১৯ আগস্ট, ২০১৯ | ৪ ভাদ্র, ১৪২৬ | ১৭ জিলহজ্জ, ১৪৪০


বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে বাংলা

বাংলা জয় করে নিয়েছে গোটা বিশ্ব। বিশ্বের প্রায় প্রতিটি বড় শহরে দেখা মেলে বাংলার। বাংলা শিখছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গবেষক, কূটনীতিক, ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। বিশ্বজুড়ে এখন ২৬ কোটির বেশি মানুষ বাংলায় কথা বলে।বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, সিয়েরা লিওন, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের সরকারি ভাষা বাংলা। বাংলার চর্চা ও গবেষণা হচ্ছে নানা দেশে। যুক্তরাষ্ট্রের একজন বহুভাষাবিদ শিক্ষক ড. ক্লিনটন শিলি বাংলা গবেষণায় নিবেদন করেছেন নিজেকে। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য শিখতে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিনিকেতনের ছাত্র হয়েছিলেন তিনি। পরে তিনি শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট লাভ করেন। তার বাংলা সাহিত্যপ্রেমের প্রগাঢ় নিদর্শন মেলে জীবনানন্দ দাশের কবিতা নিয়ে গবেষণা। তিনি বাংলা ভাষাকে ভালোবেসে, বাংলাদেশকে ভালোবেসে দীর্ঘ ১০ বছর বরিশালে বসবাস করে অবশেষে জীবনানন্দ দাশের ওপর একটি গবেষণামূলক গ্রন্থ লেখেন।শুধু ড. ক্লিনটন শিলি নন, বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন বহু অধ্যাপক, ভাষা গবেষক বাংলাকে নিয়ে গেছেন অন্য উচ্চতায়। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষার চর্চা হচ্ছে। নিউইয়র্কে মারিয়া হেলেন বেরো কাজ করেন নজরুল সাহিত্য নিয়ে। লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে বাংলার চর্চা ও গবেষণা। সেখানে বাংলা ভাষা গবেষণায় আলোচিত নাম অধ্যাপক অদিতি লাহিড়ি। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপক বাংলা রূপতত্ত্ব ও ধ্বনিতত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করছেন। কানাডায় জোসেফ, কনেলসহ প্রবাসী আরও কজন শিক্ষক বাংলায় অধ্যাপনা ও গবেষণা করেন। বাংলা থেকে পোলিশ ভাষায় রবীন্দ্রনাথ ও বিভূতিভূষণ অনুবাদ করছেন পোল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক এলভিয়েতা। জাপানের টোকিও ইউনিভার্সিটি অব ফরেন স্টাডিজে বাংলা ভাষা শেখানো হয়। জাপানি শিক্ষার্থীরা সেখানে বাংলা ভাষা শেখা ও চর্চার সুযোগ পাচ্ছেন। চীনে রেডিও বেইজিংয়ে বাংলায় সম্প্রচার হয়। ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, বেলজিয়াম, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, জাপান, চীন, কোরিয়া, মালয়েশিয়াসহ ইউরোপের অনেক দেশেই বাংলা চর্চা ও গবেষণা হয়।বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া বাংলাভাষী মানুষের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের সম্পর্কে জড়িয়ে ভিনদেশিরাও বাংলা শিখছেন। ১৯১৩ সালে সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেল জয় বাংলা ভাষার বিশ্বপরিচয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিল। বাংলা ভাষার আন্তর্জাতিক ব্যাপ্তি লাভ হয় ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো কর্তৃক ২১ ফেব্রুয়ারি দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার মধ্য দিয়ে। বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় কাজে আসা কূটনীতিকরাও বাংলা ভাষায় শর্ট কোর্স করে নেন। বাংলা সাহিত্যচর্চা, পড়াশোনার কাজে তো বটেই, বাংলাদেশের বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানিতে কাজ করতে আসা কর্মকর্তারাও বাংলা শিখে নেন। আন্তর্জাতিক এনজিওগুলোর প্রতিনিধি ও কর্মকর্তারাও সুষ্ঠুভাবে কাজ পরিচালনা করতে গুরুত্ব নিয়েই বাংলা শেখেন। গার্মেন্ট, সিরামিক, আইটি ইত্যাদি খাতে বহু বিদেশি ব্যবসায়ী বাংলাদেশে আসার আগেই বাংলা আয়ত্তে নিয়ে আসেন। কর্মজীবনের প্রয়োজনে তারা বাংলা শিখলেও কেউ কেউ শুধু ভালোবাসার টানে বাংলা ভাষা শিখছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে জাপান, চীন, কোরিয়া, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, রোমানিয়া, হাঙ্গেরি, থাইল্যান্ড, নেপালসহ বেশ কয়েকটি দেশের শিক্ষার্থী বাংলা শিখতে আসেন। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান লার্ন বাংলা থেকে গত আট বছরে প্রায় ৪৫টি দেশ থেকে বাংলাদেশে আসা প্রায় ১ হাজার ভিনদেশি নাগরিক বাংলা ভাষা শিখেছেন।বাংলা এখন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ছোট-বড় শহরের প্রধান ভাষায় পরিণত হয়েছে। লন্ডন শহরের বাংলাটাউন বলে খ্যাত ব্রিকলেন, ওলন্ডহ্যাম, বার্মিংহাম, আমেরিকার নিউইয়র্কের ব্র“কলিনে কান পাতলেই শোনা যায় বাংলা ভাষা, চোখ মেললেই দেখা যায় বাংলা লেখা। একই রকম এলাকা আছে কানাডার টরন্টো, সৌদি আরবের জেদ্দা শহরের মুসনা, গুলিল, পবিত্র মক্কা-মদিনা, দুবাই, বাহরাইন, ওমান, কাতার, ইতালির রোম, স্পেনের মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, জার্মানির বার্লিন, গ্রিসের এথেন্স, জাপানের টোকিও, দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন, জোহানেসবার্গ, সিঙ্গাপুরসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে। বাঙালি অধ্যুষিত এসব শহরের বিভিন্ন স্থানে বাংলায় সাইনবোর্ড ঝোলানো আছে চারপাশে। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানের নামে এসব দোকানপাটের নাম রাখা হয়েছে। তৈরি হয়েছে ভাষাশহীদদের স্মরণে শহীদ মিনারও।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।





আপনার মতামত লিখুন :