১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | ১ আশ্বিন, ১৪২৬ | ১৬ মুহাররম, ১৪৪১


টেকনাফে বিজিবি’র সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ২ মাদক পাচারকারী নিহত

টেকনাফে সীমান্ত রক্ষী বিজিবি জওয়ানদের সাথে বন্দুকযুদ্ধে রোহিঙ্গাসহ দুই মাদক পাচারকারী গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে নিহত হয়েছে। এসময় ৪জন বিজিবি জওয়ান আহত হলেও ঘটনাস্থল হতে অস্ত্র, ইয়াবা ও কিরিচ উদ্ধার করা হয়েছে।

জানা যায়, ৫ আগষ্ঠ (সোমবার) ভোররাতে উপজেলার হ্নীলা মৌলভী বাজার আড়াই নং স্লুইচ গেইট পয়েন্ট দিয়ে মাদকের চালান অনুপ্রবেশের সংবাদ পেয়ে টেকনাফ ২বিজিবি ব্যাটালিয়নের একটি বিশেষ টহল দল ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়।

কিছুক্ষণ পর কয়েকজন ব্যক্তি স্বশস্ত্র অবস্থায় কয়েকটি পুটলা নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে আসতে থাকলে বিজিবি জওয়ানেরা চ্যালেঞ্জ করায় অস্ত্রধারী দূবৃর্ত্তরা বিজিবিকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে এবং কিরিচ নিয়ে হামলা করতে থাকে। এতে বিজিবির ৪জন সদস্য আহত হয়।

বিজিবিও আতœরক্ষার্থে কিছুক্ষণ পাল্টা গুলিববর্ষণ করার পর হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

এসময় ঘটনাস্থল তল্লাশী করে ২টি দেশীয় তৈরী বন্দুক, ৪ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২০হাজার পিস ইয়াবা ও ২টি কিরিচসহ গুলিবিদ্ধ দুইজনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য উপজেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।

আহত বিজিবি সদস্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য গুলিবিদ্ধ দুইজনকে কক্সবাজার রেফার করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যায়। খবর পেয়ে একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরীর পর মৃতদেহ পোস্ট মর্টেমের জন্য মর্গে প্রেরণ করেন।

নিহতরা উপজেলার হোয়াইক্যং নয়াবাজারের জলিল আহমদের পুত্র দেলোয়ার হোছন (৩০) এবং উখিয়া উপজেলার কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্প-২ এর রোহিঙ্গা নাগরিক মৃত হায়দার শরীফের পুত্র নুরুল ইসলাম (২৭) বলে জানা গেছে।

এই ব্যাপারে টেকনাফ ২বিজিবি ব্যাটালিয়নের উপাধিনায়ক মেজর মোঃ শরীফুল ইসলাম জোমাদ্দার বলেন, মাদক উদ্ধার অভিযান ও বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় হতাহতের সত্যতা স্বীকার করেন। এই ব্যাপারে তদন্ত স্বাপেক্ষে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে টেকনাফে এত কঠোর মাদক বিরোধী অভিযানের মধ্যেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কতিপয় স্থানীয় এবং রোহিঙ্গা মাদক কারবারী তৎপর থাকায় নয়াবাজার, খারাংখালী, মৌলভী বাজার, হোয়াব্রাং, সুলিশ পাড়া, নাটমোরা পাড়া, রঙ্গিখালী, আলীখালী, লেদা লামার পাড়া, দক্ষিণ লেদা, মোচনী, নয়াপাড়া ও জাদিমোরা পয়েন্টে এখনো রশি টানা, বড়শী কৌশল, কাঁদায় পুঁতে রাখা এবং গোল পাতার ডালে তৈরী বিশেষ ভেলায় ভেসে আসা নানা কৌশলে মাদকের চালান খালাস হচ্ছে।

যার কারণে উক্ত এলাকায় জনতার হাতে মাদকের চালানসহ জনতার হাতে আটক, চালান বহন করতে গিয়েই মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনাকারী সংস্থার হাতে আটক ও চালান লুটপাটের ঘটনায় সচেতনমহলে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।





আপনার মতামত লিখুন :

error: Content is protected !!