১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | ১ আশ্বিন, ১৪২৬ | ১৬ মুহাররম, ১৪৪১


দাপটেই লড়ছে বাংলাদেশ

বে-বেঙ্গল ডেস্ক:

চট্টগ্রাম টেস্টে ইংল্যান্ডের ছুঁড়ে দেওয়া ২৮৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে হলে নিজেদের সক্ষমতার সর্বোচ্চটাই ঢেলে দিতে হবে বাংলাদেশ দলকে। সেই পথে অনুপ্রেরণা যোগাতে সামনে থাকছে একটি পরিসংখ্যানও। প্রতিপক্ষকে যে কয়বার দু’ইনিংসেই অলআউট করেছে টাইগাররা, হারেনি তার কোনটিতেই! আরেকবার সেই পরিসংখ্যান সমুন্নত রাখতে অবশ্য দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে চাপেই পড়েছিল স্বাগতিকরা। তবে পথ এখনো অনেকটা বাকি থাকলেও একটি স্বাস্থ্যবান জুটিই পারে স্বপ্নের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যেতে। আপাতত তার ভরসা হয়ে আছেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম ও অভিষিক্ত সাব্বির রহমান।

রোববার এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ৫ উইকেট হারিয়ে ২১৫ রান তুলেছে বাংলাদেশ। অবিচ্ছিন্ন ৭৫ রানের জুটি গড়ে উইকেটে আছেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ৩৮ ও সাব্বির রহমান ৩৮ রানে।

বাংলাদেশ এর আগে মাত্র ৮টি টেস্টে প্রতিপক্ষকে দুবার অলআউট করতে পেরেছে। যার ৭টিতে জয়ের পাশাপাশি অন্যটিতে ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছিল লাল-সবুজরা। চট্টগ্রাম টেস্টে সেটির পুনরাবৃত্তি করার সঙ্গে থাকছে ইতিহাস গড়ার হাতছানিও। টেস্টে চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ ২১৫ রান তাড়ার রেকর্ড আছে বাংলাদেশের। সেটিও ২০০৯ সালের জুলাইয়ে, গ্রেনাডায় খর্বশক্তির ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। তাতে জয় এসেছিল ৪ উইকেটে। স্পিনারদের স্বর্গ হয়ে ওঠা চট্টগ্রামে তাই কঠিন পরীক্ষাই দিতে হচ্ছে মুশফিকদের।

সেই পরীক্ষায় শুরুটা আশাজাগানিয়া হয়েও স্থায়িত্ব পায়নি তামিম ইকবালের দ্রুত ফিরে যাওয়ায়। প্রথম ইনিংসে এই বাঁহাতি ঝলমলে একটি ফিফটি উপহার দিয়েছিলেন। রোববারও ইমরুল কায়েসের সঙ্গে ৩৫ রানের উদ্বোধনী জুটি এনে দিয়েছিলেন। কিন্তু ৯ রানের বেশি অবদান রাখতে পারেননি।

মঈনের বলে শর্ট-লেগে ব্যালান্সকে ক্যাচ দেওয়ার আগের বলেই তামিমের বিপক্ষে রিভিউ নিয়ে অসফল হয়েছিলেন ইংলিশ অধিনায়ক কুক। পরের বলেই সাজঘরের পথ ধরে কুকের একটি রিভিউ নষ্টের মনকষ্ট লাঘব করেন তামিম।

ওয়ানডাউনে নামা মুমিনুল হককে সঙ্গী করে এরপর ইমরুল বড় কিছুর স্বপ্নই দেখাচ্ছিলেন। যথারীতি সেটা ছোট কিছুতেই বিসর্জন দিয়ে যান এই উদ্বোধনী। আক্রমণাত্মক হতে যেয়ে ৪৬ রানের জুটির পর রশিদের বলে রুটকে ক্যাচ দিয়েছেন ইমরুল। ফেরার আগে ৬ চারে ৬১ বলে ৪৩ রান যোগ করেছেন নামের পাশে।

এরপর ভালোই এগোচ্ছিলেন মুমিনুল ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। কিন্তু নিজেদের ইনিংসটাকে টেনে নিতে পারেননি কেউই। গ্যারেথ ব্যাটির বলে সুইপ করতে যেয়ে মুমিনুল উইকেট বিলিয়েছেন ব্যক্তিগত ২৭ রানে, পরে মারবো না ডিফেন্স করবো টাইপের শট খেলার দোটানায় ব্যাটির বলেই উইকেট খুইয়েছেন মাহমুদউল্লাহ (১৭)।

চার টপঅর্ডারকে হারিয়ে চাপ খানিকটা বাড়ার মাঝেই উইকেটে আসেন অধিনায়ক মুশফিক, অন্যপ্রান্তে সাবলীল ব্যাটিং করতে থাকা সাকিব। প্রথম ইনিংসের বাজে শটের প্রায়শ্চিত্ত করার প্রতিজ্ঞা নিয়েই নেমেছেন বলে মনে হচ্ছিল সাকিবকে! কিন্তু ১টি করে চার-ছয়ে ২৪ রানে যাওয়ার পরই দুর্দান্ত এক টার্নে তাকে সাজঘরের পথ দেখান মঈন।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।





আপনার মতামত লিখুন :

error: Content is protected !!