১৯ আগস্ট, ২০১৯ | ৪ ভাদ্র, ১৪২৬ | ১৭ জিলহজ্জ, ১৪৪০


বাঙালিয়ানা জাতিসত্তার পরিচয়:মুহম্মদ নূরুল হুদা

শুধু একটি সংখ্যা নয়, নবপর্যায়ে জাতি বাঙালির উৎসের নাম একুশে। ইতিহাস পূর্বকাল থেকে যে মানবগোষ্ঠী বেড়ে উঠেছে এই গাঙেয় অববাহিকায়- সেই মানবগোষ্ঠীর আচার-আচরণ ও জীবনযাত্রার অভিব্যক্তির নাম- বাঙালিয়ানা।এই বাঙালিয়ানাই তাকে তার জাতিসত্তার পরিচয় দিয়েছে। আর তার মূলে আছে তার ভাষিক অভিব্যক্তি, তার মাতৃভাষা বাংলা। এই বাংলারই রূপবদল ঘটেছে ইতিহাস পূর্বকাল থেকে। বায়ান্ন সালে এসে তার যৌক্তিক ও আধুনিকতাময় প্রতিকৃতি দেখা যায়।সেই প্রতিকৃতি শুধু ভাষার নয়, স্বাধীন সার্বভৌম বাঙালি জাতির। তাই একুশ আমাদের ইতিহাসের উৎস, আমাদের বিবর্তন এবং আমাদের যাত্রাপথের বাঁকে বাঁকে সমূহ সংকটের সম্ভাব্য সমাধানের নাম ‘একুশের চেতনা’।স্বাধীন সার্বভৌম বাঙালি তাই পরিণত হয়েছে সদাচারী ও গণতান্ত্রিক এক বাঙালি সমাজে। এখন তার প্রয়োজন স্বেচ্ছাপ্রসূত শৃঙ্খলায় ও সদাচারে। যার উৎস উপনিষদসহ সব ধর্ম ও দর্শনের ভিত্তিতে। একুশ নবপর্যায়ে বাঙালিকে সদাচারী, প্রযুক্ত গণতন্ত্রী, মানবতন্ত্রী ও বৈশ্বিক মানুষে পরিণত করবে- এই আমাদের ভবিষ্যৎ।একবিংশ শতাব্দীতে এসে বাংলাদেশ তার ভাষিক অগ্রযাত্রার পাশাপাশি স্বাধীনতা, বিশেষত অর্থনৈতিক স্বাধীনতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেতে শুরু করেছে। আমরা লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি দ্রুততম সময়ে বাংলাদেশকে একটি পরিপূর্ণ উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার।এই চেতনা একুশের অগ্রযাত্রার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। আমরা আমাদের রাজনৈতিক অগ্রযাত্রায় একুশের মাঙ্গলিক গণমুখী সাম্যমুখী চেতনাকে বিকশিত করতে পারি। আমাদের বর্তমান অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার মূলে রয়েছে আমাদের গণউৎস থেকে আসা শ্রমশক্তি। যা দেশের ভেতরে ও বাইরে সক্রিয় রয়েছে।একুশের চেতনা হচ্ছে ব্যক্তিপর্যায়ে প্রত্যেক বাঙালিকে কর্মমুখী সৃজনকর্মমুখী ও উদ্ভাবনমুখী করে তোলা আর এর ফল হিসেবে আমরা যে সম্পদ আহরণ করব তা বিশেষ গোষ্ঠী বা দলস্বার্থে ব্যবহার না করে জনগণের মধ্যে যথাসম্ভব সমহারে বণ্টন করার উদ্যোগ নেয়া। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার সেই দিকেই লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন।এর ফলে নবপর্যায়ে সরকারে অগ্রযাত্রার প্রাক-লগ্নে দুর্নীতি ও যাবতীয় অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযানের কথা বলেছেন সরকারপ্রধান। এটিও একুশের গণমুখী ও মাঙ্গলিক চেতনার সঙ্গে সম্পৃক্ত।বাঙালি প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে এই চেতনাকে ধারণ করে অগ্রসর হচ্ছে এবং একুশ শতকের মধ্যেই এই চেতনার বিকশিত রূপ দেখতে পারব যদি আমরা একুশমুখী ও একুশসূচি হয়ে থাকি। একুশের জয় হোক- একুশ শতকে বাঙালির পূর্ণ শুদ্ধ ও মুক্ত সত্তা পরিস্রুত হোক।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।





আপনার মতামত লিখুন :