২২ আগস্ট, ২০১৯ | ৭ ভাদ্র, ১৪২৬ | ২০ জিলহজ্জ, ১৪৪০


বিবিএন শিরোনাম
  ●  টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ২ রোহিঙ্গা নিহত   ●  শরণার্থীদের অনাগ্রহে এবারও হলো না রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন   ●  ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে : প্রধানমন্ত্রী   ●  মিয়ানমারে বিদ্রোহীদের হামলায় ৩০ সেনা নিহত   ●  মাতামুহুরী নদী থেকে দুই হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ   ●  চৌফলদন্ডীতে পুলিশের উপর হামলা করে ইয়াবা ব্যবসায়ী ছিনতাই, আহত ২   ●  ঈদগাঁওতে সৌদিয়া পরিবহনের ধাক্কায় বৃদ্ধ নিহত   ●  জালালাবাদ থেকে দুই ইয়াবা ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ   ●  চকরিয়ায় সার্ফারী পার্কে প্রশিক্ষিত হাতির আঘাতে মাহুত নিহত   ●  বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের প্রধান আসামী জিয়াউর রহমানকে ইতিহাস ক্ষমা করেনি-এমপি কমল

চিংড়ি চাষীদের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে- মৎস্য ও প্রাণী সম্পদমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি:

মৎস্য ও প্রাণী সম্পদমন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ বলেছেন, চিংড়ি খাত থেকে রপ্তানী আয় বৃদ্ধি করতে হলে আগে টেকসই উন্নয়ন জরুরি। যেহেতু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে খামারী পর্যায়ে বিদেশি প্রযুক্তিবিদ রেখে চিংড়ির উৎপাদন করা সম্ভব হয় না, তাই এর বিকল্প উপায় হিসেবে চাষীদের বিভিন্ন মেয়াদে প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদেরকে দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলা যায়। চাষীদের মধ্যে দক্ষতা বাড়ানো গেলে উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে, রপ্তানীতেও বহুগুণ যোগ হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার কক্সবাজার শহরের সাগরপাড়ের একটি তারকা হোটেলে ‘বাংলাদেশের চিংড়িখাতে টেকসই উন্নয়নের জন্য জাতীয় কৌশল এবং কর্ম পরিকল্পনা খসড়া’ শীর্ষক একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের চিংড়ি চাষীরা অনেক বেশি জ্ঞান সমৃদ্ধ। তাদেরকে শুধুমাত্র উন্নত প্রযুক্তি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া দরকার। সঠিকভাবে প্রশিক্ষণ পেলে চিংড়ি উৎপাদনে আমাদের প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে নিয়ে যাবে তারা।

মন্ত্রী তাঁর নির্বাচনীয় এলাকা ডেমরা উপজেলার চিংড়ি চাষীদের উদাহরণ টেনে বলেন, তাঁর এলাকাটি চিংড়ি চাষের অন্যতম স্থান। কয়েক বছর আগেও এই এলাকার চাষীরা উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার জানতেন না।

কিন্তু পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা এখন এক একজন দক্ষ কারিগর হয়ে উঠেছেন। উৎপাদনও অনেক বেশি বেড়ে গেছে। তাই অতীতে কি হয়েছে বা হয়নি অথবা সীমাবদ্ধতার কথা চিন্তা না করে চাষীদের দক্ষতা বৃদ্ধি করে চিংড়ি খাতকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ছৈয়দ আরিফ আজাদ। এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার-২ আসনের সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কাজী আমিনুল ইসলাম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব সুভাশীষ বোস, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. রাইসুল আলম মণ্ডল, পল্লীকর্ম সহায়ক ফাউ-েশনের (বিএসএফএফ) চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহমুদুল হক,

ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল করিম, বাংলাদেশস্থ নেদারল্যাণ্ড দূতাবাসের খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা একে ওসমান হারুনী, মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক ড. গোলজার হোসেন, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন, সলিডারিদাদ নেটওয়ার্ক এশিয়া এর দেশীয় ব্যবস্থাপক সেলিম রেজা হাসান ও শ্রীম্প হ্যাচারী অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (সেব) এর মহাসচিব মোহাম্মদ নজিবুল ইসলাম।

সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক বলেন, কক্সবাজার উপকূলীয় অঞ্চল। এখানে যেসব এলাকায় চিংড়ি চাষ হয়, সেখানে ম্যানগ্রোব বন রয়েছে। যার কারণে চিংড়ি চাষ করতে গিয়ে বন ও ভূমি মন্ত্রণালয় মুখোমুখি হয়। এছাড়া অনেক চাষীরা চিংড়ি চাষ করতে গিয়ে বন মামলার আসামী হয়েছেন। এর ফলে চাষীরা দিনদিন চিংড়ি চাষে উৎসাহ হারাচ্ছেন।

তিনি বলেন, ম্যানগ্রোব রক্ষা করে কিভাবে চিংড়ি চাষ করা যায়, সেটার উপর গবেষণা করা জরুরি। যদি গবেষণায় কোন সমাধান বের হয়, তাহলে চিংড়ি চাষের বিপুল পরিমাণ জায়গা বৃদ্ধি পাবে। আর চিংড়ি খাত সমৃদ্ধ হবে।

বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কাজী আমিনুল ইসলাম বলেন, এক সময় কৃষি ও মৎস্য খাত ছিল শ্রম নির্ভর। কিন্তু এখন সেই সময় নেই। এখন সময় হচ্ছে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের। চিংড়ি উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হলে চাষে উন্নত প্রযক্তি ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। আর এখাতে যারা যেভাবে চাইবেন, নিয়ম মোতাবেক সরকারি সহযোগিতাও নিশ্চিত করা হবে।

বাণিজ্য সচিব সুভাশিষ বোস বলেন, অন্যান্য খাতের মত চিংড়ি খাতেও রপ্তানী বৃদ্ধির জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে ব্রাসেলসে সাগরের খাবারের উপর অনুষ্ঠিত মেলায় বাংলাদেশ নিয়মিত অংশগ্রহণ করে। সেখানে চিংড়িকেও তুলে ধরা হয়। মৎস্যখাতের ভর্তুকি গুলো যাতে সব উপকারভোগি সমভাবে পায় সেটি নিশ্চিত করা হবে।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।





আপনার মতামত লিখুন :