২২ অক্টোবর, ২০১৯ | ৬ কার্তিক, ১৪২৬ | ২১ সফর, ১৪৪১


বিবিএন শিরোনাম
  ●  ঈদগাঁওতে ৭ বছরের ভাতিজিকে ধর্ষনঃ ধর্ষক চাচা আটক   ●  মাদক মামলায় এসআই’র ৫ বছরের কারাদণ্ড   ●  ঈদগাহকে থানা হিসেবে অনুমোদন   ●  কক্সবাজারের সোনাদিয়া দ্বীপে শিল্প-কারখানা স্থাপন নয় : প্রধানমন্ত্রী   ●  কক্সবাজার জেলা কমিউনিটি পুলিশ : সাংবাদিক তোফায়েল সভাপতি, যুবলীগের বাহাদুর সেক্রেটারি   ●  গুজব ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক অনুভূতিতে আঘাত হানা থেকে বিরত থাকুন : ডিসি কামাল হোসেন   ●  কক্সবাজার আদালতে ইয়াবা মামলায় ২ আসামির ৫ বছর কারাদণ্ড   ●  চাল নিয়ে চালবাজি, সদর খাদ্য গুদাম সীলগালা   ●  রামুতে ভূয়া জন্ম সনদে রোহিঙ্গা স্ত্রীকে ভোটার করার চেষ্টা, দম্পতিকে জরিমানা   ●  ইসলামপুরে জুয়ার আস্তানা গুঁড়িয়ে দিল পুলিশঃ  আটক ৬

চকরিয়ায় তামাকের আগ্রাসন থামছে না

চকরিয়া উপজেলার মানিকপুর-সুরাজপুর ইউনিয়নে তামাক চাষের দৃশ্য

মো. নাজমুল সাঈদ সোহেল, চকরিয়া :

চকরিয়ার পাহাড়ী এলাকায় পাহাড়ের পাদদেশের ভূমিতে তামাক চাষের পরিমাণ বেড়েই চলছে। বিশেষ করে উপজেলার পূর্ব প্রান্তে কাকারা, মানিকপুর, সুরাজপুর, বরইতলী, শাহারবিল (মাইজঘোনা) এই সব ইউনিয়ন গুলোতে কম দামে জমি পাওয়া যায় এবং তামাক চুল্লীতে ব্যবহৃত জ্বালানী কাঠের চাহিদা নিকটস্থ পাহাড়ী বনের গাছপালা কেটে মেটানোর সুযোগ থাকার কারণে তামাক চাষ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চকরিয়ায় বর্তমানে ৪০০০ হেক্টরের বেশি জমিতে তামাক চাষ হচ্ছে। তামাক জমির উর্বরতা শোষণকারী ফসল এবং সাধারণত দো-ফসলী ও তিন ফসলী জমিতে তামাক চাষ করা হয় যার ফলে জমির উর্বতা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে।
তামাক উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে ২২ প্রকারের বিভিন্ন ফসল যেমন স্থানীয় ধান, সবজি ও ফলজ জাতীয় ফসলের চাষ হতে মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এতে করে স্থানীয় ফসলের বীজ-ভান্ডার সংরক্ষণ করতে উৎসাহ পাচ্ছেনা কৃষকরা,যারফলে এলাকায় কৃষি জীব-বৈচিত্রের ধ্বংসের সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। তামাক একটি একক জাতীয় শস্য অর্থাৎ এটাকে অন্য কোন শস্যের মিলিয়ে রোপন করা যায় না। উচ্চ মূল্য প্রাপ্তির আশায় কৃষকরা আগ্রাসী একক শস্য উৎপাদন বৃদ্ধির যে অশুভ প্রতিযোগিতায় নেমেছে তা থেকে বেরিয়ে না আসলে এলাকার মাটি পানি ও পরিবেশেরর ব্যাপক ক্ষতি হবে। শুধু তামাক উৎপাদন নয়, তামাক পোড়ানোর চুল্লীতে যেসব জ্বালানী কাঠ ব্যাবহার করা হয় তা যোগান দিতে নির্বিচারে সরকারী রিজার্ভ বনের ও গৃহস্থলীর গাছ কাটা হচ্ছে যা পরিবেশের জন্য হুমকি ও জলবায়ু পরিবর্তনের সহায়ক।
চকরিয়ার মোট আয়তনের ৫০৩৭৪ হেক্টর ভূমি। যারমধ্যে ১৩১৬২ হেক্টর বসতি ও বিভিন্ন রকম স্থাপনাযুক্ত, রিজার্ভ বন ১৩৭০০ হেক্টর , স্থায়ী ফল বাগান ৭০৮হেক্টর, বাগদা চাষভুক্ত ১২৩৭৯ হেক্টর, লবন মাঠ ৮৫৩২ হেক্টর, কৃষিজমি ২২৪২৩ হেক্টর, পতিত জমি ৩৫০ হেক্টর, স্থায়ী পতিত জমি ১৫০ হেক্টর, ফসলি জমি ২২২৭৩ হেক্টর, ফসলি জমির মধ্যে ৬৭০ হেক্টর বছরে একবার, ১২৫০০হেক্টর জমিতে বছরে দুবার এবং ৯১০৩ হেক্টর জমিতে বছরে তিনবার চাষ হয়।
তামাকের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে উপজেলার কাকারা, মানিকপুর, সুরাজপুর, বরইতলী ইউনিয়নে। ১৯৯১ সাল থেকে প্রা ২৬ বছর যাবৎ তামাক চাষ হয়ে আসছে। বেশ কয়েকটি কোম্পানি দীর্ঘদিন যাবৎ এই জনপদে তামাক চাষ ও বিস্তারে চাষীদের উদ্বুদ্ধ করছে।
উপজেলার পূর্ব প্রান্তে কাকারা, মানিকপুর, সুরাজপুর, বরইতলী,শাহারবিল (মাইজঘোনা) ইউনিয়ন সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায়, সবকয়টি তামাক কোম্পানির সহায়তায় ৯ হাজার ৩ শত হেক্টর জমিতে তামাক চাষ করছে। এছাড়া ব্যক্তি উদ্যোগে আরো প্রায় ২ হাজার একর জমিতে তামাক চাষ হচ্ছে। ২০১১ সালে উপজেলা চাষী স্বার্থরক্ষা কমিটির তামাক চাষ বন্ধ ও ন্যায্য দাম পাওয়ার বিষয়ে দেশের কয়েক জেলার আদালতে তামাক চাষের বৈধতা নিয়ে রিট করলে আদালত তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণে রাখতে চকরিয়ার সীমান্তঘেঁষা লামা উপজেলায় ১১ হাজার হেক্টর জমির মধ্যে সর্বমোট ১ হাজার হেক্টর চাষের অনুমতি দেয়। কিন্তু বাস্তবতা এর বিপরীত। সমগ্র চাষাবাদ এলাকা ঘুরে দেখা যায় এক ফসলি, দুই ফসলি ও তিন ফসলি জমি সহ সরকারী রিজার্ভ, নদীর দু’পার তামাক চাষের দখলে।অথছ সরকার তামাক চাষের বিরোধীতা করেও কোন সুফল আসেনি। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি অফিসের অব্যবস্থাপনা চাষীরা তামাক চাষের মহোৎসবে মেতে উঠেছে। বেপরোয়া তামাক চাষের ফলে পরিবেশ ও সমাজের নানা ক্ষতি, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যহানি ও নেশাগ্রস্থতা দিন দিন বেড়ে চলেছে।
জানা যায়, বর্তমানে চকরিয়া উপজেলায় কয়েক সহ¯্রাধিক চাষী তামাক চাষে জড়িত। স্থানীয় কৃষকের অভিযোগ, আমরা ধান ও শস্য চাষে সার চাইলে পাইনা। কিন্তু তামাক চাষীদের প্রয়োজন মত সার দেয়া হয়। সরকারের ভর্তুকির সার তামাকে ব্যবহার করছে। এই বিষয়ে অসাধু সার ব্যবসায়ী ও কৃষি অফিসের দায়িত্বরত কর্মচারীরা জড়িত। উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাজে অবহেলা, দায়িত্ব পালনে অনিহা, কৃষকের সাথে দূরত্ব, সরকারের কৃষি উন্নয়নে গৃহীত নানান প্রকল্প কৃষককে অবহিত না করা, সার ডিলারদের সাথে সখ্যতা তৈরি করে সার বাণিজ্য, কৃষি উপকরণ বিতরণে পক্ষপাতিত্ব, কৃষকদের সাথে নিয়মিত কৃষি সমাবেশ না করা, বীজ বিতরণে অনিয়ম, পণ্য বিপনণে অসহযোগিতাসহ ব্যাপক দুর্নীতির কারণে সিংহভাগ আবাদি জমি ধীরে ধীরে তামাকের দখলে চলে গেছে বলে জানা যায়।
কৃষকেরা জানিয়েছেন, কৃষি পণ্য চাষ করে তেমন কোন সহায়তা পাওয়া যায়না। তাই তারা আগে ধান ও শস্য চাষ করলেও বর্তমানে তামাক চাষে করছে। তামাক কোম্পানীর মাঠ কর্মকর্তারা চাষাবাদে হাতে কলমে তাদের শিক্ষা দেয় এবং নানাবিধ সহায়তা করে। সেই তুলনায় কৃষি বিভাগের সহায়তা অপ্রতুল।
তামাকের আগ্রাসন নিয়ে চকরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার আতিকুল ইসলাম বলেন, তামাক চাষীদের কোম্পানীরা যেই সুবিধা প্রদান করছে, কৃষি অফিস তা দিতে না পারায় তামাকের আবাদ বেড়েছে। ধান ও শস্য চাষে কৃষকদের ফিরিয়ে আনতে নানান পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারী জমি ও রিজার্ভ এলাকায় তামাক চাষ কমিয়ে আনতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে। যেহারে মরণ চাষ তামাক চাষের আবাদ বাড়ছে তা যথারীতি এই জনপদের জন্য হুমকি স্বরূপ। ধান ও শস্য চাষে কৃষকদের ফিরিয়ে আনতে সরকার কর্তৃক স্বল্প সুদে কৃষি ঋণ, কৃষি উপকরণ সহজলভ্য সহ নানান পদক্ষেপ সরকার ইতিমধ্যে গ্রহণ করেছে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।





আপনার মতামত লিখুন :