২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | ৮ আশ্বিন, ১৪২৬ | ২৩ মুহাররম, ১৪৪১


বিবিএন শিরোনাম
  ●  কক্সবাজারের চেহারা পাল্টে যাবে: ওবায়দুল কাদের   ●  জাতিসংঘের সাধারণ সভায় যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী   ●  পাকিস্তানে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিহত ২৬   ●  সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের মাধ্যমে কংক্রিটের ব্লক দিয়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করতে হবে   ●  ঈদগাঁওতে টমটম চালককে হত্যাঃ প্রতিবাদে শ্রমিকলীগের মানববন্ধন   ●  ঈদগাঁওতে সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত যুবকের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তরঃ পৃথক দুই মামলা   ●  রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে সরকারের পাশে থাকুন   ●  উখিয়া মাদক কারবারির বাড়ির মাল ক্রোক   ●  টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ রোহিঙ্গা দম্পতি নিহত   ●  ঈদগাঁওতে টমটম চালককে গুলি করে হত্যাঃ অস্ত্রসহ সাবেক সেনা কর্মকর্তার পুত্র ঘাতক আটক 

পৃথিবীর বয়স কত?

earth4বে-বেঙ্গল ডেস্ক

পৃথিবীর বয়স মোটামুটি ৪৫০ থেকে ৫০০ কোটি বছর।পৃথিবী তৈরি হওয়ার সময় এটা ছিল গ্যাসীয় গোলক। তারপর পৃথিবী তাপমাত্রা হারিয়ে ঠাণ্ডা হতে শুরু করে। তারপর একসময় পরিণত হয় কঠিন  গোলকে। সেই কঠিন পদার্থগুলোকেই বলা হয় শীলা পাথর।

পৃথিবীর মাটির নিচে নানারকম শীলাস্তর পাওয়া গেছে। তাতে লোহার মতো কঠিন পদার্থ আছে। আছে জৈব গ্যাস ও তরল তেলও। আরও আছে তেজস্ক্রিয় পদার্থ।

তেজস্ক্রিয় পদার্থ হরো মজার এক মৌলিক পদার্থ। এসব পরমাণু থেকে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হতে থাকে। একে বলে তেজস্ক্রিয় ক্ষয়। তেজস্ক্রিয় মৌল তেজস্ক্রিয় ক্ষয় করে সম্পূর্ণ অন্য মৌলে পরিণত হয়। যেমন ইউরোনিয়ামের কথায় ধরায় যাক। তেজস্ক্রিয় ইউরোনিয়াম রশ্মি ক্ষয় করে সীসায় পরিণত হয়। তবে এই তেজস্ক্রিয় ক্ষয়টা একবারে হয় না। হয় নির্দিষ্ট হারে। তেজস্ক্রিয় ক্ষয়ের এই হারটা একেক তেজস্ক্রিয় পদার্থের জন্য একেক রকম।

তেজস্ক্রিয় ক্ষয়ের হিসাবে আসে অর্ধায়ু নামে একটা শব্দ। কোন তেজস্ক্রিয় পদার্থের অর্ধেক ক্ষয় হতে যত সময় লাগে তাকে ওই পদার্থের অর্ধায়ু বলে। ইউরিনেয়ামের অর্ধায়ু ৪৫০ কোটি বছর। ইউরোনিয়াম পরমাণু ক্ষয় হয়ে অর্ধেকে পরিণত হয় লাগে ৪৫০ কোটি বছর। তারমানে ৪৫০ কোটি বছরে লক্ষ পরমাণুর ক্ষয়ে ৫০ হাজার ইউরেনিয়াম অবশিষ্ট থাকে। বাকি ৫০ হাজার পরমাণু সীসার পরমাণুতে রূপান্তরিত হবে। এখানে এক লক্ষ কোনও ব্যাপার নয়। ১০০ পরমাণুর একটা ইউরেনিয়াম খন্ড নিয়ে পরীক্ষা করলে দেখা যাবে ৪৫০ কোটি বছর পর ৫০ টি ইউরেনিয়াম অক্ষত আছে, বাকি ৫০ টি সীসায় পরিণত হয়েছে। অর্থাৎ যত পরমাণুই নেয়া হোক তেজস্ক্রিয় ইউরোনিয়াম অর্ধেকে পরিণত হতে সময় লাগে ৪৫০ কোটি বছর। একে ইউরেনিয়ামের অর্ধায়ু বলে। অনেকেই ভাবছেন, ৪৫০ কোটি বছরের হিসাব কীভাবে বের হলো? অত দিন তো মানুষ বাঁচে না!

earth3মানুষ বাঁচে না- এটা ঠিক। তারপরও বের করার একটা পদ্ধতি আছে। আছে একটা গাণিতিক সমীকরণ। প্রতি সেকেন্ডে কী পরিমাণ তেজস্ক্রিয় রশ্মি ক্ষয় হচ্ছে। সেটা হিসেব করে ওই গাণিতিক সমীকরণে বসানো হয়। সেখান থেকে যে ফল বেরোয় সেটাই তার অর্ধায়ু। এই সমীকরণটা যে ঠিক, সেটার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে যেসব তেজস্ক্রিয় পদার্থের অর্ধায়ু কম তাদের ক্ষেত্রে। যেমন কোনও পদার্থের অর্ধায়ু হয়তো কয়েক ঘণ্টা। কারও হয়তো কয়েকদিন। কারও কারও কয়েক বছর। এদের ক্ষেত্রে সমীকরণটার সত্যতা প্রমাণীত। তাই ইউরেনিয়ানের ক্ষেত্রে ওই সমীকরণটা হিসাব দেখিয়েছে সেটাও ঠিক।

image-2593পৃথিবীর তেজস্ক্রিয় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ বিভিন্ন শীলাখণ্ড নিয়ে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, সবগুলোতেই একটা জিনিসের মিল আছে। তা হলো এর অর্ধেক ইউরেনিয়াম অর্ধেক সীসার। তারমানে দুনিয়ার সব ইউরেনিয়াম শীলখন্ড এখন অর্ধায়ুকে অবস্থান করছে। তার মানে এদের বয়স ৪৫০ কোটি বছর। অর্থাৎ ৪৫০ কোটি বছর আগে এসব শীলা খন্ডগুলো সৃষ্টি হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। শীলখন্ডগুলো সৃষ্টির সময়কে যদি পৃথিবীর সৃষ্টির সময় ধরে নিলে এর বয়স ৪৫০ কোটি বছরই হবে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।





আপনার মতামত লিখুন :