১৪ অক্টোবর, ২০১৯ | ২৯ আশ্বিন, ১৪২৬ | ১৪ সফর, ১৪৪১


বিবিএন শিরোনাম
  ●  র‌্যাবের সঙ্গে গোলাগুলিতে যুবলীগ নেতা নিহত   ●  নাইক্ষ্যংছড়ির তিন ইউপির ভোট আজ : বহিরাগত ঠেকাতে বারটি তল্লাশিচৌকি   ●  কক্সবাজারে শতাধিক বৌদ্ধ বিহারে প্রবারণা উৎসব শুরু   ●  আলীকদমে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত ২, আহত ১৩   ●  মহেশখালীতে জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্টিত   ●  আঘাত হেনেছে প্রলয়ঙ্করী টাইফুন, নিহত ১১   ●  রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ করবে সেনাবাহিনী- কক্সবাজারের সেনাপ্রধান   ●  যুবলীগের প্রত্যেককে ভালো মানুষ ও ভালো নেতা-কর্মী হতে হবে : সোহেল আহমদ বাহাদুর   ●  রোহিঙ্গাদের যারা ভোটার করবে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে : অতিরিক্ত সচিব   ●  যুক্তরাষ্ট্রের ব্রুকলিনে বন্দুক হামলা, নিহত ৪

চাকুরি দেওয়ার প্রলোভনে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ এনিন মার্মার বিরুদ্ধে

চাকুরির দেওয়ার প্রলোভনে ফেলে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির সোনাইছড়ি ইউনিয়নের প্রেুছা থোয়াই মার্মা (প্রকাশ এনিন মার্মা) বিরুদ্ধে বিভিন্ন বেকার যুবক ও ছাত্রের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। চাকুরি তো দূরের কথা, উল্টো হুমকি দিচ্ছেন ভুক্তভোগিদের।
অভিযোগ হলো- এনিন মার্মাকে প্রথম দিকে মোবাইলে পাওয়া গেলেও এখন চাকুরির আশায় টাকা দাতাদের নাম্বার ব্লকে ফেলেছেন। অন্য মাধ্যমে যোগাযোগ করলেও কোন সাড়া দেননা। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে সোনাইছড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্টদের কাছে আবেদন করেছে ভুক্তভোগিরা।
অভিযুক্ত এনিন মার্মা সোনাইছড়ির মায়োগ্যাপাড়ার বাসিন্দা উক্যাচিং মার্মার ছেলে। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও আগামী ১৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী।
তুমব্রু ডেম্যানপাড়ার মংখাইনু তংচংগ্যার ছেলে ক্যালাথোয়াই তংচংগ্যা গত ৩০ আগস্ট ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন, তাকে শিক্ষক পদের চাকুরি দেবে বলে ১,৫০,০০০ টাকা দরদাম করেন এনিন মার্মা। ইসলামী ব্যাংকের চেকের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা নেন। বাকি টাকা নগদে পাঠানো হয়। এযাবত চাকুরি দেননি। টাকা খোঁজলে ‘আজ দেব কাল দেব’ বলে প্রতারণা করে আসছেন। এদিকে, চাকুরির আশায় পথেপথে ঘুরছে গরীব-অসহায় পরীবারের সন্তান ক্যালাথোয়াই তংচংগ্যা। একই অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ঠাকুরপাড়ার চাচিং থোয়াই।
এ প্রসঙ্গে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বাহাইন মার্মাও কাছে জানতে চাইলে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এনিন মার্মা চাকুরি দেয়ার নামে বেশ কিছু লোকের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। লিখিত অভিযোগও পাওয়া গেছে। বিষয়টি খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে।
চাকুরির লোভ দেখিয়ে এনিন মার্মার প্রতারণা শুধু পাহাড়ী এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। কক্সবাজারের বেশ কিছু ছাত্র-যুবক থেকেও কৌশলে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, ১৬,৫০০ টাকা বেতনে মহেশখালী বা কুতুবদিয়া শিক্ষা অফিসে ‘অফিস সহকারী’ পদে চাকুরির আশ্বাসে রামুর জোয়ারিয়া নালার রমজান আলীর কাছ থেকে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা নেন এনিন মার্মা। পরে চাকুরি দিতে না পেরে ২ লাখ টাকা ফেরত দিলেও বাকি টাকা দেননি। জমিজমা বন্ধক দিয়ে এনিন মার্মাকে টাকাগুলো দিয়েছিলেন রমজানের মা।
একটি বাড়ি একটি খামারে চাকুরির প্রলোভনে ভারুয়াখালীর মাহমুদ উল্লাহ নামের ছাত্রের নিকট থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে ফেরত দিয়েছেন ৫০ হাজার টাকা। অবশিষ্ট ২ লাখ টাকা খোঁজতে গেলে তাকে হুমকি দিয়েছেন এনিন মার্মা।
রমজান আলী ও মাহমুদ উল্লাহর টাকার মধ্যস্ততাকারী ছিলেন কক্সবাজার সরকারী কলেজের অনার্স (ব্যবস্থাপনা বিভাগ ২০১৬) এর ছাত্র তাদের নিকটাত্মীয় বেলাল উদ্দিন।
তিনি জানান, এনিন মার্মা হলেন তার কোর্সমেট ওয়াই ওয়াই রাখাইনের (হিসাব বিজ্ঞান বিভাগ) দুলা ভাই। সেই সুবাদে ২০১৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে এনিন মার্মার সঙ্গে বেলাল উদ্দিনের পরিচয়।
বান্ধবী ওয়াই ওয়াই রাখাইন বেলালকে জানায়, তার দুলা ভাইয়ের অনেক ক্ষমতা। মন্ত্রীর সাথে তার উঠাবসা। চাইলেই যে কাউকে চাকুরি দিতে পারবেন। কিছু টাকা খরচ করলে সর্বোচ্চ এক সপ্তাহেই নিয়োগপত্র হাতে এনে দিতে পারবেন এনিন মার্মা। বান্ধবীর এমন আশ্বাসে বিশ্বাস না করে উপায় কি? তাই বেলাল নিজেই মধ্যস্ততাকারী হয়ে রমজান আলী ও মাহমুদ উল্লাহর পক্ষে মৌখিক চুক্তি করেন এনিন মার্মার সাথে। এসএ পরিবহন অগ্রণী ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে যথাসময়ে টাকা পাঠিয়ে দেন। যা বান্ধবী ওয়াই ওয়াই রাখাইন অবগত। পরে চাকুরী হলো না, টাকাও দিলো না। বেলালের দুঃখ, বান্ধবীর গল্পে তার বিশ্বাস জন্মেছিল। কিন্তু এভাবে যে বাটপারী করবে, তা বুঝতে পারেনি। বেলাল জেনেছেন, শালি-দুলাভাই মিলে এরকম আরও অনেকের সাথে প্রতারনা করছে। কেউ ভয়ে কেউ লজ্জায় মুখ খোলছেনা। ওয়াই ওয়াই প্রায় ১ বছর ধরে একটি আইএনজিওতে চাকরি করছে।অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এনিন মার্মা বলেন, চাচিং থোয়াই আউটসোর্সিং খাতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে এক বছর চাকুরি করে। মেয়াদ শেষ হওয়ায় টাকা দিতে না পারায় হয়তো চাকুরিতে পুনঃনিয়োগ হয়নি।চাকুরি দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ স্বীকার করে নিয়ে এনিন মার্মা বলেন, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি ডা. ইসমাঈলের মাধ্যমে ঢাকার একজনের সাথে লেনদেন হয়। তিনি মারা যাওয়ায় আমি কিনারা করতে পারিনি। চাকা ফেরত চাইতে গিয়ে উল্টো আমাকে ধমক খেতে হয়েছে।তিনি বলেন, তবু টাকাগুলো পরিশোধের চেষ্টায় আছি। কিছু টাকা ইতোমধ্যে পরিশোধ করেছি। ক্রমান্বয়ে সব পাওয়ার পরিশোধ করবো।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।





আপনার মতামত লিখুন :