১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | ১ আশ্বিন, ১৪২৬ | ১৬ মুহাররম, ১৪৪১


কক্সবাজারে পর্যটন বিনিয়োগ উন্নয়ন সেমিনার অনুষ্ঠিত

পর্যটনখাত থেকে জিডিপি বাড়াতে বিদেশি পর্যটক টানার বিকল্প নেই

ইনানীতে হোটেল রয়েল টিউলিপ সী পার্ল এর সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত বেজার সেমিনারে বক্তব্য রাখছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন

আজিম নিহাদ :

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ শুধুমাত্র পর্যটনখাতের উপর নির্ভর করে অর্থনৈতিকভাবে সম্মৃদ্ধ হয়েছে। এসব দেশের চেয়ের অনেক বেশি সম্ভাবনাময়ী পযটন খাত বাংলাদেশে আছে।

কিন্তু উন্নয়নের দিক থেকে এদেশের পর্যটন খাত আর্ন্তজাতিক মানের হিসেবে গড়ে উঠেনি। একারণে বাংলাদেশের পর্যটন খাতের প্রতি বিদেশি পর্যটকেরা আকৃষ্ট হচ্ছে না। বিদেশি পর্যটকের আগমন টানা ছাড়া পর্যটন খাত থেকে কখনোই জিডিপি প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয়।

বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারী) কক্সবাজারের ইনানী সাগরপাড়ের একটি তারকা হোটেলে ‘কক্সবাজারের বিশেষ ট্যুরিজম পার্ক গুলোর পর্যটন সুবিধা উন্মোচন’ শীর্ষক এক বিনিয়োগ উন্নয়ন সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। ওই সেমিনারে বক্তারা এ কথা বলেন। সেমিনারটি আয়োজন করে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)।

সেমিনারে প্রধান অতিথি’র বক্তব্য দেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। সভাপতিত্ব করেন বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি’র বক্তব্য দেন মন্ত্রীপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) মো. আবুল কালাম আজাদ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব শহিদুল্লাহ খন্দকার, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই’র সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. সুলতান আহমেদ।

পবন চৌধুরী, বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করে এমন পর্যটন অবকাঠামো এখনও গড়ে উঠেনি। আর বিদেশি পর্যটক না আসলে জিডিপিতে কোন ধরণের প্রবৃদ্ধি যোগ হবে না। কারণ অভ্যন্তরীণ ট্যুরিজমে শুধুমাত্র ঘুরে ফিরে দেশের মানুষের টাকা হাত বদল হচ্ছে। এটাকে আপাত দৃষ্টিতে আয় মনে হলেও দেশের বার্ষিক প্রবৃদ্ধিতে এর তেমন কোন ভূমিকা থাকবে না। তাই বিদেশি পর্যটকদের চাহিদা উপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য এই তিনটি ট্যুরিজম পার্ক স্থাপন করা হচ্ছে। এগুলোতে বিদেশি পর্যটকদের সহজে আকৃষ্ট করা যাবে।

কক্সবাজারে বেজার বাস্তবায়নাধীন তিনটি ট্যুরিজম পার্ক সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরে নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, কক্সবাজারের টেকনাফের সাবরাং ও নাফ ট্যুরিজম পার্ক এবং মহেশখালীর সোনাদিয়া ইকো ট্যুরিজম পার্কের নির্মাণ কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এই তিনটি পার্ক বাস্তবায়ন হলে আগামী পাঁচ বছরে দুই লাখ লোকের কর্মসংস্থান হবে সেখানে। একই সঙ্গে এই তিনটি খাত থেকে প্রতি বছর অতিরিক্ত দুই বিলিয়ন ইউএস ডলারের অর্থনৈতিক কর্মকা-ের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পর্যটন খাত থেকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়বে।

তিনি বলেন, নাফ ট্যুরিজম পার্ক স্থাপনে ভূমির উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে। সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক স্থাপনে সুপার ডাইক নির্মাণের জন্য চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেডকে নিয়োগ করা হয়েছে। সোনাদিয়া ইকো-ট্যুরিজম পার্ক স্থাপনে বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ করার জন্য সমীক্ষা প্রতিবেদন প্রণয়নের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে এবং এই দ্বীপে বসবাসরত স্থানীয় লোকজনকে পুর্নবাসনের কার্যক্রমও চলছে।

ড. সুলতান আহমেদ বলেন, দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য উন্নয়ন দরকার। কিন্তু উন্নয়ন করতে গিয়ে কোনভাবেই পরিবেশের ক্ষতি করা যাবে। কক্সবাজার যেহেতু পরিবেশ ও প্রতিবেশগত দিক থেকে ঝুঁকিতে রয়েছে, তাই পরিবেশ অক্ষুন্ন রেখে পর্যটনের উন্নয়ন করতে হবে।

শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, এশিয়ায় পর্যটন বান্ধব দেশ গুলোর মধ্যে বাংলাদেশ সবার পেছনে। একারণে পর্যটন খাত থেকে জিডিপিতে তেমন কোন ভূমিকা নেই। কিন্তু অন্যান্য দেশের তুলনায় এদেশের পর্যটন খাত অপার সম্ভাবনাময়ী। একটু উদ্যোগ নিয়ে এই পর্যটন খাতকে আন্তর্জাতিক মান উপযোগি করে গড়ে তুলতে পারলে বিদেশি পর্যটকের ঢল নামবে। আর পর্যটন খাত থেকে জিপিডি প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সহায়ক হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সম্মৃদ্ধির পথে পর্যটন সবচেয়ে বড় নিয়ামক। আর সেই নিয়ামকের স্থান হলো কক্সবাজার। কক্সবাজারে সৃষ্টিকর্তা সবকিছুই দিয়েছে। শুধুমাত্র উদ্যোগের অভাব। বেজা কর্তৃক তিনটি ট্যুরিজম পার্ক বাস্তবায়ন হলে পর্যটন খাতের উন্নয়নে অনেক বেশি সহায়ক হবে। কারণ এই ট্যুরিজম পার্ক গুলো হবে বিদেশি পর্যটকদের মান উপযোগী হিসেবে। এতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায় থেকেও বিনিয়োগকারিদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

মন্ত্রী মোশাররফ হোসেন বলেন, কক্সবাজার বিশ্বের দীর্ঘতম এবং সবচেয়ে সুন্দর ও বৈচিত্রময় সমুদ্র সৈকত। এই সৈকতকে ঘিরে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি, কিন্তু এটা দ্রুত করা দরকার। যাতে বিদেশি পর্যটকেরা আকৃষ্ট হয়। শুধুমাত্র সরকারি পর্যায় থেকে কেন হবে, বেসরকারি পর্যায়ের উদ্যোক্তাদেরকেও আর্ন্তজাতিক মানের পরিবেশ বান্ধব পর্যটন অবকাঠামোগত উন্নয়নে সম্পৃক্ত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, পিছিয়ে পড়া এলাকায় বেসরকারি বিনিয়োগকারিদের বিনিয়োগে আগ্রহী করতে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে। এরজন্য বিশেষ ট্যাক্স সুবিধা প্রদান করা যেতে পারে। বর্তমানে নির্ধারিত ১৫ শতাংশ ট্যাক্সকে অর্ধেক সাড়ে ৭ শতাংশে নির্ধারণ করে দিলে বিনিয়োগকারিরা বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগেও ঝুঁকি নিতে আগ্রহী হবে। এর ফলে ট্যাক্স আদায়ও কিন্তু বাড়বে।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।





আপনার মতামত লিখুন :

error: Content is protected !!