২১ অক্টোবর, ২০১৯ | ৫ কার্তিক, ১৪২৬ | ২১ সফর, ১৪৪১


বিবিএন শিরোনাম

কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি : পর্যটন শহরে উচ্চশিক্ষার আশার আলো

যে অঞ্চলের দানে আজ বাংলাদেশ বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের দেশ, লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয় দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উচ্চাসনে সমাসীন এবং মৎস্য,লবণ আর রাবার উৎপাদনে জাতীয় উন্নয়নে অংশীদার তদুপরি সাগর-নদী-পাহাড়ের অপূর্ব যোজনায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর সে অঞ্চলের নাম কক্সবাজার। দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার প্রথম মন্ত্রী শিক্ষাবিদ খান বাহাদুর জালাল উদ্দীন আহমদ চৌধুরী (১৮৮২-১৯৫৭) গুরা মিঞা চৌধুরী (১৮৭০-১৯৩৪) খান সাহেব মকবুল আলী চৌধুরী (১৮৭০-১৯৪৭) সাবেক পার্লামেন্টারিয়ান খতীবে আজম মাওলানা ছিদ্দীক আহমদ (১৯০৩-১৯৮৭) সমাজসেবক জাফর আহমদ চৌধুরী (১৯০৩-১৯৭৭) গোল্ড মেডেলিস্ট মাওলানা মুজহের আহমদ (১৯১২-২০০৫) ও কবি নুরুল হুদার জন্মভূমি কক্সবাজারে শিক্ষা-সংস্কৃতির বিকাশে কালান্তরের ঘূর্নিপাকে শত শত কলেজ-মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হলেও বিংশ শতাব্দী অবধি কোন বিশ্বমানের উচ্চ বিদ্যাপীঠ প্রতিষ্ঠার চিন্তা-ভাবনা কারো মাথায় আসেনি। বর্তমান শিক্ষা বান্ধব সরকারের যুগান্তকরী সিদ্ধান্তের আলোকে ২০১৩ সালে রাজনীতিবিদ ও শিল্পোদ্যাক্তা সালাহ উদ্দীন আহমদ সিআইপি ও শিক্ষানুরাগী লায়ন মুহাম্মদ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয় কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (সিবিআইইউ)।

কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার গোড়ার কথা
দেশের একেবারে দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্ত জেলা কক্সবাজার। আর্থ-সামাজিক ও ভৌগলিকভাবে এর গুরুত্ব অপরিসীম। সবচে বড় কথা হলো, দেশের পর্যটন রাজধানী খ্যাত এ জেলা শহরে পৃথিবীর নানান প্রান্ত হতে ফিবছর ভ্রমণ-পিপাসুরা ছুটে আসে। তাদের আনন্দ-বিনোদনের সব আয়োজন রয়েছে এখানে। সমুদ্রের অথই জলরাশিতে গা ভাসাতে তরুণ-তরুণীর উপচে পড়া ভীড় এখানকার পরিবেশকে অন্যরকম আমেজে ভরিয়ে দেয়। দেশ-বিদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের পদভারে মুখরিত ২০ লক্ষাধিক নাগরিকের জেলা শহরে কোন উচ্চ বিদ্যাপীঠ না থাকাই ছিল এখানকার সবচে বড় অপূর্ণতা। উচ্চশিক্ষায় আগ্রহীদের ¯œাতক ও ¯œাতকোত্তর পড়াশোনার জন্য পাড়ি জমাতে হতো অন্য শহরে, ঢাকা কিংবা চট্টগ্রামে। এযাবতকালে কক্সবাজারে সবই ছিল, ছিল না কেবল একটি বিশ্ববিদ্যালয়। এই শূণ্যতা পূরণে উদ্যোগ গ্রহণ করেন কক্সবাজারের উপকূলীয় উপজেলা পেকুয়ার কৃতি সন্তান লায়ন মুহাম্মদ মুজিবুর রহমান। তিনি গত তিন দশক ধরে দেশ-বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রসারে ব্যাপৃত থাকায় নিজের লব্ধ অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়কে ধাপে ধাপে উন্নতির উচ্চাসনে নিয়ে চলেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি ও ডিপার্টমেন্টসমূহ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যটন শহরের কলাতলী মোড়ে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। এর পরপরই ভর্তি ও ক্লাস কার্যক্রম শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান অনুষদের মধ্যে রয়েছে বিজনেস স্টাডিজ, ল‘, সাইয়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ও আর্টস এন্ড সোস্যাল সাইয়েন্স। এসব অনুষদের আওতায় উল্লেখযোগ্য ডিপার্টমেন্টগুলো হচ্ছে বিবিএ, ইংলিশ, সিএসই,এলএলবি,হসপিটালিটি এন্ড টুরিজম ম্যানেজমেন্ট ও ইসলামিক স্টাডিজ। এসব ডিপার্টমেন্টে বর্তমানে আন্ডার গ্রাজুয়েট ও পোস্ট গ্রাজুয়েট কোর্সে ১৫০০ ছাত্রছাত্রী ছাত্রছাত্রী অধ্যয়ন করছে। এছাড়া লাইব্রেরী সাইয়েন্সে ডিপ্লোমা ও পোস্ট ডিপ্লোমা, কম্পিউটার সাইয়েন্সে ডিপ্লোমা ও পোস্ট ডিপ্লোমা এবং ইংলিশ ও কম্পিউটার সাইয়েন্সে সার্টিফিকেট কোর্স রয়েছে। এসব কোর্সের ফি সকল শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের সাধ্যের মধ্যে রাখা হয়েছে।

ভর্তির নিয়মাবলী ও সুযোগ-সুবিধা
কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬ মাস মেয়াদী সেমিস্টার পদ্ধতিতে সামার ও অটাম সেশনে কোর্স কার্যক্রম পরিচালিত হয়। প্রতি বছর সামার সেমিস্টার জানুয়ারিতে আর অটাম সেমিস্টারের ক্লাস জুলাইতে শুরু হয়। আন্ডার গ্রাজুয়েট ও ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তির জন্য এস.এস. সি ও এইচ.এস.সিতে ২.৫০ জিপিএ থাকা প্রয়োজন। পোস্ট গ্রাজুয়েট ও পোস্ট ডিপ্লোমায় ভর্তির ক্ষেত্রেও এস.এস. সি ও এইচ.এস.সি ‘র সাথে ডিগ্রি/অনার্সে একই জিপিএ তথা ২.৫০ থাকতে হবে। মুক্তিযোদ্ধা ও উপজাতীয় সন্তানদের ক্ষেত্রে ভর্তির যোগ্যতা শিথিলযোগ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম ও ক্যাম্পাস জুড়ে ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক ইনফরমেশন লাভের সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য এ বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে সুবর্ণ সুযোগ। এখানে এস.এস.সি ও এইচ.এস.সি কিংবা সমমান পরীক্ষায় এ-প্লাসধারীদের জন্য ১০০% স্কলারশিপ সুবিধা রয়েছে। একই পরিবারভূক্ত সন্তানদের ক্ষেত্রে দুই বা ততোধিক শিক্ষার্থী ভর্তি হলে সেমিস্টার ফিতে তাদের জন্য বিশেষ ছাড় রয়েছে। তাছাড়া মুক্তিযোদ্ধা কৌটায় ৩% শিক্ষার্থীকে সম্পূর্ণ ফ্রিতে অধ্যয়নের সুযোগ দেয়া হয়। মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা সেমিস্টার ফাইনালে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান লাভ করে তারা সেমিস্টার ফি থেকে ৫০%- ৩০% ছাড় পেয়ে থাকে।

কো-কারিকুলাম কার্যক্রম
কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে একাডেমিক কারিকুলামের পাশাপাশি রয়েছে কো-কারিকুলাম কার্যক্রম ও মুক্তচিন্তার বিকাশে নানান উদ্যোগ। শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার নিমিত্তে রয়েছে সুপরিসর লাইব্রেরী ও কম্পিউটার ল্যাব। সুবিশাল লাইব্রেরীতে বিষয়ভিত্তিক দেশ-বিদেশী প্রচুর বই ও জার্নাল পাওয়া যায়। শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও চিত্ত বিনোদনের জন্য রয়েছে কালচারাল ক্লাব, বিজনেস ক্লাব, সাইয়েন্স ক্লাব, ল্যাংগুয়েজ ক্লাব, আইইএলটিএস কোর্স, মুটিং ক্লাব,আইসিটি ক্লাব ও স্পোর্টস ক্লাব । দেশীয় ও জাতীয় দিবসসমূহ এখানে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়। ছাত্র-শিক্ষকের গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রয়েছে স্বতন্ত্র একটি রিসার্চ এন্ড পাবলিকেশন্স সেকশন।এখানে প্রতি সেমিস্টারেই একাডেমিক ও সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে নানান সেমিনার-সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করা হয়। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে প্রতি বছর বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, নবীন বরণ ও ফেয়ারওয়েল অনুষ্ঠান, সেমিস্টার পার্টি, ইফতার মাহফিল, বৃক্ষ রোপণ অভিযান, মাদক বিরোধী ক্যাম্পিং ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়।

ভবিষ্যত পরিকল্পনা
কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উদ্যোক্তা ও ট্রাস্টি বোর্ডের সেক্রেটারী লায়ন মুহাম্মদ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কর্মকান্ড সম্পর্কে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব ক্যাম্পাসে স্থানান্তরে আমরা ব্যাপক ইমারত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। এতে রয়েছে প্রশাসনিক ও ফ্যাকাল্টি ভিত্তিক আলাদা আলাদা একাডেমিক ভবন,দেশী-বিদেশী ছাত্র-শিক্ষকের জন্য আলাদা ডরমেটরি, অডিটোরিয়াম, মসজিদ ও খেলার মাঠ। কলাতলী মোড়ে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২.৫০ একর জমিতে এসব ভবন নির্মাণের কাজ সুচারুভাবে এগিয়ে চলছে। গবেষণা হলো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ। দেশী-বিদেশী শিক্ষাবিদদের সম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে একটি উন্নতমানের গবেষণাগার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও আমাদের রয়েছে। স্বাস্থ্যকর পরিবেশে কম খরচে উচ্চশিক্ষার অবারিত সুযোগ সৃষ্টি করাই আমাদের লক্ষ্য”।

উপসংহার
আমাদের দেশের রাজধানী ঢাকা, বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম, এর পরেই যে রাজধানীর কথা উঠে আসে তা হলো পর্যটন রাজধানী আর এটি কক্সবাজারকেই অভিহিত করা হয়। এ পর্যটন রাজধানীতে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এতদিনকার সময়ের দাবি ছিল। লক্ষ লক্ষ দেশী-বিদেশী পর্যটকের ভারে মুখরিত দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় এ পর্যটন শহরে ‘কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সে দাবী আজ পূরণ হলো। জেলার ২০ লক্ষাধিক নাগরিক তার জেলা সদরেই স্বল্প খরচে মুক্ত হাওয়ায় উচ্চশিক্ষার সুবর্ণ সুযোগ লাভ করলো। শিক্ষাপ্রেমিক ধীমান ট্রাস্টি বোর্ড ভবিষ্যতে এ বিশ্ববিদ্যালয়কে জ্ঞান-গবেষণায় আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণে নিরন্তর প্রয়াস চালাবে-সেটাই এখন সবার প্রত্যাশা।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।





আপনার মতামত লিখুন :