২২ আগস্ট, ২০১৯ | ৭ ভাদ্র, ১৪২৬ | ২০ জিলহজ্জ, ১৪৪০


বিবিএন শিরোনাম
  ●  টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ২ রোহিঙ্গা নিহত   ●  রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হতে পারে আজ   ●  ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে : প্রধানমন্ত্রী   ●  মিয়ানমারে বিদ্রোহীদের হামলায় ৩০ সেনা নিহত   ●  মাতামুহুরী নদী থেকে দুই হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ   ●  চৌফলদন্ডীতে পুলিশের উপর হামলা করে ইয়াবা ব্যবসায়ী ছিনতাই, আহত ২   ●  ঈদগাঁওতে সৌদিয়া পরিবহনের ধাক্কায় বৃদ্ধ নিহত   ●  জালালাবাদ থেকে দুই ইয়াবা ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ   ●  চকরিয়ায় সার্ফারী পার্কে প্রশিক্ষিত হাতির আঘাতে মাহুত নিহত   ●  বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের প্রধান আসামী জিয়াউর রহমানকে ইতিহাস ক্ষমা করেনি-এমপি কমল

চকরিয়ায় অপরিকল্পিত নগরায়ন : পুকুর জলাশয় ভরাট করে নির্মিত হচ্ছে বহুতল ভবন

এম রায়হান চৌধুরী, চকরিয়া
chakaria-pcচকরিয়ায় আবাদি জমি ও পুকুর জলাশয় ভরাট করে চলছে বহুতল ভবন নির্মাণের অলিখিত প্রতিযোগিতা। নিয়ন্ত্রনহীন অপরিকল্পিত নগরায়নের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত বহুতল ভবন ও স্থাপনা নির্মাণ অব্যাহত থাকায় উপজেলার জুড়ে হ্রাস পেতে চলছে আবাদি জমির পরিমান। স্থানীয় প্রশাসন পুকুর জলাশয় ভরাট ও আবাদি জমি দখলের প্রতিযোগিতা বন্ধে কোন ধরণের ব্যবস্থা না নেয়ায় বর্তমানে উপজেলায় কৃষি খাত চরম হুমকির মুখে পড়েছে। জনপ্রতিনিধিসহ সচেতন মহল দাবি করেছেন, অপরিকল্পিত নগরায়নের কারনে উপজেলায় আবাদি জমি সংকটের ফলে আগামীতে চাষাবাদ কমে যেতে পারে। এ অবস্থায় উপজেলায় চরম খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কার সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যবস্থাও হুমকির মুখে পড়েছে। পরিবেশবাদিরা জানিয়েছেন, অপরিকল্পিত পুকুর ভরাট করে বহুতল ভবন নির্মাণের কারনে যে কোন মুহুর্তে এসব স্থাপনা ধ্বসে পড়ে বড় ধরণের দূর্ঘটনার আশংকা রয়েছে।
জানা গেছে, ১৯৯৪ সালে সরকার চকরিয়া উপজেলার বাণিজ্যিক শহর ও উপজেলা পরিষদসহ আশপাশ এলাকা নিয়ে পৌরসভা হিসেবে অনুমোদন দেন। মুলত পৌরসভা ঘোষনার পর থেকে এলাকার আবাদি ও অনাবাদি জমির মুল্য বাড়তে থাকতে চম্বুকগতিতে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের কারনে একই সাথে উপজেলার প্রায় ইউনিয়নের বেড়ে যায় আবাদি জমির মূল্য।
সুত্র জানায়, ১৯৯১ সালের পর ঘূর্ণিঝড় ও ৯৫সালের ভয়াবহ বন্যায় আতংকিত জেলার উপকূলীয় অঞ্চলের অসংখ্য পরিবার নিজ এলাকার জমিজমা ও ভিটেবাড়ি বিক্রি করে চকরিয়া উপজেলায় এসে বসতি স্থাপন শুরু করেন। স্থানীয়দের মতে, এ উপজেলায় বহিরাগত এসব জনগনের অবাদ অবস্থানের কারনে দিনদিন বেড়ে যায় জমির মুল্য। বগিরাগত এসব লোকজন বসতি নির্মাণের জন্য আবাদি জমির পাশাপাশি ক্রয় করতে শুরু করেন পৌরসভা ও উপজেলার প্রায় মৃতপ্রায় পুকুর ও জলাশয়। বর্তমানে আবাদির পাশাপাশি এসব পুকুর ও জলাশয় ভরাট করে নির্মিত হচ্ছে শত শত বহুতল ভবন। অভিযোগ উঠেছে, বসতি নিমার্ণের পুর্বে সংশ্লিষ্টরা সরকারী আইনকেও তোয়াক্কা করছেনা।
জানা গেছে, পৌরসভার হিসাব মতে, ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৭৭ হাজার ৪৯৮ জন নাগরিক স্থায়ী বাসিন্দা বনবাস করছেন এমন সত্যতা নিশ্চিত করলেও পৌরশহরের বেশিরভাগ এলাকায় বগিরাগতরা জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসে বসতি গড়ে তুলে রাতারাতি নাগরিত্ব নিয়ে বসবাস শুরু করছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, বহিরাগত এসব নাগরিকদের অবাদ স্থাপনা নির্মাণের কারনেই মুলত বর্তমানে পৌরসভা ও উপজেলা জুড়ে আবাদি জমি কমে যাচ্ছে। একের পর এক ভরাট হচ্ছে পুকুর ও জলাশয়। এ অবস্থার কারনে উপজেলায় ভবিষ্যতে কৃষি ব্যবস্থা চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
সুত্র জানায়, অপরিকল্পিত নগরায়ন প্রতিরোধে উপজেলা ও চকরিয়া পৌরসভায় আলাদা বিভাগ রয়েছে। এ বিভাগের নকশা অনুমোদন সাপেক্ষে সংশ্লিষ্টদের ভবন নির্মাণ করতে হয়। সূত্র মতে, ২০০৩ সালের পহেলা এপ্রিল প্রনীত বাংলাদেশ সরকারের গেজেট (অতিরিক্ত) অনুযায়ী আবাসিক ভবনের নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে প্রতি ৫শত বর্গফুট স্থাপনার বিপরীতে ফি নির্ধারণ করা হয় তিনশত টাকা। পরবর্তী প্রতি বর্গফুটের জন্য নির্ধারন করা হয় ৪০ পয়সা করে। এছাড়াও বাণিজ্যিক ভবনের নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে ফি’র পরিমাণ দ্বিগুণ করা হয়েছে ওই গেজেটের আদেশে।
অভিযোগ উঠেছে, পৌর এলাকায় নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে সরকারী এ নিয়ম উপেক্ষা করে সংশ্লিষ্টরা জমিনের সম্ভাব্যতা যাচাই বাচাই না করে নকশা অনুমোদন করেন। এতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সাময়িক লাভবান হলেও তাদের অলিখিত এ সুযোগ সুবিধার কারনে অনেকটা বাধাহীন ভাবে বহিরাগতরা আবাদি জমিতেই বহুতল ভবন অট্টালিকা নির্মাণ করে চলছে।
উপজেলা কৃষি বর্গাচাষী সমিতির সভাপতি জানান, অপরিকল্পিত নগারায়নের ব্যাপারে প্রশাসন এখনই ব্যবস্থা না নিলে আগামীতে উপজেলায় চাষাবাদের জমি খুঁেজ পাওয়া যাবেনা। ফলে খাদ্য উদ্বৃত্ত এ উপজেলায় সৃষ্টি হবে চরম খাদ্য ঘাটতি। কৃষি ব্যবস্থার স্বার্থে নিয়ন্ত্রনহীন এ প্রতিযোগিতা বন্ধে জনমত গড়ে তোলতে হবে।
আবাদি জমি কমে যাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো.আতিক উল্লাহ বলেন, বিষয়টি কৃষি খাতের জন্য চরম অশনি সংকেত। এব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনের সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের উদ্যোগ নেয়া হবে।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।





আপনার মতামত লিখুন :