২১ অক্টোবর, ২০১৯ | ৫ কার্তিক, ১৪২৬ | ২১ সফর, ১৪৪১


বিবিএন শিরোনাম

বিশ্ব পর্যটন দিবস আজ

‘ভবিষ্যতের উন্নয়নে, কাজের সুযোগ পর্যটনে’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ (২৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে উদযাপন করা হবে বিশ্ব পর্যটন দিবস। এ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়সহ বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা।
বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সুপরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের পর্যটন শিল্পের উন্নতির শিখরে পৌঁছানো সম্ভব বলে মনে করেন রাষ্ট্রপতি। পর্যটন শিল্পে অধিকতর কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
বিগত বছরগুলোতে শুধু ঢাকায় বিভিন্ন অনুষ্ঠান করলেও এবার দেশজুড়ে কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ নিয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। তাদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড (বিটিবি) ও বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। পর্যটন নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো সারাদেশের প্রতিটি জেলায় অনুষ্ঠান হবে। প্রতিটি জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে থাকবে শোভাযাত্রা ও আলোচনা।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের পৃষ্ঠপোষকতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ট্যুরিস্ট সোসাইটি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ট্যুরিজম স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠান করবে। দেশের বিভিন্ন হোটেল-মোটেলে থাকবে আলোকসজ্জা ও বিশেষ ছাড়।

বিশ্ব পর্যটন দিবসের কর্মসূচি
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ও বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের আয়োজনে ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে রয়েছে সাইকেল শোভাযাত্রা। এটি মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে শুরু হয়ে ফার্মগেট-কাওরান বাজার-হাতিরঝিল-মগবাজার হয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এসে শেষ হবে।

শুক্রবার সকাল ১০টায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ও পর্যটন করপোরেশনের আয়োজনে বিশ্ব পর্যটন দিবসের ওপর আলোচনা সভা হবে।

পর্যটন বিচিত্রার আয়োজনে বৃহস্পতিবার থেকে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার পুষ্পগুচ্ছে শুরু হয়েছে এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার। শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এই মেলা। এতে ভ্রমণপিপাসুদের জন্য বিভিন্ন রুটের টিকিটে ১০ শতাংশ ছাড় দিচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও ঢাকা হোটেল বৃহস্পতিবার থেকে শুরু করেছে বাংলাদেশি খাবারের উৎসব। পর্যটন মেলা করছে মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন।
রাষ্ট্রপতির বাণী

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, ‘সুপরিকল্পনা, দক্ষ সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্তকরণের মাধ্যমে দেশের পর্যটন শিল্প উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে সক্ষম হবে।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০১৯’ উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হবে জেনে সন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি।

এ বছর বিশ্ব পর্যটন দিবসের প্রতিপাদ্য ‘ভবিষ্যতের উন্নয়নে কাজের সুযোগ পর্যটনে’। পর্যটন একটি শ্রমঘন শিল্প যা এবারের পর্যটন দিবসের প্রতিপাদ্যে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেছেন, ‘বিশ্ব অর্থনীতিতে ক্রমবর্ধিষ্ণু সেবা খাতগুলোর মধ্যে পর্যটন অন্যতম। কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ জাতীয় অর্থনীতিতে পর্যটনের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। পর্যটন শিল্পের কাঙিক্ষত উন্নয়নের মাধ্যমে বিপুল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব।’

রাষ্ট্রপতির ভাষ্য, ‘পর্যটন মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। বিভিন্ন স্থান পরিভ্রমণের মাধ্যমে সামাজিক মিথস্ক্রিয়ায় ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি, সভ্যতা, ঐতিহ্য ও জীবনবোধ সমৃদ্ধ হয়। বাংলাদেশ পর্যটনের অফুরান সম্ভাবনার একটি দেশ। অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি রয়েছে সমৃদ্ধ ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। আমাদের আছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত, সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট, পুরাকীর্তিসহ অসংখ্য পর্যটন আকর্ষণ।’

মো. আবদুল হামিদের বিশ্বাস, বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য হয়ে ওঠার সব উপাদান রয়েছে বাংলাদেশের। তিনি আশ্বাস দেন, দেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশ ও উন্নয়নে বর্তমান সরকার সব ধরনের সহায়তা প্রদান করছে।

পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জেলা ও সুন্দরবনের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি তা এ অঞ্চলের পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত করবে বলে মনে করেন রাষ্ট্রপতি।

প্রধানমন্ত্রীর বাণী
বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘পর্যটন শিল্পে অধিকতর কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সংশ্লিষ্ট সেবা খাতগুলোতে দক্ষ জনবল তৈরির মাধ্যমে দেশের সার্বিক উন্নয়নে অবদান রাখার মাধ্যমে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলবো।’

জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থা ঘোষিত বিশ্ব পর্যটন দিবস-২০১৯ বাংলাদেশে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপনের উদ্যোগকে স্বাগত জানান শেখ হাসিনা। তার কথায়, ‘বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে শ্রমঘন শিল্প হিসেবে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে পর্যটন শিল্প গুরুত্বপূর্ণ অবদানেরই বহিঃপ্রকাশ।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিযোগিতামূলক বৈশ্বিক অর্থনীতিতে টিকে থাকার ক্ষেত্রে পর্যটন শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এ শিল্পকে অর্থনীতির চালিকাশক্তিতে রূপান্তরের ক্ষেত্রে পর্যটন সংশ্লিষ্ট সেবা খাতগুলোতে দক্ষ জনশক্তি বৃদ্ধির বিকল্প নেই।’

প্রধানমন্ত্রী বাণীতে উল্লেখ করেছেন, পর্যটন শিল্পের সমন্বিত ও সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে পর্যটন আকর্ষণীয় এলাকাগুলোতে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে পর্যটকদের জন্য সুবিধাদি বৃদ্ধি এবং এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সচেতন করার ক্ষেত্রে কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে।’

যেভাবে পর্যটন দিবস ও এর লক্ষ্য
১৯৭০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের পর্যটন শাখার বার্ষিক সম্মেলনের নাম, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য পুনর্মূল্যায়ন করা হয়। তখন থেকে এর নাম ‘বিশ্ব পর্যটন সংস্থা’ (ইউএনডব্লিউটিও) করার বিষয়ে সদস্যরা একমত হয়। নতুন নামে ১৯৭৪ সাল থেকে কার্যক্রম শুরু করে সংস্থাটি।

১৯৮০ সাল থেকে প্রতিবছর ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস উদযাপিত হচ্ছে। এর লক্ষ্য পর্যটনের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পর্যটনের অবদান সম্পর্কে অবহিত করা।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।





আপনার মতামত লিখুন :