১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | ৪ আশ্বিন, ১৪২৬ | ১৯ মুহাররম, ১৪৪১


বিবিএন শিরোনাম
  ●  ৯ থেকে ৩০ অক্টোবর উপকূলে মাছ ধরা নিষিদ্ধ   ●  রোহিঙ্গাদের পাসপোর্টে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী   ●  জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ   ●  টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই রোহিঙ্গাসহ নিহত ৩   ●  টেকনাফে জন্ম নিবন্ধন সনদ জালিয়াতির অভিযোগে উদ্যোক্তা সহ আটক ২   ●  পেকুয়ায় ভাড়া বাসা থেকে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার   ●  চকরিয়ায় বন্ধুর ছোটবোনকে ধর্ষণ, যুবক গ্রেফতার   ●  ৩৬ ঘন্টায় বিশ্বজুড়ে ছড়াতে পারে ফ্লু, মারা যেতে পারে ৮ কোটি মানুষ   ●  ঈদগাঁওতে সড়ক ও জনপথ বিভাগের শত কোটি টাকার জমি দখল করে স্থাপনা   ●  টেকনাফে ২১০ টি মিয়ানমারের সীমকার্ড সহ ৩ রোহিঙ্গা আটক

চাকমারকুল মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম পন্ড করতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের হুমকি-দিলেন বহিষ্কৃত শিক্ষক

জেলার ঐতিহ্যবাহি দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চাকমারকুল জামেয়াতুল ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম স্থবির করার লক্ষ্যে মাদ্রাসা ও মসজিদে প্রবেশ করে প্রকাশ্যে হুমকি-ধমকি দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রবিবার (৮ সেপ্টেম্বর) জোহরের নামাজের পর এ ঘটনা ঘটে। মাদ্রাসা পরিচালনার জন্য জোরপূর্বক প্রচেষ্টা চালানো স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানা গেছে। এনিয়ে মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মাঝে চরম ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।
মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা সিরাজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিভিন্ন অনিয়মের কারনে মাদ্রাসা থেকে ইতিপূর্বে বহিস্কার হওয়া শিক্ষক মাওলানা আবদুর রাজ্জাক ও তার সহযোগি নুরুল আলম, সাহাব উদ্দিন এবং ছলিম উল্লাহর নেতৃত্বে আরো ১০/১২ জন ভাড়াটে লোকজন মুসল্লী বেশে জোহরের নামাজে পড়তে আসে। নামাজ শেষ হওয়ার পরই তারা মসজিদের মাইক নিয়ে জোরপূর্বক মাদ্রাসার সকল শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করার ঘোষনা দেয়। এমনকি কোন শিক্ষক-শিক্ষার্থী মাদ্রাসার শ্রেণি কক্ষে পাঠদান করলে তাদের মারধরের হুমকী দেয়া হয়। এসময় মসজিদে আসা স্থানীয় মুসল্লী, মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। আবার নামাজের পরই মাইক নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করায় মুসল্লীরা সুন্নাত নামাজও আদায় করতে পারেনি।
তিনি আরো জানান, ইতিপূর্বে এ চক্রটি মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম অচল করার হীন উদ্দেশ্যে মাদ্রাসার প্রধান প্রবেশ গেইটে তালা দিয়েছিলো। তবে মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদ ও স্থানীয় জনতার সহায়তায় তা প্রতিহত করা হয়। বর্তমানে মাদ্রাসায় পাঠদান সহ সকল কার্যক্রম সুষ্ঠু ও স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু মাদ্রাসার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারিরা একের পর এক ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্ম দিয়ে ঐহিত্যবাহি দ্বীনি প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে উঠে-পড়ে লেগেছে।
জানা গেছে, মাদ্রাসাটি ১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কাওমী মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বাংলাদেশ আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস পটিয়ার তত্ত্বাবধানে ১৯৫৯ সালে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা বোর্ডের আওতায় এ মাদ্রাসা (রেজিস্ট্রেশন নং-৪) পরিচালিত হয়ে আসছে। হুমকি-ধমকি দেয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত মাওলানা আবদুর রাজ্জাক এ মাদ্রাসার সাবেক শিক্ষক। মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করার সময় অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ, নিয়মিত উপস্থিত না থাকা, মাদ্রাসার বিধি বহির্ভূত কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ৭মে তাকে শিক্ষক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু বহিস্কারের পরও তিনি মসজিদ-মাদ্রাসার স্বার্থ বিরোধি বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন। এমনকি সাম্প্রতিক সময়ে তিনি মাদ্রাসার প্রধান প্রবেশ গেইটে তালা লাগিয়ে দিয়ে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কয়েকদফা হুমকি-ধমকি দিয়ে মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম স্থবির করে ঐতিহ্যবাহিন দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে ধ্বঃস্ব করার হীন প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। এ নিয়ে মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে গত ২ জুলাই কক্সবাজার বিজ্ঞ সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা (সিআর-২৩১/২০১৯) দায়ের করেন। এ মামলায় মাওলানা আবদুর রাজ্জাক সহ আরো ৩/৪ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়। অভিযুক্ত আবদুর রাজ্জাক পশ্চিম চাকমারকুল এলাকার মৃত আবদুর রহিমের ছেলে। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধিন রয়েছে। কিন্তু মামলাকে তোয়াক্কা না করে তিনি ফের অপকর্ম শুরু করেছেন।
মাদ্রাসার শিক্ষকরা জানান, প্রতিষ্ঠানটির চলমান সংকট নিরসনে সংসদ সদস্য আলহাজ¦ সাইমুম সরওয়ার কমল দুইজন বিশিষ্ট আলেমেদ্বীনের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কিন্তু মাওলানা আবদুর রাজ্জাক ও তার সহযোগিরা তদন্ত কাজে কোন সহযোগিতা না করে উল্টো প্রভাব বিস্তার করে তদন্ত কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
জেলার বিশিষ্ট আলেমেদ্বীন, রাজারকুল আজিজুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা মোহছেন শরীফ জানান, মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদ বা যে কোন বিষয় নিয়ে দ্বন্ধ¦ সৃষ্টি হলে তা সবার প্রচেষ্টায় সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। কিন্তু কোনভাবে মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত করা উচিত নয়। চাকমারকুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম সিকদার জানান, এভাবে বার বার মাদ্রাসায় এসে হামলা, তালা লাগিয়ে দেয়া ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের হুমকি-ধমকি দেয়ার ঘটনায় জনমনে ক্ষোভের মাত্রা বাড়ছে। একটি ঐতিহ্যবাহি দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ন্যাক্কার জনক ঘটনা কোনভাবেই কাম্য নয়। এ ঘটনায় দোষিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে কঠোর ভূমিকা রাখার আহবান জানিয়েছেন তিনি।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।





আপনার মতামত লিখুন :