২৩ অক্টোবর, ২০১৯ | ৭ কার্তিক, ১৪২৬ | ২৩ সফর, ১৪৪১


বিবিএন শিরোনাম

পেকুয়ায় জলাবদ্ধতা নিরসনে খালের বাঁধ অপসারণ

কক্সবাজারের পেকুয়া সদর ইউনিয়নের জলাবদ্ধতা নিরসনে অবৈধ বাঁধ কেটে দিয়ে ও খালে অবৈধভাবে বসিয়ে রাখা মাছ ধরার জাল তুলে নিয়ে পানি বের করে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শনিবার স্থানীয় কৃষকদের সংগঠিত করে পেকুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহসভাপতি সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম এ উদ্যোগ নিয়েছেন। পানি চলাচলের প্রবাহমান খালের কয়েকটি বাঁধ অপসারণ ও বেড়া দিয়ে মাছ ধরার জাল তুলে নেয়ায় লোকালয়ে জলাবদ্ধ হয়ে থাকা পানি বের হয়ে যাচ্ছে। এতে এলাকার কৃষকরা আবার নতুন করে বীজতলা তৈরী করে আমন চাষের স্বপ্ন দেখছে। এলাকাবাসি প্রভাবশালীদের দখলে থাকা বিলাহাছুরা ছিরাদিয়ার খাল ও স্লুইচ গেটের সামনের অন্যান্য অবৈধ বাঁধগুলোও কেটে দেয়ার দাবী জানিয়েছেন।
এলাকাবাসি জানায়; পেকুয়া সদর ইউনিয়নের বিলাহাছুরা ছিরাদিয়া এলাকায় একটি প্রভাবশালী মহল সিন্ডিকেট গঠন করে প্রবাহমান কয়েকটি খালে অবৈধভাবে প্রায় ১০টি বাঁধ দিয়ে চিংড়ি চাষ করছে। তারা পশ্চিম ছিরাদিয়া এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্লুইচ গেটের সামনেও অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে খাল বন্ধ করে রেখেছে। এভাবে খালে বাঁধ দিয়ে চিংড়ি চাষ করায় লোকালয় থেকে পানি বের হতে পারছে না। এ ছাড়াও পেকুয়া সদর ইউনিয়নে আরও কয়েকটি খালে কয়েকটি বাঁধ রয়েছে। এসব বাঁধগুলোর কারণে গত ১৮-২০দিন ধরে পেকুয়া সদর ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানি বন্দি অবস্থায় থাকে। কৃষকদের শতশত একর আমনের বীজতলা নষ্ট হয়ে যায়। এলাকাবাসি বাঁধগুলো কেটে দেয়ার জন্য বেশ কয়েকবার বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে। এক পর্যায়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে বাঁধ কেটে দেয়ার নির্দেশও দেয়া হয়। কিন্তু প্রভাবশালীরা তাদের দেয়া অবৈধ বাঁধ কেটে দেয়নি।
এলাকাবাসীর দাবীর প্রেক্ষিতে অবশেষে পেকুয়া উপজেলা আওয়ামীলীেেগর সহসভাপতি সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম এলাকাবাসিকে সংগঠিত করে খালের বাঁধ কেটে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়; শনিবার তিনি পেকুয়া সদর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের পূর্ব বিলাছারা এলাকায় একদল কৃষককে সাথে নিয়ে গুলদি খালের একটি বাঁধ কেটে দিচ্ছেন। এলাকার কৃষক নুর হোসেন জানান; সাংবাদিক জহিরুল ইসলামের উদ্যোগে এদিন পূর্ব বিলাছুরায় গুলদি খালে শুস্ক মৌসুমে দেয়া ১টি সেচবাঁধ, নন্দীর পাড়ায় ২টি সেচবাঁধ কেটে দিয়েছেন। শুস্ক মৌসুমে খালের পানি আটকিয়ে বোরো চাষের জন্য খালে এ বাঁধ ৩টি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু বর্ষার আগে বাঁধগুলো কেটে না দেয়ায় পানি বের হতে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়ে আসছিল। খালের এ অংশের বাঁধগুলো কেটে দেয়ায় খাল দিয়ে পানি দ্রুত বের হচ্ছে। এদিন সাংবাদিক জহিরুল ইসলামের নেতৃত্বে এলাকাবাসি নুইন্যামুনিয়া, টেকপাড়া, নন্দীরপাড়া, মোরারপাড়া, মইগ্যা ঘোনা ও সৈকত পাড়ায় খালের বিভিন্নস্থান থেকে মাছ ধরার অনেকগুলো জাল তুলে নিয়ে পানি চলাচলের ব্যবস্থা করে দেন। এলাকাবাসি জানায়, এ বাঁধগুলো কেটে দেয়ায় কৃষকরা আবার বীজতলা তৈরী করে আমন চাষের স্বপ্ন দেখছেন। ছিরাদিয়া, বিলাহাছুরা, মইয়াদিয়ার কৃষকরা জানায় তাদের এলাকায় আজম খান নামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তি ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙ্গিয়ে সিন্ডিকেট গঠন করে প্রবাহমান একটি খালে ১০টি বাঁধ দিয়ে চিংড়ি ঘের করেছে।
এলাকাবাসি জানায়, আজম খানের সিন্ডিকেটে তিনি একজনই আওয়ামীলীগ করেন, সিন্ডিকেটের অন্যান্যদের মধ্যে ১০/১২জন সবাই বিএনপি’র পদধারী নেতাকর্মী। ওই বাঁধগুলো কেটে দেয়া না হলে পেকুয়া সদর ইউনিয়নের জলাবদ্ধতা পুরোপুরি নিরসন হবে না। এলাকাবাসি খালের সব অবৈধ বাঁধগুলো কেটে দিয়ে খালগুলো খোলা করে দেয়ার দাবী জানায়। এ ব্যাপারে সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম জানান; তিনি খালের কয়েকটি বাঁধ কেটে দিয়ে জাল তুলে দিয়েছেন। বন্যায় ভেঙ্গে যাওয়া ৮নং ওয়ার্ডের আলেকদিয়া এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধের একটি ভাঙনও পুনঃনির্মাণ করেছেন। অন্যান্য খালগুলো প্রভাবশালীদের দখলমুক্ত ও খালের অন্য অবৈধ বাঁধগুলোও কেটে দেয়া হলে পেকুয়ার অন্তত ৩০ হাজার কৃষক উপকৃত হবে, পুরো পেকুয়া সদর ইউনিয়ন বন্যামুক্ত হবে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।





আপনার মতামত লিখুন :