১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | ৩ আশ্বিন, ১৪২৬ | ১৭ মুহাররম, ১৪৪১


বিবিএন শিরোনাম

কুতুবদিয়ায় যৌথ উদ্যোগে বাঁধ নির্মাণ

বাঁধ নির্মাণে পাউবোর ব্যর্থতার কারণে কুতুবদিয়া দ্বীপের শতশত পরিবার গৃহহারা হয়ে নিঃস্ব। এ সব পরিবারের হাজার হাজার মানুষ খোলা আকাশের নীচে বসবাস করে মানবেতর জীবন যাপন করছে। সাগরের জোয়ার ভাটায় মানুষের জীবন মরণ নিয়ে খেলছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। বিগত কয়েক বছর ধরে বঙ্গোপসাগরের জোয়ারে কক্সবাজার জেলার পাউবোর উপকূলের ৭১ পোল্ডারের কুতুবদিয়া দ্বীপের ৪০ কিলোমিটার বেড়িবাঁেধর মধ্যে ২০ কিলোমিটার বাঁধ ভাঙ্গা থাকায় ঐ সব এলাকায় প্রতিদিন জোয়ার ভাটা বসছে। প্রতি অমাবশ্যা ও পূর্ণিমার জোয়ারের স্্েরাতের সাথে ভেসে যাচ্ছে শতশত পরিবার। এসব ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে দ্বীপের মানুষ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের প্রতি আস্থাহীন হয়ে এলাকাবাসী,জনপ্রতিনিধি ও এনজিওর যৌথ উদ্যোগে বড়ঘোপ ইউনিয়নের মুরালিয়া গ্রামের এক কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ কাজ করেছে।

কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট আলহাজ ফরিদুল ইসলাম চৌধূরী,বড়ঘোপ ইউপির চেয়ারম্যান আ,ন,ম, শহীদ উদ্দিন ছোটন, উপজেলা আ’লীগের সভাপতি আওরঙ্গজেব মাতবর, যুবলীগের আহবায়ক আবু জাফর ছিদ্দিকী,ছাত্রলীগের সভাপতি খোরশেদ আলমসহ সম্মিলিতভাবে জোয়ার ঠেকাতে বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করে। তন্মধ্যে এলাকাবাসী জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের উদ্যেগকে স্বাগত জানিয়ে তাদের সাথে সামিল হয়ে উন্নয়ন কাজের জন্য পাঁচ লাখ টাকা অর্থিক সহযোগিতা দিয়েছে কোস্ট ট্রাষ্ট এনজিও। এ ছাড়াও অনেকে আর্থিক সহযোগিতা করেছে। বর্ষার জোয়ার ঠেকাতে বাঁশের বেড়ার মাঝে মাটি ফেলে বাঁধ নির্মাণ করেছে উদ্যাক্তারা। গত এক সপ্তাহে মুরালিয়া এলাকায় এক কিলোমিটার জোয়ার ঠেকানো বাঁধ নির্মাণ কাজ শেষ করেছে বলে জানিয়েছেন বড়ঘোপ ইউপির চেয়ারম্যান আ,ন,ম,শহীদ উদ্দিন ছোটন। তিনি আরো জানান,একই ধরণের অমজাখালী ভাঙ্গন বেড়িবাঁধ এলাকায় জোয়ার ঠেকানোর বাঁধ নির্মাণ কাজ চলমান।

বর্ষা মৌসুমে মুরালিয়া, অমজাখালী ভাঙ্গন বেড়িবাঁধ এলাকায় জোয়ার ঠেকানোর বাঁধ দেয়ায় ঐ এলাকার প্রান্তিক কৃষকরা নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করেছে বলে কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট আলহাজ ফরিদুল ইসলাম চৌধূরী জানান। তিনি আরো জানান, জোয়ার ঠেকানোর জন্য দ্বীপের কুমিরারছড়া, জেলে পাড়া, পশ্চিম তাবলরচর,কাহার পাড়া, বাতিঘর পাড়া, কাইছারপাড়া, নয়াকাটা, চরধুরুং,সতর উদ্দিন,ক্রসডেম এলাকায়ও আপাতত এ ধরণের বাঁধ নির্মানের কাজ চলছে। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় চলতি বর্ষা মৌসুমে জোয়ার ঠেকানোর বাঁধ দেয়ার উদ্যেগ হাতে নিয়েছে বলে জানান। ইতিমধ্যে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, স্থানীয় চেয়ারম্যান, রাজনৈতিক ব্যাক্তিদের নিয়ে উপজেলা প্রশাসন ইউএনও সুপ্রভাত চাকমার উদ্যোগে কুতুবদিয়া দ্বীপে কর্মরত এনজিওদের নিয়ে বৈঠক করে এলাকাবাসীর সাথে হাত মিলিয়ে জোয়ার ঠেকানো বাঁধ নির্মাণ কাজে সহযোগিতা করার আহবান করেন। কৃষক কামাল হোসেন জানান, মুরালিয়া এলাকায় জোয়ার ঠেকানো বাঁধ দেয়ায় এ এলাকার শতশত একর ফসলি জমিতে চাষাবাদ হবে। বিগত কয়েক বছর ধরে মুরালিয়া এলাকায় বেড়িবাঁধ ভাঙ্গা থাকায় প্রতি অমাবশ্যা ও পূর্ণিমার জোয়ারে প্লাবিত হতো। বর্তমানে কৃষকরা চাষাবাদের জন্য প্রস্তুুতি নিচ্ছে।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।





আপনার মতামত লিখুন :