১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | ৪ আশ্বিন, ১৪২৬ | ১৯ মুহাররম, ১৪৪১


বিবিএন শিরোনাম
  ●  ৯ থেকে ৩০ অক্টোবর উপকূলে মাছ ধরা নিষিদ্ধ   ●  রোহিঙ্গাদের পাসপোর্টে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী   ●  জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ   ●  টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই রোহিঙ্গাসহ নিহত ৩   ●  টেকনাফে জন্ম নিবন্ধন সনদ জালিয়াতির অভিযোগে উদ্যোক্তা সহ আটক ২   ●  পেকুয়ায় ভাড়া বাসা থেকে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার   ●  চকরিয়ায় বন্ধুর ছোটবোনকে ধর্ষণ, যুবক গ্রেফতার   ●  ৩৬ ঘন্টায় বিশ্বজুড়ে ছড়াতে পারে ফ্লু, মারা যেতে পারে ৮ কোটি মানুষ   ●  ঈদগাঁওতে সড়ক ও জনপথ বিভাগের শত কোটি টাকার জমি দখল করে স্থাপনা   ●  টেকনাফে ২১০ টি মিয়ানমারের সীমকার্ড সহ ৩ রোহিঙ্গা আটক

যে সব কারণে গোসল ফরজ হয়

ফরজ গোসল ইসলামী জীবন বিধানের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কারো ওপর গোসল ফরজ হলে সঠিক পদ্ধতিতে গোসল আদায় না করা পর্যন্ত ওই ব্যক্তি নাপাক থাকে। আর নাপাক অবস্থায় নামাজ পড়লে সওয়াবতো হবেই না বরং কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। নামাজ ছাড়াও অনেক ইবাদত রয়েছে যেগুলো নাপাক অবস্থায় শুদ্ধ হয় না। ইসলামের বহু আমল সঠিকভাবে সম্পাদন করার জন্য শারীরিক পবিত্রতা অপরিহার্য।

মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘তোমরা যদি নাপাক (জানাবাত) অবস্থায় থাকো, তবে নিজেদের দেহ (গোসলের মাধ্যমে) ভালোভাবে পবিত্র করে নাও।’ (সুরা মায়েদা ৬)

পবিত্র কোরআনে অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা যাঁরা অধিক পবিত্রতা অর্জন করেন, তাদের প্রশংসা করেছেন।

যে সব কারণে গোসল ফরজ হয়:

এক. জাগ্রত বা ঘুমন্ত অবস্থায় উত্তেজনার সঙ্গে বীর্যপাত হওয়া। ঘুমন্ত অবস্থায় উত্তেজনা অনুভব না হলেও গোসল ফরজ। কেননা ঘুমন্ত অবস্থায় স্বপ্নদোষ হলে মানুষ অনেক সময় টের পায় না। তাই কোনো ব্যক্তি ঘুম থেকে ওঠার পর যদি তার কাপড়ে নাপাকির চিহ্ন দেখে, তাহলে তার স্বপ্নদোষ বা বীর্যপাতের কথা স্মরণ থাকুক বা না থাকুক, সর্বাবস্থায় গোসল ফরজ হবে। (হেদায়া ১/৪৫, আন নুতাফ ফিল ফাতাওয়া পৃ. ২৯)

দুই. স্ত্রী সহবাস করা। সহবাসের ক্ষেত্রে স্ত্রীর যৌনাঙ্গে পুরুষাঙ্গের সর্বনিম্ন সুপারি পরিমাণ অংশ প্রবেশ করালেই উভয়ের ওপর গোসল ফরজ হয়ে যাবে, চাই বীর্যপাত হোক বা না হোক। (বুখারি, হা. ২৯১, মুসলিম, হা. ৩৪৩)

তিন. নারীদের ঋতুস্রাব বা নেফাস (সন্তান প্রসবোত্তর স্রাব) বন্ধ হওয়ার পরও গোসল ফরজ। (রদ্দুল মুহতার ১/১৬৫)

ফরজ গোসলের সঠিক নিয়ম:

১. গোসলের জন্য মনে মনে নিয়্যাত করতে হবে। বাড়তি মুখে কোন আরবি শব্দ উচ্চারণ করে নিয়্যাত করা বিদ’আত।

২. প্রথমে দুই হাত কব্জি পর্যন্ত ৩ বার ধুতে হবে।

৩. এরপর ডানহাতে পানি নিয়ে বামহাত দিয়ে লজ্জাস্থান এবং তার আশপাশ ভালো করে ধুতে হবে। শরীরের অন্য কোন জায়গায় বীর্য বা নাপাকি লেগে থাকলে সেটাও ধুতে হবে।

৪. এবার বামহাতকে ভালো করে ধুইয়ে পেলতে হবে।

৫. এবার ওজুর নিয়মের মত করে ওজু করতে হবে তবে দুই পা ধুয়া যাবে না।

৬. ওজু শেষে মাথায় তিনবার পানি ঢালতে হবে

৭. এবার সমস্ত শরীর ধোয়ার জন্য প্রথমে ৩ বার ডানে তারপরে ৩ বার বামে পানি ঢেলে ভালোভাবে ধুতে হবে, যেন শরীরের কোন অংশই বা কোন লোমও শুকনো না থাকে। নাভি, বগল ও অন্যান্য কুঁচকানো জায়গায় পানি দিয়ে ধুতে হবে।

৮. সবার শেষে একটু অন্য জায়গায় সরে গিয়ে দুই পা ৩ বার ভালোভাবে ধুতে হবে।

মনে রাখতে হবে:

১. পুরুষের দাড়ি ও মাথার চুল এবং মহিলাদের চুল ভালোভাবে ভিজতে হবে।

২. এই নিয়মে গোসলের পর নতুন করে আর ওজুর দরকার নাই, যদি ওজু না ভাঙ্গে।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।





আপনার মতামত লিখুন :