১৪ অক্টোবর, ২০১৯ | ২৯ আশ্বিন, ১৪২৬ | ১৪ সফর, ১৪৪১


বিবিএন শিরোনাম
  ●  র‌্যাবের সঙ্গে গোলাগুলিতে যুবলীগ নেতা নিহত   ●  নাইক্ষ্যংছড়ির তিন ইউপির ভোট আজ : বহিরাগত ঠেকাতে বারটি তল্লাশিচৌকি   ●  কক্সবাজারে শতাধিক বৌদ্ধ বিহারে প্রবারণা উৎসব শুরু   ●  আলীকদমে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত ২, আহত ১৩   ●  মহেশখালীতে জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্টিত   ●  আঘাত হেনেছে প্রলয়ঙ্করী টাইফুন, নিহত ১১   ●  রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ করবে সেনাবাহিনী- কক্সবাজারের সেনাপ্রধান   ●  যুবলীগের প্রত্যেককে ভালো মানুষ ও ভালো নেতা-কর্মী হতে হবে : সোহেল আহমদ বাহাদুর   ●  রোহিঙ্গাদের যারা ভোটার করবে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে : অতিরিক্ত সচিব   ●  যুক্তরাষ্ট্রের ব্রুকলিনে বন্দুক হামলা, নিহত ৪

লামায় ভূমি দস্যু ইসলাম এর বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের অভিযোগ  

বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়ন এর ভূমি দস্যু মোঃ ইসলাম এর বিরুদ্ধে এক অসহায় নারীকে জুলুম-নির্যাতন , মিথ্যা মামলাসহ নানাভাবে হয়রানির করার জন্য মমতাজ বেগম বাদী হয়ে বান্দরবান জেলাস্থ লামায় বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেষ্ট আদালতে সি আর মামলা নং-২০৬/১৯ অভিযোগ দায়ের করলে বিজ্ঞ আদালত সন্তুষ্ট হয়ে FIR হিসেবে গণ্য করার জন্য লামা থানাকে নির্দেশ দেন। যাহার লামা থানার জি আর মামলা নং-৮২,তাং -০৩.০৯.১৯ ইং, করেছেন ভোক্তভোগী নারী মমতাজ বেগম (৩৫)। অভিযোগকারী লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের (৬ নং ওয়ার্ড) এর বটতলী পাড়ার বাসিন্দা তবু মিয়ার স্ত্রী।
 এ সময় অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযোগযুক্ত একই এলাকার বাসিন্দা সরই ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত খলিলুর রহমানের পুত্র মোঃ ইসলাম (৪৮) এর বিরুদ্ধে জোর পূর্বক ভূমি দখল, জোরপূর্বক স্বল্প মূল্যে জমি ক্রয়,যৌন নির্যাতন, মিথ্যা মামলা সহ নানা ভাবে হয়রানি করে চলেছেন।  কেউ এর প্রতিবাদ করলে মামলা দিয়ে তাকে হয়রানি করছেন।  ৯ বছরের শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ-বৃদ্ধাসহ নিরহ ব্যক্তিরাও তার মিথ্যা মামলা অভিযোগ থেকে রক্ষা পাননি।  এসব জুলুম নির্যাতনের প্রতিকার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন অসহায় নারী মমতাজ বেগম এর পরিবার।
আরো লামা সরই ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা অন্যান্য অভিযুক্তরা হলঃ ১. মৃত খলিলুর রহমানের ছেলে ফরিদুল আলম (৩৮) ও ২. মোঃ ইসলাম (৪৮), ৩. বদি আলমের ছেলে মোঃ রুবেল (২২) ৪.আমির হামজার ছেলে নুরুছফা (৩৫) ৫.বাদশা মিয়ার ছেলে মফিজ উদ্দীন(৩০) ৬. নুরুল আলমের ছেলে জামাল উদ্দীন(৪৫) ৭.বদি আলমের স্ত্রী নুরু সাফা বেগম (৪০). ৮.মোঃ মুছার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (২৫)।
অভিযোগসূত্র ও সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে মমতাজ বেগম এর পরিবার নিয়ে বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের ৩০৩ ডলুছড়ি মৌজায় আর/২৭৩ নং হোল্ডিং এর ৩.৭০ (তিন একর সত্তর শতক) একর  ২য় ও ৩য় শ্রেনীর জায়গা খতিয়ান মূলে ৩৯১/১৯ নং ক্রয় সূত্রে মালিক হন। ভোগ দখলে নিয়োজিত থাকা অবস্থায় উক্ত জায়গায় বাড়ি-ঘর নির্মাণ, একাশি,জাম ও ম্যালেরিয়া গাছের বাগান সৃজন,মাছের প্রজেক্ট ও পানের বরজ সৃজন করিয়া সু-দীর্ঘকাল ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে ভোগ দখলে নিয়োজিত রয়েছেন।
এক্ষেত্রে উক্ত জায়গার দাম বর্তমানে বহুগুন বেড়ে যাওয়ায়, মাছের প্রজেক্ট ও পানের বরজের প্রতি লোভের বশবর্তী হইয়া অভিযুক্ত মোঃ ইসলাম গং-বার বার জোর পূর্বক দখলে নেওয়ার পায়তারা করছে। তারই ধারাবাহিকতায় বিগত ২৫/০৫/২০১৮ ইং, তারিখে সন্ধ্যা অনুমান ৬ টা ৩০ ঘটিকায় আসামীগণ উক্ত জায়গা-জমি জোর-পূর্বক দখলে নেওয়ার চেষ্টা করিলে আমি প্রতিবাদ করিলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের হাতে থাকা দা দিয়ে আমার পেটে ও মাথার মধ্যখানে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করতঃ হত্যার চেষ্টা করে এবং পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কর্তৃক বিচার -আচারের মাধ্যমে আমাকে- ৬৭০০/ (ছয় হাজার সাতশত টাকা) জরিমানা করেন।
আবার বিগত ২৮/০৬/২০১৯ ইং, তারিখ সকাল ৯ টায় আমার বসতবাড়ির সীমানায় তারাসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৭/৮ জন মহেশখালী থেকে  ভাড়া করা সন্ত্রাসী মাধ্যমে তাদের হাতে থাকা লম্বা দা,কিরিচ,কোদাল,রশি ও লাঠিসোটা ইত্যাদি দেশীয় আস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হইয়া আমার নামীয় ও ভোগদখলীয় জায়গায় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে একই উদ্দেশ্যে চরিতার্থ সাধনকল্পে লোকবলসহ আমার জায়গায় অনধিকারে প্রবেশ করিয়া জোরপূর্বক দখলে নেওয়ার চেষ্টা করিলে আমি প্রতিবাদ করিলে আসামী রুবেল আমার মাথার চুলের মুঠি ধরে পিটে কিল ও ঘুষি মারিতে থাকে  এবং নুরু সাফা বেগম তাহার হাতে থাকা লাঠি দিয়ে প্রাণে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করিলে আমি মারাত্মক শারীরিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হই।
এতে অন্য আসামী জামাল উদ্দীন আমার পরিহিত কাপড় -চোপট টানিয়া ছিড়ে ফেলিয়া বিবস্ত করতঃ গলায় থাকা ৮ (আট) আনা ওজনের দুইটি স্বর্ণের কানের দুল, যাহার বাজার মূল্য ২০,০০০/ (বিশ হাজার টাকা) এবং আমার তোমরে বেধে সংরক্ষণে থাকা নগদ ৭০,০০০/ ( সত্তর হাজার টাকা) তারা জোর পূর্বক ছিনিয়ে নেয়। আমাকে রশি দিয়ে হাত মোড়া বাধিয়া ফেলিলে হত্যার চেষ্টা করিলে আমি চিৎকার দেওয়ায় আমার বড় ছেলে ভিকটিম আবুল কাসেম আসিয়া আমাকে তাদের কবল থেকে উদ্ধারে চেষ্টা করিলে আসামী ফরিদুল আলম তাহার হাতে থাকা লম্বা কিরিচ দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় কোপ মারিলে উক্ত কোপ আমার অরেক ছেলে বাম হাত দিয়ে প্রতিহত করিলে হাতে অঙ্গুল রিং ফিঙ্গার কাটিয়া বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে উক্ত ঘটনায় স্থানীয় লোকজন এসে আমাদের গুরুতর আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা করান। এক্ষেত্রে কোন রকমে সুস্থ হয়ে আমরা বেচেঁ আছি। শরীরে এখনেও আঘাতের চিহ্ন বয়ে রয়েছে।
ভোক্তভোগী মমতাজ বেগম জানান, আমার প্রতিপক্ষ ইসলাম গং- সমাজের উৎশৃঙ্খল,  জুলুমবাজ,দাঙ্গাহাঙ্গামাবাজ, অত্যাচার, নির্যাতনকারী, জায়গা-জমি জবর দখলকারী লোক হন। যার দরুন আমাকে সে প্রথমে প্রেমের প্রস্তাব,বিয়ে, কু – প্রস্তাব কোন কিছুতে রাজী করাতে না পেয়ে আমাদের জায়গা জমির দিকে লোভ করেন। আরো গত তিন বছর আগে আমাদের জায়গার প্রায় (২দুই) একর পাহাড়ি জমি জবর দখলে নিয়ে নেয়। এখন যে ভিটে -বাড়ির জায়গাসহ অন্যগুলো দখলে নেওয়ার পায়তারা করতেছে। আমাকেসহ ও নাবালক দুই ছেলেকে এক বছরের মধ্যে দুইবার খুব বেশি মারধর করে এবং  উল্টা আমাদের বিরুদ্ধে লামা ও বান্দরবান কোর্ডে দুইটি মিথ্যা নারী নির্যাতন মামলা করেন।
এছাড়াও তারা বলে উক্ত জায়গা থেকে ভিটেমাটিসহ ওঠে না গেলে আমাদেরকে প্রতিনিয়ত প্রাণে মরার হুমকি- দামকি প্রদর্শন করছে।
এক্ষেত্রে ছালেহা বেগম জানান, ঘটনাস্থলে আমি ছিলাম না।তবুও তারা ভিকটিমের আত্মীয় হওয়া আমাদেরকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হররানি করতেছে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ফরিদুল আলম বলেন, তাদের উভয় পক্ষের  জায়গা- জমি বিরোধ বিষয়ে পরিষদে কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেনি। তবে তারা উভয় পক্ষ জায়গা বিরোধ নিয়ে কোর্ডে মামলা করেছে বলে শুনেছি।  উক্ত মামলার (আইও) এএস আই খালেদ মোশারফ হোসেন জানান, আমরা অভিযুক্তদের ব্যাপারে গেপ্তারে চেষ্টায় আছি। লামা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অপ্পেলা রাজু নাহা জানান, উক্ত মামলার আসামীগণের বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।





আপনার মতামত লিখুন :