১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | ১ আশ্বিন, ১৪২৬ | ১৬ মুহাররম, ১৪৪১


বাজারে বিষাক্ত শাকসব্জি : ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য

হারুনর রশিদ :
বাজারে ফলমূলসহ সব ধরনের খাদ্যে মেশানো হচ্ছে ফরমালিনসহ নানান রাসায়নিক পদার্থ। ফল পাকাতে ও ফলের পঁচন রোধে ব্যবহৃত হচ্ছে বিষাক্ত কেমিক্যাল। কৃষিজ ফসলের উৎপাদন বাড়াতে সরকার সারা দেশে ২৭টি প্রতিষ্টানকে হরমোন আমদানীর অনুমোদন দিয়েছে। তারা হরমোনের পরিবর্তে আনছে বিষ। সারা দেশের মতো কক্সবাজার শহরেও এমন কোন ফলমূল ও খাদ্যদ্রব্য নেই যেখানে ফরমালিন ও কীটনাশক নেই। কলা পাকাতে ব্যবহৃত হচ্ছে পোকা মারার ঔষধ। টমেটো ও ফুলকপিসহ শীতকালিন সব ধরনের সব্জিতে মিশানো হচ্ছে রাসায়নিক পদার্থ। শুটঁকী মাছে দেওয়া হচ্ছে কীটনাশক।
সরেজমিন সংশ্লিষ্ট লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রকৃতি প্রদত্ত শাক-সব্জি, ফল-মূল, মাছ, মাংস, দুধ, চাল, চিড়া, বেকারী পণ্য, ফাস্ট ফুড, মুড়ি ও খেজুরসহ কোন খাবারই ফরমালিন ও বিষমুক্ত নয়। এসব বিষাক্ত খাদ্য দ্রব্যে ভরে গেছে বাজার। বাজারের এমন হালচালে স্বাস্থ্য ঝুঁকির আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য সচেতন লোকজন।
খরুলিয়া চরপাড়া এলাকার রশিদ নামের এক সব্জি চাষী জানান, ক্ষেতে খামারে শাক ও সব্জির পাতা মেলার পুর্বেই ক্ষেতে পোকা দমনে ছিটানো হয় কীটনাশক। পোকা মাকড় দমনে শাকসব্জি কাটা পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে বলে জানান তিনি। মাছ ব্যবসায় জড়িত নাম প্রকাশে অনিশ্চুক এক আড়ৎদার জানান, মাছের পঁচন রোধে ফরমালিন মেশানো হয়। ওজন বাড়াতে মাছ চাষীরা অনেক মাছে হরমোনের ইনজেকশন দেন। সেসব মাছ বেশীর ভাগই জীবিত অবস্থায় বিক্রি হয়। আবার অনেকে বরফ না গলার জন্য বরফে ফরমালিন মিশিয়ে থাকেন। টেকনাফ এলাকার জমির নামের এক গরু ব্যবসায়ী জানান, গরু ও হাসিকে হরমোন ইনজেকশন দিয়ে দ্রুত বর্ধনশীল করা হয়। জবাইয়ের আগে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আর একটি কেমিক্যাল দেওয়া হয়। ওই সময়ের মধ্যে জবাই না করলে পশু মরে যাবে। জেলার সদর উপজেলার একটি দুগ্ধ খামারে কর্মরত শ্রম্কি আজিজ জানান, তার খামারে রয়েছে ২০/২৫টি গাভী। প্রতিদিন গাভীকে ইউরিয়া সার মিশিয়ে ঘাস খাওয়ানো হয়। এতে যে গরু ৭ কেজি দুধ দেয়, সেই গরু ঘাস খাওয়ার পর দুধ দেয় ১৩ কেজির অধিক। তাতে দুধ পাতলা হয়ে যায়। আবার এসব দুধে মেশানো হয় ফরমালিন। নাজিরারটেক এলাকার আমান নামের এক শুটকীঁ ব্যবসায়ী জানালেন, পোকা প্রতিরোধে শুটকীঁ মাছে ছিঁটানো হচ্ছে বিষ মিশ্রিত পানি। শুটকী মাছে বিষ না দিলে মাছে পোকা আক্রমন করবে। সূত্র জানায়, চাল, চিড়া ও মুড়িতে ইউরিয়া সারসহ নানা রকম বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ মেশানো হচ্ছে। বিস্কুট ও চকলেটে ইউরিয়া ও মেলামাইন ব্যবহার করা হয়। এসব না মেশালে টেম্পার থাকেনা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ছোলার মধ্যেও মেশানো হচ্ছে কীটনাশক। যেন পোকা আক্রমন না করে। বিদেশ থেকে আসা খেজুরেও মিশানো হচ্ছে ফরমালিন। এছাড়া শুটকির মধ্যেও আছে ভয়াবহ সবিক্রন নামক কীটনাশক। শহরের বাজারঘাটা এলাকার ফলের দোকানগুলিতে প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে ফরমালিন মিশ্রিত ফল।
সরেজমিন দেখা করা যায়, শহরের বাজারঘাটা এলাকার একটি ফলের দোকানের সামনে একটি রুমে রয়েছে ড্রামভর্তি পানি। ওই পানিতে মিশানো হচ্ছে এক ধরনের পাউডার । ওই পানিতে চুবানো হচ্ছে আপেল, কমলা, মোচাম্বি ও অঙ্গুর। ওই পাউডার মিশ্রিত পানিতে না চুবালে ফল পচেঁ যাবে। শহরের সব দোকানীরা পঁচনরোধে এভাবে ফরমালিন মিশিয়ে ফল সংরক্ষণ করছে।
স্বাস্থ্য বিশেষ্জ্ঞদের মতে, এসব কেমিক্যাল মেশানো খাবার খেলে পেট ফাঁপা, ক্ষুধা মন্দা, চর্মরোগ, জয়েন্টে ব্যাথা, লিভার সিরোসিস ও কিডনি রোগেসহ নানা জটিল ব্যাধিতে আক্রান্ত হতে পারে ভুক্তভোগী লোকজন। এমন কি অকালে যারা ক্যান্সার আক্রান্ত হচ্ছে তাদের বেশীরভাগই ফরমালিন বা কেমিক্যাল মেশানো খাবারই দায়ী। এতে শিশু স্বাস্থ্য চরম ঝুঁকির মূখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিষমুক্ত খাবার নিশ্চিত না করলে আগামী কয়েক বছরে শতকরা ৫০ জন লোক ক্যান্সারসহ নানা রকম দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হতে পারে বলে এমনই আশঙ্কা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও শহরের স্বাস্থ্য সচেতন লোকজনের।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।





আপনার মতামত লিখুন :

error: Content is protected !!