১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | ১ আশ্বিন, ১৪২৬ | ১৬ মুহাররম, ১৪৪১


গ্যাস বিস্ফোরণ-আগুন থেকে যেভাবে বাঁচবেন

বিবিএন ডেস্ক:

শীত মৌসুম শুরুর আগেই প্রতি বছর রাজধানীতে আকস্মিক এক বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে এসব বিস্ফোরণের সূত্রপাত বন্ধ রান্নাঘর থেকে।

গ্যাসলাইন লিক হয়ে বের হওয়া গ্যাস থেকেই বিস্ফোরণগুলো ঘটে। এতে ব্যাপকহারে জানমালের ক্ষতি হচ্ছে। গত দেড় বছরে এ ধরনের ২৮টি বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত-দগ্ধ হয়েছেন অন্তত অর্ধশত। বেশির ভাগ ঘটনাই ঘটেছে উচ্চবিত্তদের ফ্ল্যাটে।

ta-gas-spসর্বশেষ গত সোমবার ভোরে গুলশান ২ নম্বর সেকশনের ৭৩ নম্বর সড়কের নাভানা টাওয়ারের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে এ ধরনের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় শরিফা ও বেদনা আক্তার নামে দুই গৃহকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় চিকিৎসাধীন পারভীন আক্তার নামে আরো একজন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আজিমপুর সরকারি স্টাফ কোয়ার্টারে এ ধরনের দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চারজন দগ্ধ হন। এর মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনার ২৯ মার্চ কামরাঙ্গীরচরের একটি বাসায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে দগ্ধ হয়ে মারা যান শিশুসহ ৩ জন। এমন পরিস্থিতিতে সাম্প্রতিক সময়ের এসব ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে সরকার। ফলে কারণ অনুসন্ধানে মাঠে নামে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের বম্ব ডিস্পোজাল ইউনিটের সদস্যরা। তাদের সহায়তা করে সিআইডির ফরেনসিক বিভাগ। পরে তাদের অন্তত পাঁচটি ঘটনার চুলচেরা বিশ্লেষণে উঠে আসে- একটু সচেতনতা অবলম্বন করলে এসব দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব।

রান্নাঘরের চুলা অথবা বদ্ধ ফ্ল্যাট বাসায় আগুন জ্বালানোর আগে ঘরের জানালা দরজা খুলে একটু আলো ও বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করা হলে দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের বম্ব ডিস্পোজাল ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার সানোয়ার হোসেন পরিবর্তনকে জানান, ২০১৩ সালের ২৪ আগস্ট কলাবাগানের ডলফিন গলির ৬৪ নম্বর ভবনের অগ্নিকাণ্ডে মেট্রোসেম গ্রুপের পরিচালক আসমতউল্লাহর মৃত্যু, এরপর ২০১৪ সালের জুনে মুগদার একটি বাসায় সংগঠিত একই ধরনের অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু, ওই বছরের ২১ মার্চ মিরপুরে ১৩ নাম্বারের সি ব্লকের ২২ নাম্বার সড়কের মোতাহারের বাড়ির অগ্নিকাণ্ডে দেড় বছরের শিশু মারুফের মৃত্যু এবং ২০১৫ সালের ১০ জানুয়ারি পূর্ব রামপুরার হাই স্কুল রোডরে ৮৪/৯ নাম্বার ভবনের ছয় তলার ফ্লাটে অগ্নিকাণ্ডে গৃহর্কতা পিংকন বণিক ও তার মা গীতা রানীর মৃত্যু প্রায় একই ধরনের দুর্ঘটনায় ঘটেছে।

সবকটি ঘটনার তদন্ত করে দেখা গেছে গ্যাসের লাইন লিকেজ (ফুটো) হয়ে বের হওয়া গ্যাসের কুণ্ডলি থেকে বিস্ফোরণ-অগ্নিকাণ্ড এবং পরবর্তীতে দগ্ধ হওয়ার ঘটেছে।

তিনি বলেন, জমে থাকা এসব গ্যাস শক্তিশালী বোমার চেয়েও ভয়ঙ্কর। রান্নাঘরের পাইপ লিকেজ হয়ে বের হওয়া গ্যাস ধীরে ধীরে তাপ ও চাপ তৈরি করে। এরপর ওই স্থানে কোনো ধরনের দিয়াশলায়ের জ্বলন্ত কাঠি কিংবা বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট হলেই সঙ্গে সঙ্গে তা বিস্ফোরিত হয়ে আশেপাশের বস্তুগুলোকে লণ্ডভণ্ড করে এ ধরনের উচ্চমাত্রার শব্দ তৈরি করে এবং সঙ্গে সঙ্গে সেখানে আগুন জ্বলে ওঠে।

যা মুহূর্তের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে এবং অপূরণীয় ক্ষতি হয়। এছাড়া ফ্রিজ, এয়ার কন্ডিশনারের গ্যাস বিস্ফোরণ থেকেও অগ্নিকাণ্ডের শঙ্কা রয়েছে।

বম্ব ডিস্পোজাল ইউনিটের চৌকশ এই কর্মকর্তার মতে, এ ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেতে শুধু সচেতনতাই নয়, এ জন্য রান্নাঘরের গ্যাস লাইনে লিকেজ রয়েছে কিনা তা নিয়মিত পরীক্ষা করা। পাশাপাশি রান্নাঘরসহ অন্যান্য ঘর যতটুকু সম্ভব খোলামেলা রাখা, বাসা কিছুদিন আবদ্ধ অবস্থায় থাকার পর প্রবেশের পরপরই ঘরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস প্রবেশ করানো এবং বদ্ধ ঘরে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা। পাশাপাশি বদ্ধঘরে দিয়াশলাই জ্বালানো থেকে বিরত থাকা।

তিনি বলেন, এয়ারকন্ডিশনার যুক্ত বাসায় এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার শঙ্কা বেশি থাকে। কারণ ওইসব বাসার দরজা-জানালা সবসময় বন্ধ রাখা হয়। এ কারণে বাইরের আলো-বাতাস প্রবেশ করতে পারে না। একটু সচেতন থাকলেই এসব দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।





আপনার মতামত লিখুন :

error: Content is protected !!