১৯ আগস্ট, ২০১৯ | ৪ ভাদ্র, ১৪২৬ | ১৭ জিলহজ্জ, ১৪৪০


বিবিএন শিরোনাম

নির্দয় এ্যাম্বুলেন্স ব্যবসা

বিবিএন ডেস্ক:

ambulance10কক্সবাজার সদর উপজেলার গোমাতলী এলাকার নুরুল আলম (৪৫) বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা দিকে বেশ চিন্তিত এবং কান্নারত অবস্থায় হাসপাতাল এলাকায় ঘুরাঘুরি করতে দেখে জানতে চাইলে বলেন, আমার মা খুবই অসুস্থ। গতকাল কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করালে আজ সকালে ডাক্তার বলেছে অবস্থা ভাল না। জরুরীভাবে চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।  তাই সকাল থেকে এম্বুলেন্স ভাড়া করার চেষ্টা করেও পারছি না। কারন ভাড়া চাইছে ৭ হাজার টাকা। অনেক হাতে পায়ে ধরে  সাড়ে ৬ হাজার টাকায় রাজি হলেও আমার কাছে অত টাকা নেই। আমি খুবই গরীব মানুষ পরে বাড়িতে খবর দিয়ে ধার দেনা করে সাড়ে ৫ হাজার টাকা জোগাড় করেছি এতে কোন ভাবেই রাজি হচ্ছে না।
এদিকে ডাক্তাররা এখান থেকে সিট কেটে দিয়েছে। আমি নিয়ে যেতে পারছি না। তাই পথে পথে কান্না করছি। পরে এ্যাম্বুলেন্স চালক সোহেলের সাথে কথা বলে অনেক বুঝিয়ে রাজি করতে চাইলেও কোনভাবেই রাজি হয়নি তিনি। তিনি ছাড়া  আরো বেশ কয়েক জন চালকের সাথে কথা বললেও কেউ রাজি হয় নি এই গরীব রোগিকে বহন করতে। পরে আরো কয়েকজন মিলে চাঁদা তুলে সেই মহিলাকে এ্যাম্বুলেন্সে তুলে দেয়। এ সময় অনেকে মন্তব্য করে এটি নির্দয় এম্বুলেন্স ব্যবসা।
এ সময় শহরের মোহাজের পাড়ার বাসিন্দা ও স্থানিয় আওয়ামী লীগ নেতা মেজবাহ উদ্দিন কবির বলেন, এটি আজকে নতুন নয় আমি নিজে বেশ কয়েকবার এ ধরনের পরিস্থিতির শিকার হয়েছি। এলাকার অনেক গরীব মানুষ জরুরী প্রয়োজনে চমেক হাসপাতালে যেতে চাইলেও টাকার জন্য যেতে পারে না। তারা এক পয়সাও ছাড় দেয় না। এ্যাম্বুলেন্স ব্যবসায়িদের বুঝা উচিত সবাই টাকা পয়সাওয়ালা নাও হতে পারে। অনেক মানুষকে মানবিক বিবেচনায় নিতে হবে। এখানে যদি একেবারেই নির্দয় হয় সেটা খুবই দুঃখজনক।
এ ব্যাপারে এড. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, কিছু দিন আগে আমার গ্রামের বাড়ির এক আত্মীয় দুপুর বেলায় বাড়িতে এসে কান্না করছেন। কারন জানতে চাইলে বলেন স্ত্রীর ডেলিভারি সমস্যায় কক্সবাজার সদর হাসপাতাল থেকে চমেক হাসপাতালে রেফার করেছে। এখন তার এম্বুলেন্স ভাড়া জোগাড় করতে পারছে না। আর এম্বুলেন্স গাড়ি কোনভাবেই ৬ হাজার ৫০০ টাকার নিচে যাবে না। পরে আমি নিজে গিয়ে এম্বুলেন্স চালকদের অনেক অনুরোধ করেও একটাকাও কমাতে পারি নি। তারা কোনভাবেই মানতে রাজি না। গরীব হওক আর যাই হওক তাদের প্রাপ্য পেতেই হবে।
পরে বাধ্য হয়ে আমিও কিছু আর্থিক সাহায্য করে পাঠিয়ে দিয়েছি। আমার মতে এটি খুবই নির্দয়। বিশেষ বিবেচনা বলে কিছু থাকা দরকার। আমি শিকার করছি একটি গাড়ী চট্টগ্রাম পৌছাতে তেল খরচসহ সাথে আরো অনেক খরচ আছে । আমার জানা মতে যদি তেল দিয়ে গাড়ী চালিয়ে যায় তাহলে ৩০০০ টাকার বেশি তেল লাগার কথা নয়। আর অন্যান্য খরচসহ খুব বেশি হলে ৪০০০ টাকা খরচ হবে। না হয় গরীব মানুষ থেকে একটু লাভ কম হলো আর কি, সেটা তারা কোনভাবেই মানতে চায় না।
টেকপাড়া এলাকার ব্যবসায়ি আমির হোসেন বলেন, আমার জানা মতে এখন সব গাড়ী গ্যাস চালিত। তাই তেলের ৩ ভাগের ১ ভাগ টাকা খরচ হবে। তার পরও তারা কোনভাবেই এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া কমাতে রাজি নয়। এটা আসলে একটা নীতিমালা হওয়া দরকার। কয়েক বছর আগে যখন তেলের দাম বেশি ছিল তখন তারা যেই রেইট নিয়েছিল এখন তার চেয়ে বেড়েছে। অথচ সব ধরনের গাড়ীর ভাড়া কমেছে। তেলের দাম কমার কারণে আর স্থানীয়ভাবে জরুরী প্রয়োজনে এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে গেলে তাদের আরো খারাপ রূপ সামনে চলে আসে। গত মাসে আমার ভাইকে ডিজিটাল হাসপাতাল থেকে টেকপাড়া আনতে ভাড়া চাইছে ১ হাজার টাকা। আমার মতে এটা খুবই অমানবিক। তাছাড়া যতটুকু জানি স্থানীয়ভাবে মৃত দেহ নিয়ে পিএমখালী, ঝিলংজা বা রামু যেতে তারা অনেক বেশি ভাড়া আদায় করে। সেটা যারা মোটামুটি টাকা পয়সা আছে তাদের কাছ থেকে নিলে মানিয়ে নেওয়া যায়। কিন্তু যারা অসহায় তারা কোথা থেকে দিবে এত টাকা। এখন টাকা না থাকলে কি মৃত দেহ কষ্ট পাবে। সে বিষয়ে আমার মতে এ্যাম্বুলেন্স ব্যবসায়িদের আরো মানবিক হওয়া দরকার।
এ ব্যাপারে কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডাঃ পুচনু বলেন, এ্যাম্বুলেন্স একটি সেবাধর্মী ব্যবসা। এটিকে সাধারণ মানুষ খুবই শ্রদ্ধার সাথে দেখে। সামাজিকভাবেই এ্যাম্বুলেন্স  খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সেবাধর্মী বিষয়। এটাকে এত বেশি বাণিজ্যিক করা ঠিক না। সব থেকে বড় কথা হচ্ছে মানবিকতা। সবার কাছ থেকে টাকা পাব সেটা প্রত্যাশা করা মোটেও উচিত নয়। এ বিষয়ে আমার মতে সামাজিকভাবে সচেতনতাসহ এ্যাম্বুলেন্স ব্যবসার সাথে জড়িতরা আরো উদার হবে।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।





আপনার মতামত লিখুন :