২১ আগস্ট, ২০১৯ | ৬ ভাদ্র, ১৪২৬ | ১৯ জিলহজ্জ, ১৪৪০


প্রস্তুত জাতীয় ঈদগাহ

এক লাখ মুসল্লির পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ একসঙ্গে আদায়ের জন্য রাজধানীর সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয় ঈদগাহ ময়দান এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সোমবার সকাল ৮টায় এখানে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রচণ্ড বৈরী আবহাওয়া থাকলে ঈদের প্রধান জামাত জাতীয় ঈদগাহের পরিবর্তে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে।

শনিবার ঈদগাহ ময়দানে গিয়ে দেখা যায়, মুসল্লিরা যাতে সুন্দরভাবে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করতে পারেন, সে জন্য নেওয়া হয়েছে যাবতীয় প্রস্তুতি। সাধারণ বৃষ্টিপাতে যাতে ঈদ-জামাতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে, সে জন্য ওপরে দেওয়া হয়েছে ত্রিপল। তার নিচে থাকছে শামিয়ানা। সাধারণ পানি নিষ্কাশনের জন্য খনন করা হয়েছে ড্রেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) তত্ত্বাবধানে ঈদগাহ ময়দানের প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ওজুর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মুসল্লিদের জন্য থাকবে পর্যাপ্ত সংখ্যক টয়লেট। গণপূর্ত, বিদ্যুৎ, ওয়াসা, সিটি করপোরেশনসহ সংশ্নিষ্ট সেবা সংস্থার লোকজন সর্বক্ষণ তৎপর থাকবেন। এ ছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে থাকবে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এ জন্য র‌্যাব-পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাকে এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের মতো কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফায়ার সার্ভিস সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকবে। ঈদ-জামাত চলাকালীন আবহাওয়াজনিত কারণে বজ্রপাত ঠেকাতে ঈদগাহে বজ্র প্রতিরোধক দণ্ড স্থাপন করা হয়েছে।

ডিএসসিসি মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় ঈদগাহ ময়দান প্রস্তুতি কাজ সরেজমিন পরিদর্শন করবেন। পরে মেয়র সেখানে ঈদগাহের সার্বিক প্রস্তুতি বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করবেন বলে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ডিএসসিসির অঞ্চল-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ শফিউল্লাহ বলেন, ঈদগাহে গতবারের মতো এবারও ৯০ হাজার থেকে এক লাখ মুসল্লির জন্য নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ থেকে ছয় হাজার নারী মুসল্লির জন্য আলাদাভাবে পর্দা দিয়ে নামাজ আদায়ের বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। তাদের জন্য আলাদা প্রবেশ পথের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কোনো কারণে কেউ অসুস্থ হলে তার জন্য থাকবে মেডিকেল টিম। সৌন্দর্যবৃদ্ধির জন্য এরই মধ্যে কদম ফোয়ারা থেকে হেয়ার রোড হয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ও মৎস্য ভবন থেকে শাহবাগ পর্যন্ত মিডিয়ান ও ফুটপাত রঙ করা হয়েছে।

ঈদগাহের নিরাপত্তার বিষয়টি দেখভাল করবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ও অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। কাকরাইল, মৎস্য ভবন, জাতীয় প্রেস ক্লাব, দোয়েল চত্বর ও এর আশপাশে র‌্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা সদস্যরা নিরাপত্তার জন্য নিয়োজিত থাকবেন। ভিআইপির নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। সিটি করপোরেশন ছাড়াও আলাদা ক্যামেরা ও কন্ট্রোল রুম স্থাপন করবে ডিএমপি। নিরাপত্তা দেবে র‌্যাবের বোমা ডিসপোজাল ইউনিট এবং ডগ স্কোয়াড। ঈদগাহের চারপাশে সাদা পোশাকে গোয়েন্দারাও থাকবেন। আর মাইকিংয়ের কাজ করছে তথ্য মন্ত্রণালয়।

সরেজমিন দেখা যায়, জাতীয় ঈদগাহ ময়দানকে ঘিরে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের লোকজন কাজ করছেন। রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রকোপের কারণে সুপ্রিম কোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের অজুখানা ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি মশা মারার ওষুধ ছিটানোসহ সব প্রস্তুতি এগিয়ে নিয়েছে ডিএসসিসি। জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, বিদেশি কূটনীতিক, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিসহ সাধারণ মুসল্লিরা ঈদের নামাজ আদায় করেন।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।





আপনার মতামত লিখুন :