক্রি ও চিকিৎসা করছেন বাংলাদেশী সেঁজে কথিত রোহিঙ্গা ডাক্তারেরা। এসব ফার্মেসীর হদিস মিলে কুতুপালং ক্যাম্পের চর্তুর পাশে।এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান রবিন চৌধুরী বলেন, কুতুপালং বাজারসহ ক্যাম্পের ভিতরে বাইরে ও ঔষুধের দোকান খুলে যারা নিজেদের ডাক্তার দাবীকরে ভূঁয়া কাগজপত্র নিয়ে ঔষুধ বিক্রি করছে তাদের ব্যাপারে অভিযোগ থাকায় ইতিপূর্বে একাধিক বার মোবাইল পরিচালনা করে অর্থ ও জেল উভয় দন্ডে দন্ডিত করেছি ফার্মেসী এবং কথিত ডাক্তারদের। ইতিমধ্যে অনেক রোহিঙ্গার মধ্যে এইডস রোগ পাওয়া গেছে।সুতরাং রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে শংকিত হয়ে পড়েছি। আর ফার্মেসী খুলে অনেকেই একটা ইনজেকশনের সিরিজ ২-৩ বার ব্যবহার করছে এমন অভিযোগ আমার কাছে রয়েছে। আগামী মাসিক আইন শৃংখলা কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে আমরা যৌথ অভিযান চালিয়ে এসব ভূঁয়া ডাক্তার ও ফার্মেসীর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল খায়ের বলেন, কুতুপালং বাজারে যারা অবৈধ ভাবে যেসব ফার্মেসী ও প্যাথলজি সেন্টার খুলে রোহিঙ্গারা স্থানীয় ডাক্তার পরিচয়ে চিকিৎসার নামে ভুল চিকিৎসার মাধ্যমে মানুষের স্বাস্থ্য হানি ঘটাচ্ছে সে ব্যাপারে অতি দ্রুত ড্রাগ প্রশাসন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্বনয়ে প্রশাসনিক অভিযান চালিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেব।

 

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।





আপনার মতামত লিখুন :